পুনর্গঠনে শেফার্ড, ফ্যাব্রিক উৎপাদনে যাওয়ার পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬ | 49 বার পঠিত | প্রিন্ট

পুনর্গঠনে শেফার্ড, ফ্যাব্রিক উৎপাদনে যাওয়ার পরিকল্পনা
Responsive Ad Banner

নিজস্ব প্রতিবেদক : পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি উৎপাদন কার্যক্রমে বড় ধরনের পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কোম্পানিটি দীর্ঘদিনের পুরোনো, অচল ও অলাভজনক যন্ত্রপাতি বিক্রির পাশাপাশি তাদের ওয়াশিং প্ল্যান্ট ইউনিটের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে এই ইউনিটটিকে ফ্যাব্রিক উৎপাদন কারখানায় রূপান্তরের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে। গত ৫ জুলাই ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

কোম্পানির প্রকাশিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (মেটেরিয়াল ইনফরমেশন) অনুযায়ী, পর্ষদ মোট ১৯২টি পুরোনো মূলধনী যন্ত্রপাতি বিক্রি বা নিষ্পত্তির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। দীর্ঘদিন ব্যবহারের কারণে এসব যন্ত্রপাতির উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে এবং পরিচালনায় গ্যাসের ব্যবহার অস্বাভাবিক মাত্রায় বেশি হওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেছে। ফলে এগুলো কোম্পানির জন্য অর্থনৈতিকভাবে আর লাভজনক ছিল না।

Responsive Ad Banner

শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ জানিয়েছে, যন্ত্রপাতিগুলোর উৎপাদন দক্ষতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও বহুগুণ বেড়েছে। এ কারণে এগুলো প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক উভয় দিক থেকেই অচল ও অলাভজনক হয়ে পড়েছে।

দীর্ঘমেয়াদে কার্যক্রমের দক্ষতা বাড়ানো, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কোম্পানিটি কম গ্যাস ব্যবহারকারী আধুনিক ও উচ্চপ্রযুক্তির নতুন যন্ত্রপাতি সংগ্রহের পরিকল্পনা নিয়েছে। পরিচালনা পর্ষদের ধারণা, পুরোনো যন্ত্রপাতি বিক্রি ও নতুন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ কোম্পানির পরিচালন ও আর্থিক স্বার্থের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

উন্মুক্ত দরপত্রে বিক্রি
স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং সর্বোচ্চ বাজারমূল্য পেতে একটি জাতীয় দৈনিকে উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দরপত্র আহ্বান করে কোম্পানি। প্রাপ্ত সব প্রস্তাব ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ মূল্যায়ন করার পর সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য প্রস্তাবটি পর্ষদের কাছে সুপারিশ করে। পর্ষদ সেই সুপারিশ অনুমোদন দিয়ে ২ কোটি ৮২ লাখ টাকায় ১৯২টি যন্ত্রপাতি বিক্রির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।

বিক্রি হওয়া যন্ত্রপাতির তালিকা
বিক্রির জন্য অনুমোদিত ১৯২টি যন্ত্রপাতির মধ্যে রয়েছে—

সিও২ থ্রিডি ডায়নামিক লেজার মেশিন – ১টি

ডেনিম লেজার এনগ্রেভিং সিস্টেম মেশিন – ১টি

জিন্স গ্রাইন্ডিং মেশিন – ২টি

ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়াশিং অ্যান্ড ডাইং মেশিন (বিভিন্ন মডেল) – ২৬টি

ইনভার্টার কন্ট্রোলড হাইড্রো এক্সট্র্যাক্টর মেশিন – ৬টি

এনার্জি এফিশিয়েন্ট ইন্ডাস্ট্রিয়াল ড্রায়ার মেশিন – ৩৫টি

ইন্ডাস্ট্রিয়াল ড্রায়ার – ২টি

সেন্ট্রিফিউগাল হাইড্রো এক্সট্র্যাক্টর – ২টি

গার্মেন্টস ডাইং মেশিন (দুই মডেল) – ২টি

ব্লো প্যান্টস মেশিন – ৪ সেট

বেঞ্চ গ্রাইন্ডার মেশিন – ২০টি

স্টেপল পিন অ্যাটাচার মেশিন – ২০টি

ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়াশিং মেশিন (বিভিন্ন মডেল) – ২৬টি

ইন্ডাস্ট্রিয়াল ড্রাইং মেশিন – ১০টি

ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাইড্রো এক্সট্র্যাক্টর মেশিন – ৪টি

হ্যান্ড ব্রাশিং মেশিন – ১৫টি

স্ক্রু এয়ার কম্প্রেসার – ২টি

ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওজোন স্টেরিলাইজিং মেশিন – ২টি

সব মিলিয়ে ১৯২টি যন্ত্রপাতি মোট ২ কোটি ৮২ লাখ টাকায় বিক্রি করা হবে।

ওয়াশিং প্ল্যান্ট বন্ধের সিদ্ধান্ত
কোম্পানি আরও জানিয়েছে, এসব যন্ত্রপাতি বিক্রির মাধ্যমে ওয়াশিং প্ল্যান্ট ইউনিটের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করা হচ্ছে। ব্যবস্থাপনার ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়াশিং প্ল্যান্ট পরিচালনার ক্ষেত্রে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ ক্রমাগত বেড়েছে এবং এই ইউনিট থেকে আয় আর অর্থনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে নেই। ফলে ইউনিটটি চালিয়ে যাওয়া লাভজনক নয়।

ফ্যাব্রিক উৎপাদনে যাওয়ার পরিকল্পনা
ওয়াশিং প্ল্যান্ট ইউনিট বন্ধ করলেও সেই স্থাপনাকে ভবিষ্যতে ফ্যাব্রিক উৎপাদন কারখানায় রূপান্তর করার পরিকল্পনা করছে শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ। তবে এ বিষয়ে পরিচালনা পর্ষদ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর বিস্তারিত তথ্য প্রাইস সেনসিটিভ ইনফরমেশন (পিএসআই) হিসেবে বিনিয়োগকারীদের জানানো হবে।

উল্লেখযোগ্য দিক
প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে—

কোম্পানি একসঙ্গে ১৯২টি মূলধনী যন্ত্রপাতি বিক্রি করছে, যা উৎপাদন কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

বিক্রির কারণ হিসেবে উৎপাদন সক্ষমতা কমে যাওয়া, অতিরিক্ত গ্যাস খরচ এবং উচ্চ রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ওয়াশিং প্ল্যান্ট ইউনিট সম্পূর্ণ বন্ধের সিদ্ধান্ত ব্যবসায়িক কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।

পুরোনো প্রযুক্তির পরিবর্তে কম গ্যাস ব্যবহারকারী আধুনিক প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ফ্যাব্রিক উৎপাদনে প্রবেশের পরিকল্পনা থাকলেও এ বিষয়ে এখনো পর্ষদের চূড়ান্ত অনুমোদন হয়নি; অনুমোদন পেলে তা পিএসআই আকারে প্রকাশ করা হবে।

Facebook Comments Box

Posted ৫:১৮ পিএম | সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

sharebazar24 |

মো. সাজিদ খান প্রধান সম্পাদক
মো. সিরাজুল ইসলাম সম্পাদক
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

৬০/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

হেল্প লাইনঃ 01742-768172

E-mail: sharebazar024@gmail.com