পরিচালন মুনাফা বাড়লেও ডিভিডেন্ড নেই, এমডির বিদেশ সফরে লাখ লাখ টাকা ব্যয়

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ | 14 বার পঠিত | প্রিন্ট

পরিচালন মুনাফা বাড়লেও ডিভিডেন্ড নেই, এমডির বিদেশ সফরে লাখ লাখ টাকা ব্যয়
Responsive Ad Banner

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত মার্কেন্টাইল ব্যাংক টানা দুই বছর শেয়ারহোল্ডারদের কোনো ডিভিডেন্ড দিতে পারেনি। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মতিউল হাসানের একাধিক বিদেশ সফর এবং এসব সফরে ব্যাংকের অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। ব্যাংকের লেনদেন বিবরণী অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাত, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য সফরে ৩৪ লাখ টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে। এ ছাড়া সিঙ্গাপুর সফরের পরিকল্পনা বাতিল হলেও ওই সফরের জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার ২১৩ টাকা ব্যয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। চারটি সম্পন্ন সফর ও বাতিল হওয়া সিঙ্গাপুর সফর মিলিয়ে মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩৫ লাখ ৯১ হাজার ২০২ টাকা।

ব্যাংকটির শেয়ারহোল্ডাররা ২০১৬ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর ১০ শতাংশ বা তার বেশি হারে ডিভিডেন্ড পেয়েছেন। এর মধ্যে ২০১৭ সালে ২২ শতাংশ ডিভিডেন্ড দিয়েছিল ব্যাংকটি। সর্বশেষ ২০২৩ সালেও ১০ শতাংশ ডিভিডেন্ড দেওয়া হয়। তবে এরপর পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে শেয়ারহোল্ডারদের কোনো ডিভিডেন্ড দিতে পারেনি ব্যাংকটি। এতে বিনিয়োগকারীরা টানা দুই বছর ডিভিডেন্ড থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এর মধ্যে ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীর বিদেশ সফরের ব্যয় নিয়েও ব্যাংকের ভেতরে-বাইরে আলোচনা চলছে।

Responsive Ad Banner

ব্যাংকের আর্থিক ফলাফলে দেখা যায়, ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে প্রভিশন সংরক্ষণের আগে পরিচালন মুনাফা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২৩ সালে এ মুনাফা ছিল ৫০৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। ২০২৪ সালে তা বেড়ে ৫২৭ কোটি ২২ লাখ টাকা এবং ২০২৫ সালে ৫৪৫ কোটি ৪০ লাখ টাকায় দাঁড়ায়। তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত দুই বছরে ব্যাংকটির নিট মুনাফা হয়নি। পরিচালন মুনাফা বাড়লেও নিট মুনাফা না হওয়া এবং ডিভিডেন্ড বন্ধ থাকার বিষয়গুলো ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

চার দেশে সফর, ব্যয় ৩৪ লাখ টাকার বেশি

আইএফআইসি ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা মতিউল হাসান ২০১৪ সালে মার্কেন্টাইল ব্যাংকে যোগ দেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ব্যাংকটির প্রধান ঝুঁকি কর্মকর্তা (সিআরও) ও অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের নভেম্বরে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। এরপর ২০২৫ সালের মে মাস থেকে তাঁর বিদেশ সফর শুরু হয়। ব্যাংকের নথিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য সফরের ব্যয়ের তথ্য রয়েছে। পাশাপাশি বাতিল হওয়া সিঙ্গাপুর সফরের জন্যও ব্যয়ের উল্লেখ পাওয়া গেছে।

ব্যাংকের লেনদেন বিবরণী অনুসারে, ২০২৫ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে মতিউল হাসানের পেছনে ব্যয় হয়েছে ৬ লাখ ১০ হাজার ৪৫০ টাকা। একই বছর অস্ট্রেলিয়া সফরে ব্যয় দেখানো হয়েছে ১১ লাখ ৬২ হাজার ৪৫৮ টাকা। এ দুই সফরে মোট ব্যয় হয়েছে ১৭ লাখ ৭২ হাজার ৯০৮ টাকা। চারটি সম্পন্ন সফরের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া সফরেই সবচেয়ে বেশি অর্থ খরচ হয়েছে।

চলতি বছরের থাইল্যান্ড সফরটি ছিল চিকিৎসার উদ্দেশ্যে। এ সফরে ব্যয় হয়েছে ৫ লাখ ৬৬ হাজার ৯১ টাকা। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যে নির্বাহী প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য ব্যয় দেখানো হয়েছে ১১ লাখ ১ হাজার ৯৯০ টাকা। থাইল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য সফর মিলিয়ে ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৬৮ হাজার ৮১ টাকা।

চারটি সম্পন্ন সফরের মোট ব্যয় ৩৪ লাখ ৪০ হাজার ৯৮৯ টাকা। এর সঙ্গে বাতিল হওয়া সিঙ্গাপুর সফরের ১ লাখ ৫০ হাজার ২১৩ টাকা যোগ করলে সর্বমোট ব্যয় দাঁড়ায় ৩৫ লাখ ৯১ হাজার ২০২ টাকা। অর্থাৎ এসব সফরে ব্যাংকের মোট ব্যয় প্রায় ৩৫ লাখ ৯১ হাজার টাকা।

যুক্তরাজ্য সফরে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি

ব্যাংকের অফিস আদেশে বলা হয়েছে, মতিউল হাসান ২০২৬ সালের ২৬ জুন থেকে ৪ জুলাই পর্যন্ত দেশের বাইরে থাকবেন। এ সময় সোনালী বাংলাদেশ লিমিটেডের আয়োজনে যুক্তরাজ্যে ‘এক্সিকিউটিভ ট্রেনিং প্রোগ্রামে’ অংশ নেওয়ার কথা ছিল তাঁর। সফরকালীন সময়ে তাঁর অনুপস্থিতিতে ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) ও প্রধান ঝুঁকি কর্মকর্তা (সিআরও) মো. জাকির হোসাইন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। অফিস আদেশ অনুযায়ী, ২৬ জুন থেকে ৪ জুলাই পর্যন্ত সফরের মেয়াদ ছিল মোট নয় দিন।

মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জ হাউজ (ইউকে) লিমিটেডের পর্ষদ সভার কার্যবিবরণীতেও মতিউল হাসানের যুক্তরাজ্য সফরের প্রসঙ্গ রয়েছে। সেখানে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এম আমানুল্লাহ, পরিচালক এ এস এম ফিরোজ আলম এবং পরিচালক ও মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিউল হাসানের সৌজন্য সফরের অনুমোদনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছিল, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন পাওয়ার পর সুবিধাজনক সময়ে সফরটি আয়োজন করা হবে। অর্থাৎ সফর বাস্তবায়নের জন্য ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সম্মতি প্রয়োজন ছিল।

ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে শেয়ারনিউজকে জানিয়েছেন, শেষ পর্যন্ত পরিচালনা পর্ষদ ওই সফরের প্রস্তাবে সম্মতি দেয়নি। এ কারণে সফরটির অনুমোদন ও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে সফরের প্রস্তাব, পর্ষদের সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের ধরন সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা পেতে ব্যাংকের মূল নথি ও অনুমোদনসংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করা প্রয়োজন।

ঋণ সুপারিশের নথিতেও মতিউল হাসানের স্বাক্ষর

মার্কেন্টাইল ব্যাংকের নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালে প্রধান ঝুঁকি কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মতিউল হাসান ক্রেডিট ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিভাগের দুটি ঋণ সুপারিশ মেমোতে স্বাক্ষর করেছিলেন। উভয় মেমোতেই নির্দিষ্ট মেয়াদে পরিশোধযোগ্য মেয়াদি ঋণ দেওয়ার সুপারিশ ছিল।

এর মধ্যে একটি প্রস্তাবে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বেতন ও বোনাস পরিশোধের জন্য ডিএসএল গ্রুপের চারটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ৪ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো ডেনিম প্রসেসিং প্ল্যান্ট, জেডএ সোয়েটার্স, জেডএ অ্যাপারেলস ও ওয়ে মার্ট অ্যাপারেলস।

অন্য ঋণ সুপারিশটি ছিল টিআরজেড গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রির জন্য ১০ কোটি টাকার মেয়াদি ঋণ। উভয় ঋণ প্রস্তাবের মেয়াদ ছিল ছয় মাস এবং সুদের হার ছিল ৯ শতাংশ।

নথিগুলোতে মতিউল হাসানের পাশাপাশি প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মুস্তাহিদুর রেজা চৌধুরী, আরএমজি মনিটরিং সেলের প্রধান কে এম আনোয়ারুল ইসলাম, ক্রেডিট ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান শামীম আহমেদ এবং তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম চৌধুরীর স্বাক্ষরও রয়েছে।

টিআরজেড গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রির ঋণ প্রস্তাবের মেমোতে আরএমজি মনিটরিং সেলের পর্যবেক্ষণ উল্লেখ করা হয়েছিল। সেখানে বলা হয়, গ্রাহকটির মেয়াদোত্তীর্ণ দায়ের পরিমাণ ১০০ কোটি টাকা এবং প্রতিষ্ঠানটিকে ঝুঁকিপূর্ণ গ্রাহক হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ২০২২ সালের ২৩ আগস্টের পরিদর্শন প্রতিবেদন অনুযায়ী, এফসি হিসাবে প্রতিষ্ঠানটির নিট ঘাটতি ছিল ৭৫ কোটি টাকা। নথিতে আরও বলা হয়েছে, প্রস্তাবটি ক্রেডিট কমিটির সামনে উপস্থাপন করা হয়েছিল এবং ক্রেডিট ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিভাগ ঋণটির সুপারিশ করেছিল।

তবে ঋণ সুপারিশের নথিতে স্বাক্ষর থাকলেই কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হয় না। ঋণ দুটি শেষ পর্যন্ত কী শর্তে অনুমোদন করা হয়েছিল, অর্থ নির্ধারিত কাজে ব্যবহার হয়েছিল কি না এবং পরবর্তী সময়ে ঋণ পরিশোধের অবস্থা কী ছিল, তা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঋণ নথি ও পরবর্তী কার্যক্রমের তথ্য প্রয়োজন।

বিদেশ সফর নিয়ে নিজের অবস্থান জানালেন এমডি

বিদেশ সফর, ব্যাংকের ব্যয় এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে বক্তব্য জানতে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিউল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যাংকের জনসংযোগ বিভাগের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। পরে জনসংযোগ বিভাগের মাধ্যমে পাঠানো লিখিত জবাবে তিনি প্রতিটি সফরের পেছনে ব্যবসায়িক, প্রশিক্ষণ কিংবা চিকিৎসাসংক্রান্ত কারণ তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, সফরগুলো ব্যাংকের প্রয়োজনেই করা হয়েছে; ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে কোনো সফর করা হয়নি।

সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর সম্পর্কে মতিউল হাসান জানান, মাশরেক ব্যাংকের আয়োজনে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যাংককে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। বাংলাদেশ থেকে শীর্ষ ১০ জন বৈদেশিক বাণিজ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ব্যাংকার এবং তৎকালীন গভর্নর আমন্ত্রিত ছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যাংকের ব্যবসায়িক সম্পর্ক উন্নয়নের স্বার্থে এ সফর প্রয়োজনীয় ছিল।

অস্ট্রেলিয়া সফরের বিষয়ে মতিউল হাসান বলেন, মেলবোর্ন চেম্বার অ্যান্ড কমার্সের রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার কারণে বাংলাদেশ থেকে ১০ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। মার্কেন্টাইল ব্যাংকের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি সেখানে পুরস্কার গ্রহণ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সফরটি ব্যাংকের প্রতিনিধিত্ব ও স্বীকৃতিসংক্রান্ত কার্যক্রমের অংশ ছিল।

যুক্তরাজ্য সফরের ব্যাখ্যায় তিনি জানান, সোনালী ব্যাংক ইউকে পিএলসি বাংলাদেশের ১০টি স্বনামধন্য ব্যাংকের নির্বাচিত ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে ব্যাংকিং বিষয়ে চার দিনব্যাপী ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। মার্কেন্টাইল ব্যাংকের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি ওই কর্মসূচিতে যোগ দেন বলে দাবি করেন।

থাইল্যান্ড সফর সম্পর্কে মতিউল হাসান বলেন, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অফিসে হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়ার পর তাঁকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কোনো রোগ শনাক্ত না হওয়ায় মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শে চিকিৎসার জন্য তিনি ব্যাংককে চার দিন অবস্থান করেন।

তাঁর ভাষ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, চিকিৎসকের সুপারিশ থাকলে প্রয়োজনে দেশের বাইরে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া হয়েছিল এবং ব্যাংকের নিয়ম অনুসারেই এ ব্যয় বহন করা হয়।

সফরগুলোকে প্রয়োজনীয় বলছেন এমডি

মতিউল হাসানের দাবি, তাঁর সব বিদেশ সফরই ব্যাংকের ব্যবসায়িক প্রয়োজনে হয়েছে এবং এসব কর্মসূচিতে অন্যান্য ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকেরাও অংশ নিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, কোনো সফরের পেছনে ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য ছিল না। পূর্ববর্তী ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের বিদেশ সফরের তথ্য যাচাই করা হলে তাঁর সফরের সংখ্যা ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে তুলনামূলক ধারণা পাওয়া যাবে বলেও তিনি মনে করেন।

তিনি আরও জানান, গত তিন মাসে ১০ থেকে ১২টি ব্যাংক যুক্তরাষ্ট্রের হাবিব আমেরিকান ব্যাংকের আমন্ত্রণে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে। তবে মার্কেন্টাইল ব্যাংক এসব কর্মসূচিতে অংশ নেয়নি। মতিউল হাসানের মতে, বিদেশি ব্যাংকগুলোর সঙ্গে ঋণ ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সফর গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের সামনে একদিকে টানা দুই বছর ডিভিডেন্ড দিতে না পারার বিষয়টি রয়েছে, অন্যদিকে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিদেশ সফরের ব্যয় এবং কয়েকটি ঋণ সুপারিশের নথি নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এমডি এসব সফরের পক্ষে ব্যবসায়িক, প্রশিক্ষণ ও ব্যক্তিগত চিকিৎসাসংক্রান্ত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। সফরগুলোর অনুমোদন, ব্যয়ের যৌক্তিকতা, ব্যাংকের নীতিমালা অনুসরণ এবং সংশ্লিষ্ট ঋণগুলোর পরবর্তী অবস্থা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে নথিভিত্তিক যাচাই প্রয়োজন।

Facebook Comments Box

Posted ২:২৩ পিএম | সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

sharebazar24 |

মো. সাজিদ খান প্রধান সম্পাদক
মো. সিরাজুল ইসলাম সম্পাদক
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

৬০/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

হেল্প লাইনঃ 01742-768172

E-mail: sharebazar024@gmail.com