নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬ | 0 বার পঠিত | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের আর্থিক খাতে আলোচিত ব্যক্তিদের একজন হিসেবে উঠে এসেছে Dr. Junaid Shafiq-এর নাম। চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও পরবর্তীতে ব্যাংকিং ও পুঁজিবাজার খাতে সম্পৃক্ত হয়ে নানা আর্থিক অনিয়ম ও বিতর্কে জড়ানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি Navana Pharmaceuticals Limited ২০২২ সালের শেষ দিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ওই সময় কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন ডা. জুনাইদ শফিক। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তিনি দেশত্যাগ করেন এবং পরবর্তীতে কোম্পানির সব ধরনের পদ থেকে সরে দাঁড়ান বলে জানা গেছে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির সময় বিভ্রান্তিকর আর্থিক তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে কোম্পানিটি তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। এ প্রক্রিয়ায় সে সময়ের Bangladesh Securities and Exchange Commission (বিএসইসি)-এর সাবেক চেয়ারম্যান Shibli Rubayat-Ul-Islam-এর সহযোগিতা ছিল বলে বিভিন্ন মহলে অভিযোগ ওঠে। তালিকাভুক্তির পর কোম্পানির মাধ্যমে পুঁজিবাজার ও ব্যাংক খাত থেকে ৫০০ কোটি টাকার বেশি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
আরও জানা যায়, ব্যাংকিং খাতেও তার প্রভাব ছিল। এক সময় তিনি United Commercial Bank PLC-এর পরিচালক ছিলেন। ওই ব্যাংক থেকে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগে Anti-Corruption Commission (দুদক)-এ দায়ের করা মামলায় তিনি চার্জশিটভুক্ত আসামি। একই মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী Saifuzzaman Chowdhury এবং তার স্ত্রী ও ইউসিবিএলের সাবেক চেয়ারম্যান Rukmila Zaman-এর নামও রয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকাকালে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক খাত থেকে ৫০০ কোটির বেশি টাকা উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। দেশত্যাগের সময় কোম্পানির নামে বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে প্রায় ৫৪০ কোটি টাকার ঋণ বকেয়া ছিল বলে জানা গেছে।
এছাড়া Japan-Bangladesh Friendship Hospital এবং Japan-Bangladesh Retirement Home-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন ডা. জুনাইদ। অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের প্রকল্পের বিপরীতে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ১২০ কোটির বেশি টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছিল, যার একটি অংশ বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে।
বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে এই চিকিৎসক উদ্যোক্তা। তদন্ত সূত্র বলছে, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম, অর্থ পাচার ও শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট অভিযোগের তদন্ত চলছে। ইতোমধ্যে অন্তত দুটি মামলায় আদালতে চার্জশিট দাখিল হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে। একই সঙ্গে তার ও তার পরিবারের সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে Bangladesh Financial Intelligence Unit (বিএফআইইউ)।
অন্যদিকে, ডা. জুনাইদ শফিকের অনুপস্থিতিতে নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালসের বর্তমান ব্যবস্থাপনা কোম্পানির কার্যক্রম পুনর্গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে। তথ্য অনুযায়ী, ৩০ জুন ২০২৫ সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটির বিক্রয় রাজস্ব দাঁড়িয়েছে ৮৮৪ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৪৯৩ টাকা, যা আগের বছরের ৬৮৯ কোটি ৮২ লাখ ১৮ হাজার ৮৫২ টাকার তুলনায় প্রায় ২৮ শতাংশ বেশি। একই সময়ে কোম্পানিটির নিট মুনাফা হয়েছে ৪৮ কোটি ৭৮ লাখ ১১ হাজার ৩৪৭ টাকা এবং শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ৪.৫৪ টাকা, যা আগের বছরের ৩.৭৭ টাকার তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি।
তথ্য অনুযায়ী, গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায়কৃত অর্থও বেড়েছে। সদ্য সমাপ্ত বছরে কোম্পানিটি গ্রাহকদের কাছ থেকে ৮৪৩ কোটি ৩৮ লাখ ২৯ হাজার ২৭৬ টাকা সংগ্রহ করেছে, যা আগের বছরের ৬৬৮ কোটি ৪৪ লাখ ৯০ হাজার ৯৪৮ টাকার তুলনায় প্রায় ২৬ শতাংশ বেশি।
এ বিষয়ে বিএসইসির মুখপাত্র Abul Kalam বলেন, ডা. জুনাইদ শফিকের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কমিশনে আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে এবং তা সত্য প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে বিনিয়োগকারীদের সংগঠন Bangladesh Capital Market Investors Unity Council-এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট Nurul Haque বলেন, সুবিধাবাদী কিছু ব্যক্তি রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন সময় আর্থিক খাতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে। এ ধরনের ব্যক্তিদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালসের পরিশোধিত মূলধন ১০৭ কোটি ৪১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এর মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে রয়েছে ৪২.২০ শতাংশ শেয়ার, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ২৭.৯৫ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ১০.২১ শতাংশ এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ১৯.৬৪ শতাংশ শেয়ার।
Posted ১২:৪১ অপরাহ্ণ | বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
sharebazar24 | sbazaradmin
.
.