নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ০১ জুলাই ২০২৫ | 199 বার পঠিত | প্রিন্ট
দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত আটটি শীর্ষস্থানীয় কোম্পানির অধিকাংশ শেয়ার রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে। এসব কোম্পানিতে উদ্যোক্তাদের দখলে রয়েছে ৮০ শতাংশ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত শেয়ার। ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশীদারিত্ব সীমিত হয়ে পড়েছে। ডিএসই ও আমার স্টক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, উদ্যোক্তাদের এমন নিয়ন্ত্রণ কোম্পানির শেয়ারের তারল্য ও বাজারচাহিদায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
১. বার্জার পেইন্টস: মোট শেয়ার রয়েছে ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮৮০টি এবং পরিশোধিত মূলধন ৪৬ কোটি ৩৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে রয়েছে সর্বোচ্চ ৯৫ শতাংশ শেয়ার। বাকি অংশের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা নিয়ন্ত্রণ করছে ৪.০৭ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ০.২০ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে মাত্র ০.৭৩ শতাংশ। সর্বশেষ ৩১ মার্চ ২০২৪ অর্থবছরের জন্য কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের দিয়েছে ৫০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ।
২. ডাচ্-বাংলা ব্যাংক: এই ব্যাংকের মোট শেয়ার সংখ্যা ৯৬ কোটি ৬৭ লাখ ১ হাজার ১৩৯টি এবং পরিশোধিত মূলধন ৯৬৬ কোটি ৭০ লাখ ১০ হাজার টাকা। উদ্যোক্তারা ধারণ করছে ৮৬.৯৯ শতাংশ শেয়ার। বাকি শেয়ারের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ৬.৭৩ শতাংশ, বিদেশিদের কাছে ০.০৩ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৬.২৫ শতাংশ। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জন্য ব্যাংকটি ঘোষণা করেছে ১০ শতাংশ ক্যাশ ও ১০ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড।
৩. গ্রামীণফোন: দেশের বৃহৎ টেলিকম অপারেটর গ্রামীণফোনের শেয়ার সংখ্যা ১৩৫ কোটি ৩ লাখ ২২টি এবং পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ৩৫০ কোটি ৩০ লাখ টাকা। উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে রয়েছে ৯০ শতাংশ শেয়ার। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ৬.৫১ শতাংশ, বিদেশিদের কাছে ০.৯৬ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ২.৫৩ শতাংশ শেয়ার। কোম্পানিটি সর্বশেষ ৩৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে।
৪. ম্যারিকো বাংলাদেশ: এই বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের মোট শেয়ার সংখ্যা ৩ কোটি ১৫ লাখ এবং পরিশোধিত মূলধন ৩১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে রয়েছে ৯০ শতাংশ শেয়ার। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ৬.২৩ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ১.৭৭ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ২ শতাংশ শেয়ার। ২০২৫ অর্থবছরের জন্য কোম্পানিটি ঘোষণা করেছে ১৯৫০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড।
৫. রেকিট বেনকিজার: মোট শেয়ার সংখ্যা ৪৭ লাখ ৫ হাজার এবং পরিশোধিত মূলধন ৪ কোটি ৭২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। উদ্যোক্তা পরিচালকদের দখলে রয়েছে ৮২.৯৬ শতাংশ শেয়ার। বাকি অংশের মধ্যে সরকারের কাছে রয়েছে ৩.৭৭ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৫.৭৪ শতাংশ, বিদেশিদের হাতে ১.৪২ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৬.১১ শতাংশ শেয়ার। সর্বশেষ ২০২৪ অর্থবছরের জন্য দেওয়া হয়েছে ৩৩৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ।
৬. রবি আজিয়াটা: এই মোবাইল ফোন অপারেটরের মোট শেয়ার সংখ্যা ৫২৩ কোটি ৭৯ লাখ ৩২ হাজার ৮৯৫টি এবং পরিশোধিত মূলধন ৫ হাজার ২৩৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। উদ্যোক্তা পরিচালকদের দখলে রয়েছে ৯০ শতাংশ শেয়ার। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ধারণ করছে ২.০৩ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ৭.৯৭ শতাংশ। ২০২৪ সালের জন্য রবি ঘোষণা করেছে ১৫ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড।
৭. ইউনিলিভার কনজুমার কেয়ার: কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ১ কোটি ৯২ লাখ ৭৪ হাজার ৩১৮টি এবং পরিশোধিত মূলধন ১৯ কোটি ২৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা। উদ্যোক্তাদের দখলে রয়েছে ৯২.৮০ শতাংশ শেয়ার। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ৩.৫৯ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ০.১১ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩.৫০ শতাংশ। সর্বশেষ ২০২৪ অর্থবছরের জন্য ঘোষণা করেছে ৫২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ।
৮. ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন: এই বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানির শেয়ার সংখ্যা ৯৭ কোটি ৯৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৭০টি এবং পরিশোধিত মূলধন ৫৭৯ কোটি ৬৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা। উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে রয়েছে ৯০ শতাংশ শেয়ার। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ৭.৪২ শতাংশ, বিদেশিদের কাছে ০.০১ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ২.৫৭ শতাংশ শেয়ার। কোম্পানিটি ৩০ জুন ২০২৪ অর্থবছরের জন্য ৬০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে।
এই কোম্পানিগুলোর শেয়ারহোল্ডিং কাঠামো বিশ্লেষণে দেখা যায়, উচ্চহারে উদ্যোক্তা মালিকানার কারণে বাজারে শেয়ারের তারল্য কমে যায় এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ সীমিত হয়। এতে বাজারদর স্বাভাবিকভাবে প্রতিফলিত নাও হতে পারে। তাই বিনিয়োগের পূর্বে কোম্পানির মালিকানা কাঠামো ভালোভাবে বোঝা জরুরি।
Posted ৫:০১ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০১ জুলাই ২০২৫
sharebazar24 | sbazaradmin
.
.