নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬ | 0 বার পঠিত | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ইয়াকিন পলিমার লিমিটেডের স্পন্সর-পরিচালকদের শেয়ার অধিগ্রহণের জন্য এফসিএস হোল্ডিংস লিমিটেডের করা প্রস্তাব অনুমোদন দেয়নি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, কোম্পানিটির খেলাপি ঋণ সংক্রান্ত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় অনাপত্তিপত্র জমা না দেওয়ায় আবেদনটি বাতিল করা হয়েছে। বর্তমানে ইয়াকিন পলিমারের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রায় ৫২ কোটি টাকার ঋণ বকেয়া রয়েছে।
জানা যায়, কোম্পানিটির স্পন্সর-পরিচালকদের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শেয়ার অধিগ্রহণের জন্য কমিশনের কাছে অনুমোদন চেয়েছিল এফসিএস হোল্ডিংস। পরিকল্পনা অনুযায়ী শেয়ার হস্তান্তর সম্পন্ন হলে কোম্পানিটির বড় অংশীদার হয়ে উঠত প্রতিষ্ঠানটি।
তবে প্রস্তাবটি পর্যালোচনার সময় নিয়ন্ত্রক সংস্থা দেখতে পায়, ইয়াকিন পলিমারের ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স কোম্পানি (আইআইডিএফসি)-এর কাছে খেলাপি ঋণ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে স্পন্সর-পরিচালকদের শেয়ার হস্তান্তরের আগে সংশ্লিষ্ট ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের সম্মতি নেওয়া বাধ্যতামূলক।
কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদনকারীরা ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় এনওসি সংগ্রহ করে কমিশনে জমা দিতে পারেননি। ফলে কমিশন প্রস্তাবটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়।
তবে কমিশন বিষয়টি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়নি। বিএসইসি এফসিএস হোল্ডিংসকে নির্দেশ দিয়েছে, ব্যাংক ঋণ পুনঃতফসিল বা দায়সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় এনওসি সংগ্রহ করে পুনরায় আবেদন জমা দিতে।
এ বিষয়ে ইয়াকিন পলিমারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ জানান, তারা ইতোমধ্যে আইআইডিএফসি থেকে প্রায় ৯ কোটি টাকার ঋণের বিপরীতে এনওসি সংগ্রহ করেছেন। তবে ইসলামী ব্যাংকের ৪৩ কোটি টাকার ঋণের বিষয়ে এখনো এনওসি পাওয়া যায়নি। ব্যাংকটি বর্তমানে ঋণ আদায়ের পদ্ধতি পর্যালোচনা করছে।
তিনি বলেন, বিএসইসি সরাসরি আবেদনটি প্রত্যাখ্যান করেনি; বরং প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ নতুন করে আবেদন জমা দিতে বলেছে। বাকি এনওসি পাওয়া গেলে দ্রুত কমিশনে পুনরায় আবেদন করা হবে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার সূত্র জানায়, গত বছরের সেপ্টেম্বরে এফসিএস হোল্ডিংস এবং ইয়াকিন পলিমারের তিনজন স্পন্সর-পরিচালক যৌথভাবে কমিশনের কাছে ১ কোটি ৫৮ লাখ ৫২ হাজার ৯৯৩টি শেয়ার হস্তান্তরের অনুমোদন চেয়ে আবেদন করেছিলেন। এই শেয়ার কোম্পানির মোট শেয়ারের প্রায় ২১ দশমিক ৫০ শতাংশ।
এই শেয়ারগুলো কোম্পানির চেয়ারম্যান চাকলাদার রেজাউল আলম, পরিচালক কপিটা প্যাকেজিং সল্যুশনস লিমিটেড এবং পরিচালক দিদারুল আলমের কাছ থেকে এফসিএস হোল্ডিংসের কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনা ছিল।
প্রস্তাব অনুযায়ী, এফসিএস হোল্ডিংস সরাসরি নগদ অর্থ পরিশোধ না করে কোম্পানির কিছু আর্থিক দায়—যেমন ব্যাংক ঋণ ও সরবরাহকারীদের পাওনা—পরিশোধের দায়িত্ব নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। এটি মূলত আর্থিক সংকটে থাকা কোম্পানিটির পুনর্গঠন পরিকল্পনার অংশ।
প্রস্তাবটি অনুমোদন পেলে এফসিএস হোল্ডিংস কোম্পানিটির বড় শেয়ারধারী হয়ে ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখতে পারত। একই সঙ্গে পরিচালনা পর্ষদেও তাদের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা ছিল।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কোনো কোম্পানির শেয়ার যদি ব্যাংক ঋণের বিপরীতে বন্ধক থাকে বা দায়ের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাহলে মালিকানা পরিবর্তনের আগে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের অনুমতি নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সম্মতি ছাড়া সাধারণত নিয়ন্ত্রক সংস্থা শেয়ার হস্তান্তরের অনুমোদন দেয় না।
২০১৬ সালে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ২০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছিল ইয়াকিন পলিমার। সেই অর্থ উৎপাদন সম্প্রসারণে ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল। তবে পরবর্তীতে কৃষিপণ্যের প্যাকেজিংয়ে পরিবেশবান্ধব পাটের বস্তা ব্যবহারে সরকারি উৎসাহ দেওয়ার ফলে পলিমার ব্যাগের চাহিদা কমে যায়, যা কোম্পানিটির ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
আইপিওর পর থেকে কোম্পানিটি ধারাবাহিকভাবে মুনাফা ধরে রাখতে পারেনি। এখন পর্যন্ত আইপিও-পরবর্তী সময়ে মাত্র একবার ১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।
দীর্ঘদিনের আর্থিক দুর্বলতা এবং তালিকাভুক্তির কিছু শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় কোম্পানিটিকে শেয়ারবাজারে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে।
এদিকে এফসিএস হোল্ডিংসের সম্ভাব্য অধিগ্রহণ পরিকল্পনা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা আগ্রহ তৈরি করেছিল। অনেকেই আশা করেছিলেন, মালিকানা পরিবর্তনের মাধ্যমে কোম্পানিটির কার্যক্রমে নতুন গতি আসতে পারে। তবে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা না দেওয়ায় কমিশনের সিদ্ধান্তে আপাতত এই অধিগ্রহণ পরিকল্পনার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
Posted ৬:৫২ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬
sharebazar24 | sbazaradmin
.
.