নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬ | 28 বার পঠিত | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যাংক রেজল্যুশন আইনে নতুন ধারা সংযোজনের ফলে আগের মালিকদের পুনরায় নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় একীভূত পাঁচ ব্যাংককে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এতে আমানতকারীদের মধ্যে আস্থাহীনতা বাড়ছে এবং অনেকে তাদের জমা অর্থ তুলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
এই প্রেক্ষাপটে, একীভূতকরণ প্রক্রিয়া আগের মতো চলবে কিনা—তা নিয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা জানতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চেয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসকরা। রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকে তারা বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরেন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২০২৫ সালের ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশের আওতায় শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংক—এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক—একীভূত করে একটি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করে। এ প্রক্রিয়া তদারকিতে গত বছরের নভেম্বরে পাঁচজন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়, যাদের সহায়তায় অতিরিক্ত কর্মকর্তারাও কাজ করছেন।
সম্প্রতি প্রণীত ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬-এ যুক্ত হওয়া ১৮(ক) ধারায় বলা হয়েছে, সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেওয়া আর্থিক সহায়তার ৭.৫ শতাংশ পরিশোধ করলে আগের মালিকরা আবার ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে পারেন। একীভূত হওয়ার আগে এক্সিম ব্যাংক ছিল নাসা গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে এবং বাকি চারটি ব্যাংক এস আলম গ্রুপের অধীনে পরিচালিত হতো।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, প্রশাসকরা উল্লেখ করেছেন যে দীর্ঘদিন ধরেই আমানতকারীরা সহজে অর্থ উত্তোলন করতে পারছেন না। একীভূতকরণের পর সরকারি নিয়ন্ত্রণে আসায় কিছুটা আস্থা ফিরলেও পরবর্তীতে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য মুনাফা না দেওয়ার সিদ্ধান্তে পরিস্থিতি আবার অস্থির হয়ে ওঠে। যদিও পরে ৪ শতাংশ হারে মুনাফা দেওয়ার ঘোষণা দিলে কিছুটা স্থিতিশীলতা আসে, কিন্তু নতুন আইনের ধারা যুক্ত হওয়ায় আবারও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে প্রতিদিনই আমানতকারীদের চাপ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন প্রশাসকরা। অনেকে মুনাফা ত্যাগ করেও মূলধন ফেরত নিতে আগ্রহী হচ্ছেন। এতে ব্যাংকগুলোর তারল্য পরিস্থিতির ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে।
প্রশাসকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে নতুন আমানত সংগ্রহ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে ঋণ আদায় কার্যক্রমও ধীর হয়ে পড়েছে। তাই আইনে যুক্ত নতুন ধারার উদ্দেশ্য, পুরোনো মালিকদের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন এবং আমানতকারীদের অর্থ সুরক্ষার বিষয়টি স্পষ্ট করা জরুরি বলে তারা মনে করছেন।
তবে বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো নির্দেশনা দেননি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দুর্বল এই পাঁচ ব্যাংককে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৪৭ হাজার ৮৪ কোটি টাকা সহায়তা দিয়েছে। পাশাপাশি নতুন গঠিত ইসলামী ব্যাংকে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা মূলধন হিসেবে বিনিয়োগ করেছে। এছাড়া আমানতকারীদের সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত সুরক্ষা দিতে আমানত বীমা ট্রাস্ট তহবিল থেকে আরও ১২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত এই পাঁচ ব্যাংকের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৬ হাজার ৮২৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা খেলাপিতে পরিণত হয়েছে, যা মোট ঋণের ৮৪.২৩ শতাংশ। যেখানে পুরো ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের গড় হার ৩০.৬০ শতাংশ।
এছাড়া একই সময়ে দেশের ২২টি ব্যাংকের সম্মিলিত মূলধন ঘাটতি ছিল ২ লাখ ৮২ হাজার ৬০৩ কোটি টাকা, যার মধ্যে এই পাঁচ ব্যাংকের ঘাটতির পরিমাণই ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা।
Posted ৯:২২ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
sharebazar24 | sajed khan
.
.