নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬ | 27 বার পঠিত | প্রিন্ট
শেয়ারবাজারে অনিয়ম প্রতিরোধ এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে প্রায় ১০০টি ব্রোকারেজ হাউজ পর্যায়ক্রমে পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কার্যকর নজরদারি বাড়াতেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম জানান, বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং যেকোনো সম্ভাব্য অনিয়মের ঝুঁকি আগেভাগেই চিহ্নিত করে সেটি মোকাবিলায় কমিশন তাদের তদারকি কর্মকাণ্ড আরও জোরদার করছে। তিনি বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য কোনো অনিয়ম সংঘটিত হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া নয়, বরং আগেই ঝুঁকি শনাক্ত করে তা প্রতিরোধ করা, যাতে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সর্বোচ্চভাবে সুরক্ষিত থাকে।”
নতুন কমিশন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে শেয়ারবাজারে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে এবং ধীরে ধীরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরতে শুরু করেছে। এই প্রেক্ষাপটে পরিদর্শন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে।
প্রথম পর্যায়ে পরিদর্শনের জন্য নির্বাচিত ১০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে- শ্যামল ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট, ভিশন ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট, হাওলাদার ইক্যুইটি সার্ভিসেস, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং সিকিউরিটিজ, এরশাদ সিকিউরিটিজ, আর চৌধুরী সিকিউরিটিজ, এসএআর সিকিউরিটিজ ও এমএএইচ সিকিউরিটিজ। এছাড়া লাইসেন্স নবায়নের অংশ হিসেবে আজম সিকিউরিটিজ ও সিনথিয়া সিকিউরিটিজও এই পরিদর্শনের আওতায় আসবে।
বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ধাপে এই ১০টি ব্রোকারেজ হাউজ পরিদর্শনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি পরিদর্শন দলকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই পরিদর্শনে ব্রোকারেজ ও ডিলারদের কার্যক্রম, সিকিউরিটিজ আইন ও বিধি মেনে চলা, গ্রাহকদের অর্থ ও শেয়ারের নিরাপত্তা, কনসোলিডেটেড কাস্টমার অ্যাকাউন্ট (সিসিএ) পরিচালনা এবং অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ (এএমএল/সিএফটি) সংক্রান্ত বিধি অনুসরণের বিষয়গুলো গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হবে।
প্রসঙ্গত, বিএসইসি ইতোমধ্যে সব ব্রোকারেজ হাউজে অনুমোদিত ভেন্ডরের মাধ্যমে অভিন্ন ও সম্পাদন-অযোগ্য (আনএডিটেবল) ব্যাক-অফিস সফটওয়্যার ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে। কমিশনের ধারণা, প্রযুক্তিনির্ভর তদারকির পাশাপাশি নিয়মিত মাঠপর্যায়ের পরিদর্শন চালু হলে ব্রোকারেজ খাতে সুশাসন ও জবাবদিহি আরও শক্তিশালী হবে এবং অতীতের মতো গ্রাহকের অর্থ ও শেয়ার আত্মসাতের ঘটনা প্রতিরোধ করা সহজ হবে।
সম্প্রতি এক বৈঠকে বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেছেন, ব্রোকারেজ হাউজগুলোর তদারকি আরও কার্যকর করতে কমিশন নিয়মিত ও ঘন ঘন অডিট এবং পরিদর্শনের ব্যবস্থা করছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বড় ধরনের কোনো অনিয়ম ঘটার আগেই ঝুঁকি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
Posted ৬:২৩ পিএম | রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
sharebazar24 | sajed khan
.
.