খেলাপি ঋণ কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২১ দফা পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬ | 28 বার পঠিত | প্রিন্ট

খেলাপি ঋণ কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২১ দফা পরিকল্পনা
Responsive Ad Banner

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের হার থেকে বেরিয়ে আসতে ধাপে ধাপে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি বছরের শেষে খেলাপি ঋণের হার বর্তমানের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে এবং আগামী বছরের শেষে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

নমনীয়তার মাধ্যমে ঋণ আদায়
এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে শুরুতে সুদ মওকুফসহ বিভিন্ন শিথিলতার মাধ্যমে ঋণ আদায়ে জোর দেওয়া হবে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Responsive Ad Banner

পরিচালকদের মালিকানা হারানোর ঝুঁকি
মূলধন ঘাটতি পূরণে ব্যর্থ হলে তারা মালিকানাও হারাতে পারেন। পরবর্তীতে প্রয়োজনে ব্যাংককে রেজল্যুশন কাঠামোর আওতায় এনে বিক্রি, একীভূতকরণ বা অবসায়নের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

২১ দফা কর্মপরিকল্পনা
বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি অভ্যন্তরীণ কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে মোট ২১টি পদক্ষেপ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত হয়েছে, নতুন করে বিশেষ ঋণ পুনঃতফশিল নীতিমালা আনা হবে না। গত ২৯ জুন জারি করা এক্সিট পলিসির আওতায় অন্তত মূল ঋণ আদায় নিশ্চিত করতে হবে। এ কারণে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সুদ ও তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয় মওকুফের সুযোগ রাখা হয়েছে।

ডিসেম্বর পর্যন্ত নমনীয়তা
চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত নমনীয় নীতিতে ঋণ পরিশোধের সুযোগ থাকবে। এরপর দুর্দশাগ্রস্ত সম্পদ ব্যবস্থাপনা আইন প্রণয়ন, অর্থঋণ আদালত আইন সংশোধন এবং দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অনাদায়ীদের তালিকা প্রকাশ
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিকল্পনায় আরও রয়েছে, নমনীয় নীতির সুযোগ নিয়েও যারা ঋণ পরিশোধ করবেন না, তাদের নাম ও ছবিসহ তালিকা প্রকাশের উদ্যোগ। একইসঙ্গে প্রকৃত খেলাপি ঋণের ভিত্তিতে ব্যাংকগুলোর প্রভিশন ঘাটতি নির্ধারণ করে মূলধন ঘাটতি পূরণের জন্য সময় বেঁধে দেওয়া হবে।

মালিকানা হারানো ও নিষেধাজ্ঞা
নির্ধারিত সময়েও মূলধন ঘাটতি পূরণ না হলে সংশ্লিষ্ট পরিচালকরা মালিকানা হারাবেন এবং পরবর্তী পাঁচ বছর কোনো ব্যাংকের পরিচালক হওয়ার সুযোগ পাবেন না।

সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি গঠন
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে বলেন, খেলাপি ঋণ কমানো এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। শুরুতে ঋণ আদায়ে নমনীয় নীতি অনুসরণ করা হলেও পরবর্তীতে অনাদায়ী ঋণগ্রহীতাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনায় সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি (এএমসি) গঠনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি নগদ অর্থের বিনিময়ে দুর্দশাগ্রস্ত ঋণের বিপরীতে বন্ধকি সম্পদ কিনতে পারবে। তবে সম্পদ বিক্রি করলেও ঋণগ্রহীতা পুরো দায় থেকে মুক্ত হবেন না; বিক্রয়মূল্যের বাইরে বাকি অর্থ পরিশোধের দায় বহাল থাকবে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, খেলাপি ঋণ কমানোর এই উদ্যোগ ব্যাংকিং খাতের স্বাস্থ্য ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পরিচালকদের মালিকানা হারানোর মতো কঠোর শাস্তির বিধান ব্যাংকগুলোর সুশাসন জোরদার করবে। তবে নমনীয় নীতি ও কঠোর আইনি ব্যবস্থার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।

Facebook Comments Box

Posted ৩:৪৪ পিএম | রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

sharebazar24 |

মো. সাজিদ খান প্রধান সম্পাদক
মো. সিরাজুল ইসলাম সম্পাদক
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

৬০/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

হেল্প লাইনঃ 01742-768172

E-mail: sharebazar024@gmail.com