নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬ | 17 বার পঠিত | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে আস্থার সংকটে পড়া দেশের নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) খাতে ধীরে ধীরে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। ব্যাংক খাতের মতো এ খাতেও সংস্কার কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর গ্রাহকদের আস্থা বাড়তে শুরু করেছে। এর প্রতিফলন হিসেবে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে বেড়েছে আমানত ও আমানতকারীর সংখ্যা। যদিও ঋণ বিতরণে কিছুটা সংকোচন দেখা গেছে।
আমানত বৃদ্ধির ধারা
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ শেষে এনবিএফআই খাতের মোট আমানত দাঁড়িয়েছে ৫১ হাজার ৫৫৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা, যা ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে ছিল ৫১ হাজার ১২৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে আমানত বেড়েছে ৪৩১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা বা ০.৮৪ শতাংশ।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছরের মার্চ শেষে এ খাতে আমানতের পরিমাণ ছিল ৪৯ হাজার ৪৮৭ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। জুন শেষে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৯ হাজার ৭৭৩ কোটি ৮১ লাখ টাকা, সেপ্টেম্বর শেষে ৫০ হাজার ৭২২ কোটি ৮৮ লাখ টাকা এবং ডিসেম্বর শেষে ৫১ হাজার ১২৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। ফলে গত এক বছরে ধারাবাহিকভাবে আমানত বৃদ্ধির প্রবণতা বজায় রয়েছে।
আমানতকারী বাড়ছে
শুধু আমানতই নয়, বেড়েছে আমানতকারীর সংখ্যাও। চলতি বছরের মার্চ শেষে এনবিএফআই খাতে মোট আমানতকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ২২ হাজার ৭২৬ জন, যা তিন মাস আগে ছিল ৫ লাখ ৭১ হাজার ৩৮২ জন। অর্থাৎ, এক প্রান্তিকে নতুন আমানতকারী যুক্ত হয়েছেন ৫১ হাজার ৩৪৪ জন, যা ৮.৯৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে।
এই ধারাবাহিকতা আগের প্রান্তিকগুলোতেও ছিল। ২০২৫ সালের মার্চ শেষে আমানতকারীর সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৪০ হাজার ৯০৭ জন। জুনে তা বেড়ে হয় ৪ লাখ ৮০ হাজার ১৬৩ জন, সেপ্টেম্বরে ৫ লাখ ৪০ হাজার ৮২৫ জন এবং ডিসেম্বরে ৫ লাখ ৭১ হাজার ৩৮২ জন।
ঋণ বিতরণে সতর্কতা
অন্যদিকে, ঋণ বিতরণে কিছুটা সতর্ক অবস্থান নিয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ শেষে এনবিএফআই খাতের বিতরণকৃত ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৭৮ হাজার ৪২৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, যা ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে ছিল ৭৮ হাজার ৮২৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা। ফলে তিন মাসে ঋণের পরিমাণ কমেছে ৪০৪ কোটি ৩ লাখ টাকা বা ০.৫১ শতাংশ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল্যায়ন
খাতটির সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, এনবিএফআই খাতের বর্তমান প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। তবে এর সঙ্গে বিদ্যমান ঝুঁকিগুলোকেও গুরুত্ব দিতে হবে। তার মতে, আমানতে যে প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে তা মূলত গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধারের প্রাথমিক প্রতিফলন। দীর্ঘমেয়াদে এই ধারা টেকসই করতে খাতটিতে আরও স্বচ্ছতা, শক্তিশালী ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বিশ্লেষকদের মত
খাত বিশ্লেষক এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের রিসার্চ ফেলো এম হেলাল আহমেদ জনি বলেন, ‘এনবিএফআই খাতে আমানত ও আমানতকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি আস্থা ফেরার ইতিবাচক ইঙ্গিত। একই সঙ্গে ঋণ বিতরণে কিছুটা কমতি নেতিবাচক নয়; বরং ঝুঁকি বিবেচনায় সতর্ক ঋণ বিতরণ ভবিষ্যতে সম্পদের মান উন্নত করতে সহায়ক হতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে সুশাসন, খেলাপি ঋণ, করপোরেট গভর্ন্যান্স ও তদারকির দুর্বলতা দূর করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। তাহলে এনবিএফআই খাত আবারও বিনিয়োগ ও অর্থায়নের শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে।’
বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এনবিএফআই খাতে আমানত ও আমানতকারী বৃদ্ধি ইতিবাচক হলেও ঋণ বিতরণে সংকোচন খাতটির অর্থনৈতিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে স্বল্পমেয়াদি এই সতর্কতা দীর্ঘমেয়াদে খেলাপি ঋণ কমাতে সহায়ক হবে বলে আশা করছেন তারা। সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে খাতটি আগামী দিনগুলোতে আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Posted ১:২৩ পিএম | বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
sharebazar24 | sajed khan
.
.