নিজস্ব প্রতিবেদক | শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ | 28 বার পঠিত | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে নেগেটিভ ইক্যুইটি সমস্যা মোকাবিলায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। তিনটি ব্রোকারেজ হাউসের সময় বৃদ্ধির আবেদন নাকচ করে তাদের দ্রুত প্রভিশন সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে সংস্থাটি। একইসঙ্গে আরও দুই প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নতুন করে পরিকল্পনা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ বিষয়ে সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে পৃথক চিঠি পাঠিয়েছে বিএসইসি। আবেদন বাতিল হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—এএএ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, বি অ্যান্ড বি এসএস ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড এবং এলিগ্যান্ট স্টক অ্যান্ড সিকিউরিটিজ লিমিটেড। অন্যদিকে, আইএফআইসি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ও এনএলআই সিকিউরিটিজ লিমিটেডকে সংশোধিত পরিকল্পনা পুনরায় দাখিল করতে বলা হয়েছে।
বিএসইসির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নেগেটিভ ইক্যুইটি এবং আনরিয়েলাইজড লোকসানের বিপরীতে প্রভিশন সংরক্ষণের জন্য আগে জমা দেওয়া পরিকল্পনাগুলো পুনর্মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় সংশোধনসহ পুনরায় জমা দিতে হবে। পাশাপাশি সুদসহ নেগেটিভ ইক্যুইটির বিস্তারিত হিসাবও উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে।
যেসব প্রতিষ্ঠানের আবেদন বাতিল করা হয়েছে, তাদের জমা দেওয়া বোর্ড অনুমোদিত পরিকল্পনা সন্তোষজনক না হওয়ায় কমিশন তা গ্রহণ করেনি। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পরবর্তী করণীয় বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের পুনর্বাসনে নেগেটিভ ইক্যুইটি হিসাবের ওপর কর ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)। সংগঠনটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে সুদ মওকুফ, ক্যাশ ডিভিডেন্ড ও মূলধনী মুনাফার ওপর পূর্ণ কর অব্যাহতি এবং বিদ্যমান ১০ লাখ টাকার সীমা তুলে দেওয়ার সুপারিশ করেছে। তাদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ বিনিয়োগকারীদের পুনরায় বাজারমুখী হতে উৎসাহিত করবে।
অন্যদিকে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নেগেটিভ ইক্যুইটি সংক্রান্ত মাসিক প্রতিবেদন দাখিল না করায় ২১টি ব্রোকারেজ হাউসের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বিএসইসি। যা ২০২৫ সালের ১৪ মে জারি করা নির্দেশনার পরিপন্থী। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা এবং দায় নির্ধারণসহ ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম প্রতিরোধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা জানতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, মার্জিন ঋণের বিপরীতে সৃষ্ট অনাদায়ী ক্ষতির ফলে দেশের শেয়ারবাজারে নেগেটিভ ইক্যুইটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এর পরিমাণ ছিল ৭ হাজার ৮২৪ কোটি ১৮ লাখ টাকা, যা ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষে কমে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৩৫১ কোটি ৮৬ লাখ টাকায়।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্রোকারেজ হাউসগুলোর আর্থিক সক্ষমতা মূল্যায়নে নেগেটিভ ইক্যুইটি ও আনরিয়েলাইজড লোকসানের তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব তথ্য সময়মতো প্রকাশ না হলে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি মূল্যায়ন কঠিন হয়ে পড়ে এবং বাজারের স্থিতিশীলতাও ব্যাহত হতে পারে।
উল্লেখ্য, এর আগে ধাপে ধাপে বিভিন্ন কমিশন সভায় একাধিক ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানকে শর্তসাপেক্ষে সময় বৃদ্ধি করা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে বোঝা যাচ্ছে, আর্থিক শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এখন আরও কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
Posted ৬:১৪ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
sharebazar24 | sajed khan
.
.