সোমবার ৪ঠা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রেকিং >>
ব্রেকিং >>

দাবি নিষ্পত্তিতে ধস: বীমা খাতে বাড়ছে আস্থার সংকট

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   রবিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ | 64 বার পঠিত | প্রিন্ট

দাবি নিষ্পত্তিতে ধস: বীমা খাতে বাড়ছে আস্থার সংকট
Responsive Ad Banner

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসে বাংলাদেশের বীমা কোম্পানিগুলো গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ প্রিমিয়াম সংগ্রহ করলেও তার অর্ধেকেরও কম অর্থ দাবি হিসেবে পরিশোধ করেছে। ফলে অপরিশোধিত দাবির পরিমাণ বাড়তে থাকায় বীমা খাতের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থার সংকট আরও তীব্র হচ্ছে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৫ সময়ে বীমা কোম্পানিগুলো মোট ৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা প্রিমিয়াম আদায় করেছে। বিপরীতে এ সময় দাবি নিষ্পত্তি করা হয়েছে মাত্র ২ হাজার ২২১ কোটি টাকা, যা মোট প্রিমিয়াম আয়ের প্রায় ৪৮ শতাংশ।

Responsive Ad Banner

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)–এর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, আলোচ্য সময়ে সার্বিকভাবে দাবি নিষ্পত্তির হার ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ। এর মধ্যে লাইফ ইন্স্যুরেন্স খাতে দাবি পরিশোধের হার তুলনামূলক ভালো হলেও তা ৩৫.১৮ শতাংশে সীমাবদ্ধ। অন্যদিকে নন-লাইফ বীমা খাতে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক—এ খাতে দাবি নিষ্পত্তির হার ছিল মাত্র ৭.৫৫ শতাংশ। বর্তমানে পুরো বীমা খাতে বকেয়া দাবির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৬২৪ কোটি টাকা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রাহকরা নিয়মিত প্রিমিয়াম পরিশোধ করলেও অনেক কোম্পানি সময়মতো দাবি মেটাতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। এই প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে বীমা বাজারের স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।

বীমা খাতের আর্থিক সক্ষমতা পরিমাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলো ইনকার্ড ক্লেইম রেশিও (আইনিআর)। সাধারণভাবে এই হার ৬০ থেকে ৯০ শতাংশের মধ্যে থাকাকে ইতিবাচক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশে অনেক বীমা কোম্পানির ক্ষেত্রে এই হার ৫০ শতাংশের নিচে নেমে গেছে। এর ফলে কোম্পানিগুলো সাময়িকভাবে লাভবান হলেও গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ ও অবিশ্বাস বাড়ছে।

বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম চালানো কিছু কোম্পানির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, যেসব পলিসি ইতোমধ্যে ম্যাচিউরড হয়েছে সেগুলোর দাবিও পরিশোধে বিলম্ব করা হচ্ছে। সাবেক বীমা কর্মকর্তারা বলছেন, প্রিমিয়ামের অর্থ যদি দাবি নিষ্পত্তিতে ব্যবহার না হয়, তাহলে তা লাইফ ফান্ড বা বিনিয়োগে থাকার কথা। অথচ বাস্তবে অনেক কোম্পানির লাইফ ফান্ড ও বিনিয়োগের পরিমাণ কমে আসছে, যা দুর্বল ব্যবস্থাপনা বা তহবিল ব্যবহারে অনিয়মের ইঙ্গিত দেয়।

দুর্বল তদারকি ও স্বচ্ছতার অভাবে বহু গ্রাহক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন এবং বীমাকে ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করছেন।

এ পরিস্থিতিতে খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে আইডিআরএ কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে নন-লাইফ বীমা খাতে ব্যক্তিগত এজেন্টদের কমিশন শূন্য শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং তাদের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এসব সংস্কার কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে বীমা খাতে সুশাসন জোরদার হবে এবং দাবি নিষ্পত্তির হার ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। এতে আগামী অর্থবছরগুলোতে গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি বাজারে নগদ অর্থপ্রবাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। এর ইতিবাচক প্রভাব শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বীমা কোম্পানিগুলোর শেয়ারের ওপরও পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Facebook Comments Box

Posted ১:২৩ অপরাহ্ণ | রবিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬

sharebazar24 |

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭৩০
৩১  
মো. সিরাজুল ইসলাম সম্পাদক
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

৬০/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

হেল্প লাইনঃ 01742-768172

E-mail: sharebazar024@gmail.com