বৃহস্পতিবার ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ব্রেকিং নিউজ >>
ব্রেকিং নিউজ >>

ডিজিটাল ব্যাংকের নতুন লাইসেন্স দিতে প্রস্তুত বাংলাদেশ ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   মঙ্গলবার, ২৬ আগস্ট ২০২৫ | 160 বার পঠিত | প্রিন্ট

ডিজিটাল ব্যাংকের নতুন লাইসেন্স দিতে প্রস্তুত বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংক ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স পুনরায় দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে। বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কঠোর শর্তে নতুন লাইসেন্স অনুমোদনের পরিকল্পনা করছে।

এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে, এক প্রজ্ঞাপনে ডিজিটাল ব্যাংকের ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধনের সীমা ১২৫ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এবার লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ায় আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, ডিজিটাল ব্যাংকের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতের চেহারায় বড় পরিবর্তন আসবে। প্রচলিত শাখাহীন ব্যাংকিং মডেলের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া কঠোর মানদণ্ডে হবে পরিচালিত
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গাইডলাইনে ডিজিটাল ব্যাংকের আবেদনকারীদের জন্য কঠোর শর্ত আরোপের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—উন্নত প্রযুক্তি অবকাঠামো, আর্থিক শক্তি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং গ্রাহক সুরক্ষা নীতিমালা।

২০২৩ সালে ৫২টি প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ব্যাংক লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছিল। তবে, অস্বচ্ছ প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ ওঠায় পূর্ববর্তী লাইসেন্সিং নিয়ে সমালোচনা হয়। বিশ্ব ব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাব উদ্ভাবনকে নিরুৎসাহিত করেছে।

এই সমালোচনা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এবার নতুন করে লাইসেন্স অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, শিগগিরই নতুন আবেদন আহ্বান করা হবে। পূর্বে আবেদন করা প্রতিষ্ঠানগুলোও পুনরায় আবেদন করতে পারবে।

ডিজিটাল ব্যাংক কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
ডিজিটাল ব্যাংক (Neobank) এমন একটি ব্যাংক, যা সম্পূর্ণ অনলাইন-ভিত্তিক। এখানে গ্রাহকরা মোবাইল অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা সব ধরনের ব্যাংকিং সেবা পেতে পারেন। এতে থাকবে অ্যাকাউন্ট খোলা, অর্থ স্থানান্তর, বিল পরিশোধ, ঋণ, সঞ্চয় এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনের সুবিধা।

বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ৪ শতাধিক ডিজিটাল ব্যাংক কার্যক্রম চালাচ্ছে। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যের রেভোলুট, জার্মানির N26 এবং লাতিন আমেরিকার নিউব্যাংক (Nubank) বিশেষভাবে জনপ্রিয়। আমাদের পার্শ্ববর্তী ভারত ও পাকিস্তানও ইতোমধ্যে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দিয়েছে।

বাংলাদেশে এমএফএস খাত (যেমন বিকাশ, নগদ) ডিজিটাল লেনদেনের বিপ্লব ঘটালেও তারা আমানত গ্রহণ বা ঋণ প্রদানের অনুমতি পায় না। ডিজিটাল ব্যাংক এই ঘাটতি পূরণ করবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণপ্রাপ্তি সহজ করবে, যা অর্থনীতিতে নতুন গতি আনবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী ডিজিটাল ব্যাংক
প্রধান কার্যালয় থাকবে, তবে কোনো শাখা বা উপশাখা থাকবে না।

সমস্ত সেবা মোবাইল অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পাওয়া যাবে।

পাঁচ বছরের মধ্যে আইপিও (Initial Public Offering) আনতে হবে।

ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১ অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

পেমেন্ট সিস্টেম পরিচালিত হবে বাংলাদেশ পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমস রেগুলেশন ২০১৪ অনুযায়ী।

ডিজিটাল ব্যাংক কেন গেম-চেঞ্জার?
✔ শাখাহীন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলে সেবা পৌঁছাবে।
✔ ২৪/৭ ব্যাংকিং সেবা দিয়ে ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তুলবে।
✔ নিরাপত্তা বাড়াতে উন্নত এনক্রিপশন, বায়োমেট্রিক যাচাইকরণ থাকবে।
✔ ছোট ব্যবসা ও ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করবে।

বাংলাদেশে বর্তমানে প্রযুক্তি-সচেতন তরুণ প্রজন্ম, মোবাইল ইন্টারনেটের বিস্তার এবং স্মার্টফোন ব্যবহারের কারণে ডিজিটাল ব্যাংকের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

 

Facebook Comments Box

Posted ৯:০৩ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৬ আগস্ট ২০২৫

sharebazar24 |

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০৩১
মো. সিরাজুল ইসলাম সম্পাদক
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

৬০/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

হেল্প লাইনঃ 01742-768172

E-mail: sharebazar024@gmail.com