বৃহস্পতিবার ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ব্রেকিং নিউজ >>
ব্রেকিং নিউজ >>

বকেয়া গ্যাস বিল নিয়ে তিতাস-কর্ণফুলীর সঙ্গে ইউনাইটেড পাওয়ারের বিরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫ | 230 বার পঠিত | প্রিন্ট

বকেয়া গ্যাস বিল নিয়ে তিতাস-কর্ণফুলীর সঙ্গে ইউনাইটেড পাওয়ারের বিরোধ

চট্টগ্রাম ও ঢাকার তিন ইপিজেডে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ইউপিজিডি) কাছে তিতাস ও কর্ণফুলী গ্যাসের বকেয়া গ্যাস বিল দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৫৫ কোটি টাকা। সরকার নির্ধারিত ক্যাপটিভ রেটে বিল দিতে অনীহার কারণে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাসহ একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিল আদায়ে এখনও গলদঘর্ম অবস্থায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট গ্যাস কোম্পানিগুলো।

তিতাস গ্যাস ইতোমধ্যে ডিইপিজেডে ইউনাইটেড পাওয়ারের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বকেয়া আদায়ে কিস্তি নির্ধারণ করেছে। তবে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) এখনও সিইপিজেডে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেনি। অথচ প্রতিষ্ঠানটির বোর্ড সভায় গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নের সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়েছে এবং মন্ত্রণালয় থেকেও বিকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে সংযোগ বিচ্ছিন্নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইউনাইটেড পাওয়ার দাবি করছে, তাদের সঙ্গে তিতাস ও কেজিডিসিএলের চুক্তি অনুযায়ী তারা আইপিপি রেটে গ্যাস নিচ্ছে এবং সেই অনুপাতে বিলও পরিশোধ করছে। চুক্তিতে ক্যাপটিভ রেটের কোনো উল্লেখ নেই, ফলে নতুন করে চাওয়া অতিরিক্ত বিল তারা মানতে নারাজ।

তবে আদালতের একাধিক রায়ে ইউনাইটেড পাওয়ারের দাবি খারিজ হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ পর্যন্ত ইউনাইটেড পাওয়ারের রিভিউ পিটিশন খারিজ করেছে। এর ফলে ক্যাপটিভ রেট অনুযায়ী বিল পরিশোধের বাধ্যবাধকতা বজায় রয়েছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।

২০০৮ সালে ডিইপিজেডে এবং ২০০৯ সালে সিইপিজেডে ইউনাইটেড গ্রুপ দুটি গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করে। পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা কয়েক ধাপে বাড়িয়ে বর্তমানে ডিইপিজেডে ৮৬ মেগাওয়াট এবং সিইপিজেডে ৭২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে ইউপিজিডি।

বিডিআরসি, পিডিবি এবং ইপিজেডের শিল্প গ্রাহকদের কাছে এই বিদ্যুৎ সরবরাহ করলেও, ইউনাইটেড পাওয়ার সরকার নির্ধারিত ক্যাপটিভ রেটে গ্যাসের মূল্য পরিশোধ করছে না—এমনটাই অভিযোগ তিতাস ও কেজিডিসিএলের।

তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহনেওয়াজ পারভেজ বলেন, “প্রায় ৫০০ কোটি টাকা বকেয়া আদায়ে আমরা ইউনাইটেড পাওয়ারের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করি। তারা ৫০ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে এবং বাকি টাকার কিস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন থেকে তারা ক্যাপটিভ রেটে বিল পরিশোধ করবে।”

কর্ণফুলী গ্যাসের মহাব্যবস্থাপক (বিপণন-দক্ষিণ) প্রকৌশলী মু. রইস উদ্দিন আহমেদ বলেন, “ইউনাইটেড পাওয়ারের বিষয়ে মন্ত্রণালয় পদক্ষেপ নিয়েছে। বোর্ড সভায় গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” তবে এখনো পর্যন্ত সংযোগ বন্ধ করা হয়নি।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “বর্তমানে আমদানিকৃত এলএনজির প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের ক্রয়মূল্য ৬৫ু৭০ টাকা। এই অবস্থায় ক্যাপটিভ রেটে গ্যাসের বিল আদায় নিশ্চিত না হলে বড় ক্ষতি হবে।”

পেট্রোবাংলার পরিচালক (অর্থ) এ কে এম মিজানুর রহমান জানান, “মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী ইউনাইটেড পাওয়ারের বকেয়া আদায়ে সংযোগ বিচ্ছিন্নের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে তিতাস ও কর্ণফুলী গ্যাসকে বলা হয়েছে।”

ইউনাইটেড পাওয়ারের পাবলিক অ্যাফেয়ার্স বিভাগের প্রধান মো. শামীম মিয়া বলেন, “আমাদের চুক্তি আইপিপি রেটে এবং তা এখনো বলবৎ। ক্যাপটিভ রেট উল্লেখ নেই। আদালতের রায়ে ক্যাপটিভ রেট অনুযায়ী পরিশোধের কথা বলা হয়নি। চুক্তি সংশোধন ছাড়া বিল পরিবর্তন গ্রহণযোগ্য নয়।”

২০০৯ সাল থেকে শুরু হওয়া গ্যাস সরবরাহের চুক্তি ও পরবর্তী সময়ের নীতিমালার পরিবর্তনের কারণে ইউনাইটেড পাওয়ার এবং সংশ্লিষ্ট গ্যাস সরবরাহকারীদের মধ্যে সম্পর্ক জটিল আকার ধারণ করেছে। একদিকে আদালতের রায় এবং মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বকেয়া আদায়ের চাপ, অন্যদিকে ইউনাইটেড পাওয়ারের চুক্তির দোহাই—এই দ্বন্দ্বের ফলে এখনও পুরোপুরি আদায় হয়নি ৯৫৫ কোটি টাকার বকেয়া গ্যাস বিল।

শিল্প গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের স্বার্থে সরকারের বিকল্প ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়ে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Facebook Comments Box

Posted ৬:৩৫ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫

sharebazar24 |

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০৩১
মো. সিরাজুল ইসলাম সম্পাদক
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

৬০/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

হেল্প লাইনঃ 01742-768172

E-mail: sharebazar024@gmail.com