রবিবার ২৫শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ব্রেকিং নিউজ >>
ব্রেকিং নিউজ >>

বীমা খাত নিয়ে শঙ্কা: দেশে ৩২ কোম্পানি উচ্চ ঝুঁকিতে – আইডিআরএ চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বুধবার, ০২ জুলাই ২০২৫ | 130 বার পঠিত | প্রিন্ট

বীমা খাত নিয়ে শঙ্কা: দেশে ৩২ কোম্পানি উচ্চ ঝুঁকিতে – আইডিআরএ চেয়ারম্যান

দেশের বীমা খাতে চলছে চরম আস্থার সংকট। সময়মতো বিমা দাবির অর্থ পরিশোধ না করা, স্বচ্ছতার অভাব এবং অব্যবস্থাপনার কারণে উচ্চ ঝুঁকিতে পড়েছে ৩২টি বীমা কোম্পানি। এর মধ্যে রয়েছে ১৫টি জীবন বীমা এবং ১৭টি সাধারণ বীমা কোম্পানি। এমন তথ্য জানিয়েছেন বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান ড. এম আসলাম আলম।

বুধবার (২ জুলাই) রাজধানীতে আইডিআরএ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, “বীমা খাতে মানুষের আস্থার বড় সংকট তৈরি হয়েছে, যা এ খাতকে পিছিয়ে দিচ্ছে। অনেক কোম্পানি গ্রাহকের বিমা দাবি সময়মতো পরিশোধ করছে না, ফলে বীমা খাতের প্রতি মানুষের আগ্রহ ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে।”

চেয়ারম্যান জানান, বর্তমানে দেশে ৩৬টি জীবন বীমা কোম্পানির মধ্যে ভালো অবস্থানে আছে মাত্র ৬টি, ১৫টি রয়েছে উচ্চ ঝুঁকিতে এবং বাকি ১৫টি রয়েছে মাঝারি ঝুঁকিতে। সাধারণ বীমা খাতের ১৭টি কোম্পানিও রয়েছে উচ্চ ঝুঁকিতে। যদিও তিনি কোম্পানিগুলোর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেননি।

তবে আইডিআরএ’র একটি অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, যেসব জীবন বীমা কোম্পানি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—ফারইস্ট ইসলামী লাইফ, পদ্মা ইসলামী লাইফ, প্রাইম ইসলামী লাইফ, সানফ্লাওয়ার লাইফ, সানলাইফ, গোল্ডেন লাইফ, বায়রা লাইফ, প্রগ্রেসিভ লাইফ, এনআরবি ইসলামিক লাইফ, ডায়মন্ড লাইফ, বেস্ট লাইফ, প্রটেকটিভ ইসলামী লাইফ, যমুনা লাইফ এবং স্বদেশ লাইফ।

ড. এম আসলাম আলম আরও বলেন, “বর্তমানে জীবন বীমা খাতে দাবি পরিশোধ না হওয়ার হার প্রায় ৪৫ শতাংশ। সাধারণ বীমা খাতে এ হার ৪৭ শতাংশ। এ ধরনের বাস্তবতা মানুষের মধ্যে বীমা সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করছে।”

এ খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনতে ইতোমধ্যে আইডিআরএ একাধিক প্রস্তাবনা সরকারের কাছে পেশ করেছে বলে জানান তিনি। এর মধ্যে রয়েছে—আন্তর্জাতিক রীতিনীতি অনুসরণ করে বিমা কোম্পানিগুলোর অবসায়ন, একীভূতকরণ এবং অধিগ্রহণের মতো সংস্কার উদ্যোগ। ব্যাংক খাতে যেভাবে রেজুলেশন ফ্রেমওয়ার্ক রয়েছে, তেমনি বিমা খাতেও একটি শক্তিশালী রেজুলেশন কাঠামো তৈরির তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, “২০১০ সালে দেশের জিডিপির তুলনায় বিমা খাতের অবদান ছিল শূন্য দশমিক ৯৪ শতাংশ। কিন্তু ২০২৩ সালে তা নেমে এসেছে মাত্র শূন্য দশমিক ৪১ শতাংশে। ২০২৪ সালে এ হার আরও কমেছে।”

আইডিআরএ চেয়ারম্যানের দাবি, জনবল সংকটের কারণে তদারকিতে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। বর্তমানে সংস্থাটিতে অনুমোদিত ১৬০টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১০৭ জন। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় জনবল বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে সম্প্রতি বিমা কোম্পানিগুলোর নিবন্ধন নবায়ন ফি প্রতি হাজার টাকায় ১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে আইডিআরএ। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে চেয়ারম্যান বলেন, “লোকবল বাড়ানোর সঙ্গে ব্যয়ও বাড়বে। সেই বিবেচনায় নিবন্ধন নবায়ন ফি বাড়ানো হয়েছে। তহবিলে অর্থ থাকলেও ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে।”

বীমা খাতের টেকসই উন্নয়নের জন্য অবিলম্বে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সময়মতো দাবি নিষ্পত্তির সংস্কৃতি গড়ে তোলার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রস্তাবিত সংস্কার কার্যকর হলে খাতটি ঘুরে দাঁড়াবে এবং মানুষের আস্থা ফিরে আসবে।

Facebook Comments Box

Posted ৮:২৫ অপরাহ্ণ | বুধবার, ০২ জুলাই ২০২৫

sharebazar24 |

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০৩১
মো. সিরাজুল ইসলাম সম্পাদক
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

৬০/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

হেল্প লাইনঃ 01742-768172

E-mail: sharebazar024@gmail.com