শুক্রবার ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ব্রেকিং নিউজ >>
ব্রেকিং নিউজ >>

পুঁজিবাজারে টানা দরপতন: আস্থাহীনতা ও সংস্কারহীনতার দুষ্টচক্রে বিনিয়োগকারীদের ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শনিবার, ২৪ মে ২০২৫ | 169 বার পঠিত | প্রিন্ট

পুঁজিবাজারে টানা দরপতন: আস্থাহীনতা ও সংস্কারহীনতার দুষ্টচক্রে বিনিয়োগকারীদের ক্ষোভ

দীর্ঘদিন ধরে অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশের পুঁজিবাজার। ক্রমাগত দরপতনের ফলে বিনিয়োগকারীদের পুঁজি হ্রাস পাওয়ায় বাজারে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বাজার সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা ছিল—পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবে। কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি।

এমন পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিনিয়োগকারী ও ব্রোকার প্রতিনিধি সংগঠনগুলোর একাংশ মনে করে—বিএসইসির ব্যর্থতাই বর্তমান সংকটের অন্যতম কারণ।

বিক্ষোভ ও অপসারণ দাবির পটভূমি
গত ১৮ মে মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে বিনিয়োগকারীরা কফিন নিয়ে ব্যতিক্রমী বিক্ষোভ করেন। তারা বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের পদত্যাগ দাবি করেন। তবে সাবেক বিএসইসি চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী এই দাবির সঙ্গে একমত নন। তিনি বলেন, “শুধু একজন চেয়ারম্যান সরে গেলেই বাজার ভালো হয়ে যাবে—এমন ভাবনা বাস্তবসম্মত নয়।”

বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এসএম ইকবাল হোসেন বলেন, “পদত্যাগই সমাধান—এটা পাগলেও বিশ্বাস করবে না।” তিনি আরও জানান, চেয়ারম্যানবিহীন অবস্থায় সূচক বেড়েছিল ৮০০-৯০০ পয়েন্ট, কিন্তু রাশেদ মাকসুদের দায়িত্ব গ্রহণের পর তা কমেছে প্রায় ১২০০ পয়েন্ট এবং বাজার মূলধন কমেছে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা।

পুঁজিবাজারের বাস্তব চিত্র
কোম্পানিগুলোর দুর্বল পারফরম্যান্স।

কারসাজির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের অভাব।

প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অনাগ্রহ।

বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট।

দুর্বল আইপিও নীতিমালা ও মনিটরিং ব্যবস্থার অভাব।

ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্রের উচ্চ সুদে পুঁজিবাজার বিমুখতা।

এছাড়া পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিন ধরেই রিয়েলটাইম সার্ভিল্যান্স সিস্টেমের অভাব, নীতিগত দুর্বলতা, ইনসাইডার ট্রেডিং, দক্ষ মানবসম্পদের ঘাটতি এবং সুশাসনের অভাব স্পষ্টভাবে চিহ্নিত সমস্যা।

প্রধান উপদেষ্টার পাঁচ নির্দেশনা
অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের ৯ মাস পর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ১১ মে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে পাঁচটি নির্দেশনা দেন:

১. সরকারি মালিকানাধীন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলোর শেয়ার বাজারে ছাড়ার ব্যবস্থা।
২. বড় দেশীয় কোম্পানিগুলোর তালিকাভুক্তিতে প্রণোদনা।
৩. বিদেশি বিশেষজ্ঞ এনে ৩ মাসের মধ্যে পুঁজিবাজার সংস্কার।
৪. অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা।
৫. ব্যবসায়ীদের ব্যাংক নির্ভরতা কমিয়ে বন্ড বা ইক্যুইটির মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহে উৎসাহ।

চেয়ারম্যানের সংস্কারমূলক পদক্ষেপ
১৯ আগস্ট ২০২৪ দায়িত্ব গ্রহণের পর খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন:

অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ করে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিতকরণ।

অনুসন্ধান ও তদন্ত কমিটি গঠন এবং জরিমানা কার্যক্রমে ১,০৭৫ কোটি টাকা আদায়।

সুশাসন নিশ্চিত করতে টাস্কফোর্স গঠন ও সুপারিশ বাস্তবায়ন।

আইওএসকো মান অনুযায়ী সিদ্ধান্তে স্টেকহোল্ডারদের মতামত নেওয়া।

ফারুক আহমেদ সিদ্দিকীর মতে, “সহযোগিতার মনোভাব, সুশাসন এবং ভালো মানের নতুন কোম্পানির আইপিওই আস্থা ফিরিয়ে আনবে।”সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন মনে করেন, “পদত্যাগের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা।”

পুঁজিবাজারের বর্তমান সংকট বহুমাত্রিক ও দীর্ঘদিনের। এর জন্য কেবল একজন ব্যক্তিকে দায়ী না করে, সব পক্ষের অংশগ্রহণে দীর্ঘমেয়াদী ও টেকসই সংস্কারই হতে পারে আস্থার পুনর্গঠনের মূল চাবিকাঠি।

Facebook Comments Box

Posted ২:০৩ অপরাহ্ণ | শনিবার, ২৪ মে ২০২৫

sharebazar24 |

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০৩১
মো. সিরাজুল ইসলাম সম্পাদক
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

৬০/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

হেল্প লাইনঃ 01742-768172

E-mail: sharebazar024@gmail.com