বৃহস্পতিবার ১২ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ব্রেকিং >>
ব্রেকিং >>

শুল্ক বৈষম্যে বিপাকে এলডিসি ও ছোট অর্থনীতি, বাংলাদেশও ঝুঁকিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শুক্রবার, ২৩ মে ২০২৫ | 202 বার পঠিত | প্রিন্ট

শুল্ক বৈষম্যে বিপাকে এলডিসি ও ছোট অর্থনীতি, বাংলাদেশও ঝুঁকিতে
Responsive Ad Banner

নতুন আমদানি শুল্কের তরঙ্গ বিশ্ব বাণিজ্যে বড় ধরনের রূপান্তর আনতে যাচ্ছে। এতে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলো বৈষম্যের মুখে পড়বে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা আংকটাড।

বৃহস্পতিবার (২২ মে) প্রকাশিত আংকটাড-এর প্রতিবেদন ‘Sparing the Vulnerable: The Cost of New Tariff Burdens’-এ বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে গৃহীত নতুন শুল্কনীতির কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলোর বাণিজ্য খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে স্বল্পোন্নত (LDC), ছোট দ্বীপ রাষ্ট্র, স্থলবেষ্টিত এবং ঝুঁকিপূর্ণ উন্নয়নশীল দেশগুলো।

Responsive Ad Banner

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্ব বাণিজ্যে এসব দেশের অংশগ্রহণ খুবই সামান্য হলেও তারাই বর্তমানে সবচেয়ে বেশি হারে শুল্ক বৃদ্ধির শিকার হচ্ছে।
২০২৫ সালের জুলাই থেকে যুক্তরাষ্ট্র ২২টি উন্নয়নশীল দেশের পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশের বেশি হারে শুল্ক আরোপ করতে যাচ্ছে। এদের মধ্যে সাতটি স্বল্পোন্নত দেশ রয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র সর্বজনীনভাবে সব আমদানির ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। জুলাই থেকে দেশভিত্তিক অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর হবে। এতে করে পূর্ববর্তী বাণিজ্য চুক্তি এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) নিয়মনীতি উপেক্ষিত হচ্ছে বলে মনে করছে আংকটাড।

এপ্রিলেই এলডিসিগুলোর ওপর শুল্ক ১৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা জুলাইয়ে আরও বেড়ে ৪৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও কিছু পণ্যে শুল্কহার ৩৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। যদিও কিছু দেশের জন্য নতুন হার ৯০ দিনের জন্য স্থগিত রয়েছে।

এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য শুল্ক ১৩ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, যা জুলাইয়ে পৌঁছাতে পারে ২৪ শতাংশে। লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের জন্য এটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ শতাংশে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই শুল্কনীতির কারণে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও কৃষি খাত সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়বে। যদিও বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতির মাত্র ০.৩ শতাংশের জন্য দায়ী, তবুও নতুন শুল্কের কারণে মার্কিন বাজারে প্রবেশ ব্যয়বহুল হয়ে পড়বে। এতে রপ্তানি সম্ভাবনা হ্রাস পাবে।

এ অবস্থায় আংকটাড বলছে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, শুল্ক ছাড় নীতিমালা এবং বাজারে প্রবেশে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য সহজতর শর্ত নিশ্চিত করতে হবে। নতুবা বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন ধরনের বৈষম্য তৈরি হতে পারে, যা বৈশ্বিক উন্নয়নের গতিপথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

বিশ্ব অর্থনীতিতে এসব ঝুঁকিপূর্ণ দেশের অবদান খুবই সীমিত হলেও, তাদের উপর শুল্কের প্রভাব হবে বহুগুণ বেশি। ফলে তাদের সামান্য অগ্রগতি ও রপ্তানিনির্ভর উন্নয়ন পরিকল্পনাও হুমকির মুখে পড়বে বলে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে।

Facebook Comments Box

Posted ১১:৫৮ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ২৩ মে ২০২৫

sharebazar24 |

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  
মো. সিরাজুল ইসলাম সম্পাদক
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

৬০/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

হেল্প লাইনঃ 01742-768172

E-mail: sharebazar024@gmail.com