নিজস্ব প্রতিবেদক | শুক্রবার, ২৩ মে ২০২৫ | 236 বার পঠিত | প্রিন্ট
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, ২০২৫ সালের শেষে দেশে মূল্যস্ফীতির হার ৫ শতাংশে নেমে আসবে। তার মতে, আগামী জুন মাসে মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়াবে ৮ শতাংশে এবং আগস্ট নাগাদ তা আরও কমে ৭ শতাংশে নেমে আসবে।
বৃহস্পতিবার (২২ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাজারভিত্তিক বিনিময় হারের প্রয়োগ ও প্রভাব’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি। দৈনিক বণিক বার্তা আয়োজিত এ গোলটেবিল আলোচনায় গভর্নর দেশের মুদ্রানীতি, বিনিময় হার ও মূল্যস্ফীতির সামষ্টিক প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
গভর্নর বলেন, “মূল্যস্ফীতি ৩-৪ শতাংশের মধ্যে রাখা গেলে তা এক্সচেঞ্জ রেটকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করবে। ভারতের মতো আমাদের প্রতিবেশী দেশে মূল্যস্ফীতি এখন ২-৩ শতাংশের মধ্যে। আমাদেরও সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “সামষ্টিক অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করা না গেলে মুদ্রার বিনিময় হার ধরে রাখা সম্ভব হবে না। তবে এখন ব্যালান্স অব পেমেন্ট আগের চেয়ে অনেকটা উন্নত।”
ব্যাংকিং খাতে রিক্যাপিটালাইজেশন আসছে
আহসান এইচ মনসুর জানান, আগামী বছর বাংলাদেশ ব্যাংক কিছু বড় হস্তক্ষেপ নিতে যাচ্ছে, যার ফলে ব্যাংকগুলো নতুন করে মূলধন পুনর্গঠন (রিক্যাপিটালাইজ) করতে পারবে।
তিনি বলেন, “আমরা নিজেরা নিজেদের গরিব করে রাখছি। অথচ বাংলাদেশিদের বিপুল সম্পদ বিদেশে রয়ে গেছে, শুধুমাত্র নিরাপত্তার অভাবেই। এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে পুঁজি পাচার (ক্যাপিটাল ফ্লাইট) থামানো যাবে না।”
গভর্নর দাবি করেন, ইতোমধ্যে দেশ থেকে ২ থেকে আড়াই লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব অর্থনীতিতে পড়ছে। “এই কারণে উচ্চ রিটার্ন অফার দেওয়ার পরও আমানতের প্রবৃদ্ধি হচ্ছে না। কারণ টাকা দেশে নেই,” বলেন তিনি।
আমদানি ও বৈদেশিক বাণিজ্য
গভর্নর বলেন, বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম কমে আসায় আগের মতো পরিমাণে পণ্য আমদানি করেও দেশে বৈদেশিক মুদ্রার চাপ অনেকটাই কমেছে। তবে আমদানিতে কৃত্রিমভাবে বিধিনিষেধ দেওয়ার পক্ষপাতী নন তিনি। “যদি কেউ বিলাস পণ্য ট্যাক্স দিয়ে আমদানি করতে চায়, সেটা তাদের অধিকার,” মন্তব্য করেন তিনি।
ফরোয়ার্ড মার্কেট বিকাশে ব্যাংকগুলোকে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান
এক্সচেঞ্জ রেট ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় ব্যাংকগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে গভর্নর বলেন, “আপনারা রিস্ক বিবেচনা করে স্পট পেমেন্ট করতে পারেন। ফরোয়ার্ড মার্কেট গড়ে তুলুন। এটি বাজার স্থিতিশীলতায় ভূমিকা রাখবে।”
শেষ পর্যন্ত গভর্নরের বক্তব্যে একটি সুস্পষ্ট বার্তা উঠে আসে— মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরা গেলে এক্সচেঞ্জ রেট এবং সামষ্টিক অর্থনীতির ভারসাম্য ধরে রাখা সম্ভব হবে, যা বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক হবে।
Posted ৭:২৬ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ২৩ মে ২০২৫
sharebazar24 | sbazaradmin
.
.