নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | 20 বার পঠিত | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে শুধুমাত্র নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়। বরং এ লক্ষ্যে বিনিয়োগকারী এবং সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত সহযোগিতা অপরিহার্য। বাজার ঊর্ধ্বমুখী কিংবা নিম্নমুখী হলে তার সকল কৃতিত্ব বা ব্যর্থতার দায় এককভাবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওপর চাপানো সম্পূর্ণভাবে অনুচিত। বাজারকে স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখতে ডিএসই, সিএসই, সিডিবিএল এবং আইসিবিসহ সব প্রতিষ্ঠানেরই দায়িত্ব রয়েছে। একইভাবে এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন না করলে কেবল নিয়ন্ত্রক সংস্থার একক প্রচেষ্টায় বাজার স্থিতিশীল হবে না।
তাদের মতামত অনুযায়ী, বাজার স্থিতিশীল রাখতে যথাযথ মনিটরিং প্রয়োজন। পাশাপাশি সার্ভিল্যান্স বিভাগের দায়িত্বও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কোম্পানির শেয়ারের দর অস্বাভাবিক হারে একটানা বাড়লে শুধু কোম্পানিটিকে শোকজ করা নয়, বরং যে সকল বিনিয়োগকারী ধারাবাহিকভাবে শেয়ারটি কিনে অতিমূল্যায়ন করছেন তাদেরকেও শোকজের আওতায় আনা উচিত। অন্যদিকে, কোনো কোম্পানির দর ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকলে তা পতন থেকে ফিরিয়ে আনতে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। এছাড়া বিনিয়োগকারীদেরও অতিরিক্ত মূল্যে শেয়ার কেনা থেকে বিরত থাকা উচিত। একই সঙ্গে পতনের বাজারে শেয়ার বিক্রি না করে বরং ক্রয় বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীসহ সকল শ্রেণীর বিনিয়োগকারীর লেনদেনে অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে।
এদিকে আজ (২৮ সেপ্টেম্বর) সূচকের পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের পাশাপাশি টাকার অঙ্কে লেনদেনও কমেছে। একই সঙ্গে লেনদেনে অংশ নেয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দরও হ্রাস পেয়েছে।
তাদের মতে, আজকের বাজার পরিস্থিতিকে নেতিবাচক বলা যায় না। এটি গতানুগতিক চিত্র। তবে এই চিত্র আরও স্থিতিশীল হওয়া প্রয়োজন। আজ লেনদেন শুরুর পর সূচক কিছুটা স্বাভাবিক ছিল। প্রকৃতপক্ষে শেয়ার ক্রয় বাড়লেই কেবল সূচক বাড়তে পারে। বাজার পড়তে দেখলে অনেকেই শেয়ার ক্রয় কমিয়ে দেন, যা নেতিবাচক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। একইভাবে উত্থানের বাজারে শেয়ার ক্রয় বেড়ে যায়। তবে এই সময়ে শেয়ার বিক্রির পাশাপাশি ক্রয়ও করা উচিত। তবেই বাজার স্থিতিশীল হবে। প্রকৃতপক্ষে শেয়ার ক্রয়ের ক্ষেত্রে গুজবে কান দেয়া উচিত নয়। শেয়ার কেনার আগে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নেয়া প্রয়োজন। তবেই পুঁজি সুরক্ষিত রেখে মুনাফা অর্জন সম্ভব।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সোমবার সপ্তাহের দ্বিতীয় কর্মদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬.৮৮ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫২৫.৮৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এদিন অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস ৩.১২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১০০.১৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ডিএসই-৩০ সূচক ১.৩৫ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৯৭.৯৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
আজ ডিএসইতে মোট ৩৯৪টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে ১২৫টি প্রতিষ্ঠানের দর বেড়েছে, ২২৪টির দর কমেছে এবং ৪৫টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
ডিএসইতে এদিন প্রায় ৭৪৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের দিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল প্রায় ৭২৭ কোটি ৪০ লাখ টাকার। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় আজ লেনদেন বেড়েছে প্রায় ১৯ কোটি ৬ লাখ টাকা।
এদিকে অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম এক্সচেঞ্জে (সিএসই) আজ ১০ কোটি ৯৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের দিন সিএসইতে ৩৯ কোটি ৫২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছিল।
আজ সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৯০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে ৭১টির, কমেছে ৯৮টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২১টির।
এদিন সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৫.৫৫ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৭৭৭.৭৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের দিন সূচক সিএএসপিআই ১২৮.৮৭ পয়েন্ট কমেছিল।
Posted ৩:২১ পিএম | সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
sharebazar24 | sajed khan
.
.