শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আইসিবির ঋণ পরিশোধের সময় বাড়ালো সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬ | 23 বার পঠিত | প্রিন্ট

শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আইসিবির ঋণ পরিশোধের সময় বাড়ালো সরকার
Responsive Ad Banner

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া ৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ পরিশোধে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)-কে আরও তিন বছর সময় দিয়েছে সরকার। তবে সময়সীমা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির ওপর একাধিক কঠোর শর্তও আরোপ করা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ (এফআইডি) জারি করা এক চিঠিতে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের ১৩ মে থেকে কার্যকরভাবে আইসিবির ঋণের বিপরীতে সরকারের দেওয়া সার্বভৌম গ্যারান্টির মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে এই বাড়তি সময়ের মধ্যেই ৩ হাজার কোটি টাকার মূল ঋণ সম্পূর্ণ পরিশোধ করতে হবে। ঋণচুক্তির অন্যান্য সব শর্ত আগের মতোই বহাল থাকবে।

Responsive Ad Banner

জানা গেছে, চলতি বছরের মে মাসে ঋণ পরিশোধের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হলেও তীব্র তারল্য সংকটের কারণে আইসিবি তা পরিশোধ করতে পারেনি। এ পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটি সরকারের কাছে সময় বাড়ানোর আবেদন জানায়।

সরকারের কাছে দেওয়া আবেদনে আইসিবি উল্লেখ করে, নির্ধারিত সময়েই ঋণ পরিশোধ করতে হলে শেয়ারবাজারে তাদের ধারণকৃত শেয়ার বিক্রি করতে হবে। এতে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার পাশাপাশি অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এফআইডির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শেয়ারবাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাই সার্বভৌম গ্যারান্টির মেয়াদ বৃদ্ধির প্রধান উদ্দেশ্য। তাই এই সময়ের মধ্যে আইসিবির শেয়ার কেনাবেচা ও বিনিয়োগ পোর্টফোলিও পুনর্গঠন কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।

একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটিকে প্রশাসনিক ও পরিচালন ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা, ক্রমবর্ধমান সুদের ব্যয় কমানো এবং বিনিয়োগ পোর্টফোলিওতে সৃষ্ট মূলধন ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে নির্দিষ্ট সময়সীমাভিত্তিক ও বাস্তবায়নযোগ্য একটি ‘বিজনেস রিকভারি প্ল্যান’ প্রণয়ন করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে জমা দিতে হবে। ওই পরিকল্পনার বাস্তবায়নের অগ্রগতিও নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে।

এ ছাড়া বর্ধিত সময়ের পুরো মেয়াদে প্রতি তিন মাস অন্তর আইসিবিকে তাদের তারল্য পরিস্থিতি, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ কার্যক্রম এবং ঋণ পরিশোধের প্রস্তুতির অগ্রগতি সম্পর্কে হালনাগাদ প্রতিবেদন অর্থ বিভাগ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে জমা দিতে হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় করে নতুন ঋণ পরিশোধ সূচিও চূড়ান্ত করে সরকারের কাছে উপস্থাপন করতে হবে।

বর্তমানে দীর্ঘমেয়াদি মন্দার কারণে আইসিবি বড় ধরনের মূলধন সংকটে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা প্রায় ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার শেয়ারের বাজারমূল্য ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে কমে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটির তহবিলে প্রায় ৫ হাজার ৫০৬ কোটি টাকার মূলধন ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

এ অবস্থায় রাষ্ট্রায়ত্ত বিভিন্ন ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের বিপরীতে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার সুদও পরিশোধ করতে পারেনি আইসিবি। একসময় শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে শত শত কোটি টাকা মুনাফা করা প্রতিষ্ঠানটি এখন ধারাবাহিক লোকসানের মুখে রয়েছে।

আইসিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অতীতের অনিয়মের অভিযোগের পর বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ সরকারি তহবিল ব্যবস্থাপনায় বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছে। পোর্টফোলিও ম্যানেজমেন্ট কমিটির ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং ব্লক মার্কেটের মাধ্যমে শেয়ার কেনা বন্ধ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করা হয় এবং প্রতি ১৫ দিন পরপর সেই প্রতিবেদন পরিচালনা পর্ষদের সভায় উপস্থাপন করা হয়। কর্মকর্তাদের দাবি, এর ফলে বিনিয়োগজনিত ক্ষতির গতি কিছুটা কমেছে।

তবে আইসিবির কর্মকর্তাদের মতে, প্রতিষ্ঠানটিকে টেকসইভাবে ঘুরে দাঁড় করাতে সরকারের কাছ থেকে আরও স্বল্পসুদে অর্থায়ন প্রয়োজন। তাদের ভাষ্য, বর্তমানে আইসিবির বার্ষিক পরিচালন ব্যয় ১০০ থেকে ১২০ কোটি টাকা হলেও শুধু ঋণের সুদ পরিশোধেই বছরে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। ফলে অতিরিক্ত স্বল্পসুদে অর্থায়ন ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির পুনরুদ্ধার কঠিন হবে।

আইসিবির আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে মূলধনী মুনাফা, লভ্যাংশ এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠান থেকে অর্জিত মোট আয় ঋণের সুদ ব্যয়ের চেয়েও কম। পাশাপাশি পরিচালন ব্যয় এবং বিনিয়োগের বিপরীতে সংরক্ষণ (প্রভিশন) রাখার কারণে লোকসানের পরিমাণ আরও বাড়ছে।

প্রতিষ্ঠানটির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আইসিবির রেকর্ড ১ হাজার ২১৩ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। আর ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৮৮ কোটি টাকা। যদিও শেষ প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন এখনও প্রকাশ হয়নি, তবুও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, পুরো অর্থবছর শেষেও আইসিবি লোকসানেই থাকবে।

Facebook Comments Box

Posted ৬:২৯ পিএম | বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

sharebazar24 |

মো. সাজিদ খান প্রধান সম্পাদক
মো. সিরাজুল ইসলাম সম্পাদক
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

৬০/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

হেল্প লাইনঃ 01742-768172

E-mail: sharebazar024@gmail.com