রবিবার ২৫শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ব্রেকিং নিউজ >>
ব্রেকিং নিউজ >>

রপ্তানির নামে অর্থপাচার ঠেকাতে কঠোর মনিটরিংয়ের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বুধবার, ০৯ জুলাই ২০২৫ | 194 বার পঠিত | প্রিন্ট

রপ্তানির নামে অর্থপাচার ঠেকাতে কঠোর মনিটরিংয়ের নির্দেশ

রপ্তানির আড়ালে আন্ডার ও ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে অর্থপাচার ঠেকাতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেওয়া এ ধরনের অনিয়ম যেকোনো মূল্যে বন্ধ করতে হবে।

মঙ্গলবার (৮ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংক ও দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) সঙ্গে অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে এটিই প্রথম উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। সভায় গভর্নর ছাড়াও ডেপুটি গভর্নর, নির্বাহী পরিচালক ও সব ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান জানান, এখন থেকে এলসি দায় পরিশোধের পরই গ্রাহকের নামে ফোর্স লোন তৈরি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া অর্থপাচার রোধে ব্যাংকগুলোকে কঠোর নজরদারি ও মনিটরিং জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, অর্থনীতি নিয়ে গঠিত শ্বেতপত্র কমিটির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, গত ১৫ বছরে প্রতিবছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার অর্থপাচার হয়েছে; যা টাকার অঙ্কে প্রায় ২৮ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। প্রধানত আন্ডার ও ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে এই বিশাল অঙ্কের অর্থ দেশের বাইরে পাচার হয়েছে।

সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, জুলাই মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ও আহতদের পরিবারকে সহায়তার জন্য ‘ব্যাংকার্স ফান্ড’ গঠন করা হবে। প্রাথমিকভাবে এর আকার হবে ২৫ কোটি টাকা এবং এতে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সব বাণিজ্যিক ব্যাংক অবদান রাখবে।

অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সঞ্চয়পত্রের বিকল্প হিসেবে ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করার পরিকল্পনাও সভায় জানানো হয়। কারণ বর্তমানে এক বছর মেয়াদি ট্রেজারি বিলে সুদহার ১১.৬০ শতাংশ এবং দীর্ঘমেয়াদি বন্ডে সর্বোচ্চ ১২.১৭ শতাংশ; যা করমুক্ত ও বিক্রয়যোগ্য।

ডিজিটাল ব্যাংকিং প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, গ্রাহকদের অনলাইন ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ে আগ্রহী করতে ব্যাংকগুলোকে আরও আধুনিক প্রযুক্তি অবকাঠামো গড়ে তুলতে বলা হয়েছে। এতে সময় ও খরচ দুই-ই কমবে এবং গ্রাহকরা সহজেই ঘরে বসে ব্যাংকিং সেবা নিতে পারবেন।

এদিকে, ১ জুলাই অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে চার ধরনের সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমানো হয়েছে। পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে সাত লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে নতুন সুদহার ১১.৮৩ শতাংশ (পূর্বে ১২.৩৭%), তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে ১১.৮২ শতাংশ (পূর্বে ১২.৩০%), পারিবারিক সঞ্চয়পত্রে ১১.৯৩ শতাংশ (পূর্বে ১২.৫০%) এবং পেনশনার সঞ্চয়পত্রে ১১.৯৮ শতাংশ (পূর্বে ১২.৫৫%) নির্ধারণ করা হয়েছে।

Facebook Comments Box

Posted ৮:২৬ অপরাহ্ণ | বুধবার, ০৯ জুলাই ২০২৫

sharebazar24 |

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০৩১
মো. সিরাজুল ইসলাম সম্পাদক
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

৬০/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

হেল্প লাইনঃ 01742-768172

E-mail: sharebazar024@gmail.com