নিজস্ব প্রতিবেদক | শুক্রবার, ২৩ মে ২০২৫ | 135 বার পঠিত | প্রিন্ট
বাড়তে থাকা জীবনযাত্রার ব্যয় আর লাগাতার মূল্যস্ফীতির চাপের কারণে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের জীবনযাত্রায় নেমে এসেছে বিপর্যয়। দৈনন্দিন খরচ মেটাতে হিমশিম খাওয়ার মাঝেও যারা কিছুটা সঞ্চয় করতে পারছেন, তারা এখন সেই অর্থ ঝুঁকিমুক্তভাবে কোথায় বিনিয়োগ করবেন—তা নিয়ে ভাবছেন।
এই বাস্তবতায় সরকারি ট্রেজারি বন্ড হতে পারে একটি উত্তম বিকল্প। সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত এ বিনিয়োগ মাধ্যম এখন সঞ্চয়পত্রের চেয়েও বেশি মুনাফা দিচ্ছে। সরকারি গ্যারান্টিযুক্ত হওয়ায় ট্রেজারি বন্ডে ডিফল্টের আশঙ্কা নেই। নির্দিষ্ট সময় অন্তর সুদ প্রদানের পাশাপাশি কিছু বন্ডে কর রেয়াতের সুযোগও রয়েছে।
ট্রেজারি বন্ড কী?
ট্রেজারি বন্ড হচ্ছে সরকারের জারি করা ঋণপত্র, যেখানে নির্ধারিত মেয়াদ শেষে মূল অর্থ এবং নির্দিষ্ট হারে সুদ পরিশোধের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়। সাধারণত ৫ থেকে ২০ বছর বা তারও বেশি মেয়াদি হয়ে থাকে এই বন্ডগুলো। ছয় মাস অন্তর সুদ দেওয়া হয়, এবং এগুলো দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য অন্যতম নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত।
বর্তমান সুদের হার
বর্তমানে সরকারের ছয় ধরণের ট্রেজারি বন্ড রয়েছে, যেগুলোর সুদের হার সময় ও মেয়াদভেদে পরিবর্তিত হচ্ছে:
২ বছর মেয়াদি: ১১.৭২% – ১১.৯৭%
৩ বছর মেয়াদি: ১২.০০% – ১২.৯৪%
৫ বছর মেয়াদি: ১১.৩৮% – ১১.৯৯%
১০ বছর মেয়াদি: ১১.৫৫% – ১১.৮৮%
১৫ বছর মেয়াদি: ১২.৩৯% – ১২.৪০%
২০ বছর মেয়াদি: ১২.৪৪% – ১২.৪৬%
এই হারগুলো সঞ্চয়পত্রের চেয়ে অনেক ক্ষেত্রেই বেশি, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
কিভাবে বিনিয়োগ করবেন?
বাংলাদেশ ব্যাংক, প্রাইমারি ডিলার (পিডি) ব্যাংক, তফসিলি ব্যাংক ও অনুমোদিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ট্রেজারি বন্ড কেনা যায়। বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিত নিলামের মাধ্যমে বন্ড ইস্যু করে থাকে, যেখানে ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা অংশ নিতে পারেন।
এছাড়াও, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)-এ তালিকাভুক্ত কিছু বন্ড ব্রোকারেজ হাউসের মাধ্যমে বিও অ্যাকাউন্ট খুলে কেনা যায়।
কারা বিনিয়োগ করতে পারেন?
সরকারি ও বেসরকারি ব্যক্তি, প্রবাসী বাংলাদেশি, ব্যাংক, বীমা কোম্পানি, পেনশন ও গ্র্যাচুইটি ফান্ড, এনজিও, ট্রাস্ট, করপোরেট হাউস ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান—সবার জন্য ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।
বিনিয়োগের আগে কী বিবেচনায় রাখবেন?
বিনিয়োগের আগে বন্ডের মেয়াদ, সুদের হার এবং বাজারের বর্তমান অবস্থা বিবেচনা করা জরুরি। আপনার আর্থিক লক্ষ্য ও সময়সীমা অনুযায়ী বন্ড নির্বাচন করা উত্তম। প্রয়োজনে অর্থনৈতিক পরামর্শদাতার সঙ্গে পরামর্শ নিলে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়।
Posted ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ২৩ মে ২০২৫
sharebazar24 | sbazaradmin
.
.