মার্জিন বিধিমালা গেজেট প্রকাশ: মার্জিন ঋণের যোগ্যতায় নতুন শর্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬ | 31 বার পঠিত | প্রিন্ট

মার্জিন বিধিমালা গেজেট প্রকাশ: মার্জিন ঋণের যোগ্যতায় নতুন শর্ত
Responsive Ad Banner

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে মার্জিন অর্থায়ন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বিনিয়োগকারীর ঝুঁকি কমানো, মার্জিন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ এবং এই কার্যক্রমে শৃঙ্খলা বাড়াতে বিদ্যমান বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্জিন) বিধিমালা, ২০২৫-এর একাধিক বিধান সংশোধন করা হয়েছে। ১৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় এসব সংশোধনী প্রকাশ করা হয়।

সংশোধিত বিধিমালার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে—মার্জিন হিসাবে গ্রাহকের ইক্যুইটি মোট মার্জিন অর্থায়নের কমপক্ষে ৫০ শতাংশ রাখা, ইক্যুইটি ২৫ শতাংশের নিচে নেমে গেলে কোনো আগাম নোটিশ ছাড়াই প্রয়োজনীয় সিকিউরিটিজ বিক্রির সুযোগ, মার্জিন ঋণের সর্বোচ্চ অনুপাত ১:১ নির্ধারণ, একক সিকিউরিটিতে মোট বকেয়া মার্জিন অর্থায়নের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ সীমা এবং মার্জিন অর্থায়নকারীর নিজস্ব মূলধন বা নিট সম্পদের চারগুণ পর্যন্ত অর্থায়নের সীমা।

Responsive Ad Banner

কোন শেয়ারে মার্জিন ঋণ দেওয়া যাবে
কোন কোন শেয়ারে মার্জিন ঋণ দেওয়া যাবে, সেই যোগ্যতার ক্ষেত্রেও কঠোর শর্ত রাখা হয়েছে। সাধারণ কোম্পানির ক্ষেত্রে মূল্য-আয় অনুপাত বা পিই ৪০-এর বেশি হলে এবং শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস ঋণাত্মক হলে ওই শেয়ারে মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না। তালিকাভুক্ত জীবন বীমা কোম্পানির ক্ষেত্রে পিইর পরিবর্তে মূল্য-সম্পদ অনুপাত বা পিবি বিবেচনা করা হবে। পিবি ৩-এর বেশি অথবা নিট সম্পদ মূল্য ঋণাত্মক হলে সংশ্লিষ্ট শেয়ারে মার্জিন ঋণ দেওয়া যাবে না।

মার্জিন অর্থায়নে ইক্যুইটি-ঋণের অনুপাত সর্বোচ্চ ১:১
সংশোধিত বিধানে কোনো মার্জিন অর্থায়নকারী গ্রাহকের ইক্যুইটির চেয়ে বেশি মার্জিন অর্থায়ন করতে পারবে না। অর্থাৎ গ্রাহকের ইক্যুইটি ও মার্জিন অর্থায়নের অনুপাত সর্বোচ্চ ১:১ থাকবে। পাশাপাশি কোনো মার্জিন অর্থায়নকারী তার প্রকৃত মূলধন বা নিট সম্পদের চারগুণের বেশি মার্জিন অর্থায়ন করতে পারবে না।

এর ফলে একজন বিনিয়োগকারী নিজের যত টাকা ইক্যুইটি হিসেবে রাখতে পারবেন, সর্বোচ্চ তত টাকাই মার্জিন ঋণ হিসেবে নিতে পারবেন। একই সঙ্গে অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক ঝুঁকিও তার মূলধন ও নিট সম্পদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সীমাবদ্ধ থাকবে।

৫০ শতাংশ রক্ষণাবেক্ষণ মার্জিন বাধ্যতামূলক
নতুন বিধিমালায় মার্জিন হিসাবে সার্বক্ষণিকভাবে ‘রক্ষণাবেক্ষণ মার্জিন’ হিসেবে গ্রাহকের ইক্যুইটি মোট মার্জিন অর্থায়নের ৫০ শতাংশের কম হতে পারবে না। অর্থাৎ শেয়ারদর কমে যাওয়াসহ যেকোনো কারণে ইক্যুইটি ৫০ শতাংশের নিচে নেমে গেলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে মার্জিন কল দিতে হবে।

মার্জিন কল লিখিতভাবে অথবা গ্রাহকের ই-মেইল ঠিকানা ও নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে বার্তা পাঠিয়ে দিতে হবে। প্রয়োজনে ফোন কলের মাধ্যমেও গ্রাহককে মার্জিন কল সম্পর্কে জানাতে হবে।

মার্জিন কল দেওয়ার পর তিন ট্রেডিং দিবস পার হলেও কোনো গ্রাহক প্রয়োজনীয় মার্জিন জমা দিতে ব্যর্থ হলে বা তার ইক্যুইটি ৫০ শতাংশে উন্নীত বা সংরক্ষণ করতে ব্যর্থ হলে তাকে নতুন করে মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না।

২৫ শতাংশে নামলেই নোটিশ ছাড়াই শেয়ার বিক্রি
গ্রাহকের ইক্যুইটি যদি মার্জিন অর্থায়নের ২৫ শতাংশের নিচে নেমে যায়, তাহলে পরিস্থিতি সামাল দিতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এই অবস্থায় কোনো আগাম নোটিশ ছাড়াই মার্জিন অর্থায়নকারী সংশ্লিষ্ট হিসাবে থাকা প্রয়োজনীয় সিকিউরিটিজ বিক্রি করতে পারবে।

মার্জিন হিসাবে ন্যূনতম ৩ লাখ টাকার বিনিয়োগ
মার্জিন অর্থায়ন নেওয়ার সময় কোনো গ্রাহকের হিসাবে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে ন্যূনতম ৩ লাখ টাকার বিনিয়োগ না থাকলে ওই হিসাবে মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না।

এক শেয়ারে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ অর্থায়ন
মার্জিন অর্থায়নকারীদের একক সিকিউরিটিতে ঝুঁকি সীমিত রাখতেও নতুন সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনো মার্জিন অর্থায়নকারী তার মোট বকেয়া মার্জিন অর্থায়নের ২০ শতাংশের বেশি কোনো একক সিকিউরিটিতে অর্থায়ন করতে পারবে না।

আলাদা ব্যাংক হিসাব বাধ্যতামূলক
মার্জিন অর্থায়ন কার্যক্রমের জন্য অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের নামে একটি পৃথক ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করতে হবে। ওই হিসাব কেবল মার্জিন অর্থায়ন-সংক্রান্ত কার্যক্রমে ব্যবহার করা যাবে।

গঠন করতে হবে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটি
মার্জিন অর্থায়নকারীর নিজস্ব মার্জিন অর্থায়ন নীতিমালা এবং বিএসইসির বিধিমালা যথাযথভাবে পরিচালনা, প্রয়োগ, বাস্তবায়ন ও তদারকির জন্য কমপক্ষে দুই সদস্যের একটি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করতে হবে।

গবেষণা দলের বেতন ট্রেডিং কমিশনের সঙ্গে যুক্ত নয়
সংশোধিত বিধিমালায় মার্জিন অর্থায়নকারীর গবেষণা দলের সদস্যদের বেতন-ভাতা ও আনুষঙ্গিক সুবিধা সরাসরি ট্রেডিং কমিশন আয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত না করার বিধান রাখা হয়েছে।

শরিয়াহভিত্তিক মার্জিন অর্থায়নে সুপারভাইজরি বোর্ড বাধ্যতামূলক
কোনো প্রতিষ্ঠান ইসলামিক শরিয়াহভিত্তিক মার্জিন অর্থায়ন পদ্ধতি চালু করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে শরিয়াহ সুপারভাইজরি বোর্ড থাকতে হবে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন মার্জিন বিধিমালা বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি কমাতে এবং মার্জিন অর্থায়নে শৃঙ্খলা আনতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তবে ইক্যুইটি ২৫ শতাংশের নিচে নেমে গেলে নোটিশ ছাড়াই শেয়ার বিক্রির বিধান বিনিয়োগকারীদের জন্য চাপ সৃষ্টি করতে পারে। পিই ৪০-এর সীমা অনেক কোম্পানিকে মার্জিন ঋণের আওতার বাইরে ফেলে দিতে পারে বলে মনে করছেন তারা। বিধিমালা বাস্তবায়নের পর বাজারের ওপর এর প্রভাব পর্যবেক্ষণে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

Facebook Comments Box

Posted ১২:২৭ এএম | মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

sharebazar24 |

মো. সাজিদ খান প্রধান সম্পাদক
মো. সিরাজুল ইসলাম সম্পাদক
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

৬০/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

হেল্প লাইনঃ 01742-768172

E-mail: sharebazar024@gmail.com