নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫ | 281 বার পঠিত | প্রিন্ট
টানা পাঁচ কার্যদিবস ধরে সূচক ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর সোমবার (৩০ জুন) দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এ সূচক সামান্য পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন ডিএসইএক্স সূচক ১.৩৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৪,৮৩৮.৩৯ পয়েন্টে। তবে বাজারের সামগ্রিক দুর্বলতা সত্ত্বেও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় চমক হয়ে উঠে এসেছে।
ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, সূচকের পতনের দিনে ইসলামী ব্যাংক একাই সূচকে প্রায় ২১ পয়েন্ট যোগ করেছে, যা সোমবারের বাজার পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
এদিন ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারদর ৩ টাকা ৬০ পয়সা বা ৯.৭৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৪০ টাকা ৫০ পয়সায়, যা গত এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ দর। দিনের শুরুতে শেয়ারের দর ছিল ৩৭ টাকা ১০ পয়সা। চাহিদার তুলনায় বিক্রেতার ঘাটতির কারণে ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ার বিক্রেতা সংকটে হল্টেড হয়।
সোমবার কোম্পানিটির মোট ১৬ লাখ ২৭ হাজার ৬৪৪টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যার বাজারমূল্য দাঁড়ায় ৬ কোটি ৪৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
কোম্পানির প্রোফাইল ও মৌলিক তথ্য১৯৮৫ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া ‘এ’ ক্যাটাগরির এ ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন ২,০০০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ১,৬০৯ কোটি ৯৯ লাখ ১০ হাজার টাকা।
বর্তমানে কোম্পানিটির রিজার্ভে রয়েছে ৫,৬৭৪ কোটি ৭ লাখ টাকা, যা ব্যাংকটির আর্থিক সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
এক সময় ইসলামী ব্যাংক শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশের বেশি ডিভিডেন্ড প্রদান করলেও, ২০১৭ সাল থেকে ব্যাংকটি ধারাবাহিকভাবে শুধুমাত্র ১০ শতাংশ নগদ ডিভিডেন্ড দিয়ে আসছে।
২০২৪ সালের জন্য এখনো কোনো ডিভিডেন্ড ঘোষণা না করলেও কোম্পানিটি এরই মধ্যে ডিভিডেন্ড ঘোষণার জন্য তিন মাস সময় চেয়েছে।
ইসলামী ব্যাংকের মোট ১৬০ কোটি ৯৯ লাখ ৯০ হাজার ৬৬৮টি শেয়ারের মধ্যে:
উদ্যোক্তা-পরিচালকদের হাতে রয়েছে মাত্র ০.১৮ শতাংশ,
প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের দখলে রয়েছে ৭৪.৮২ শতাংশ,
বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নিয়ন্ত্রণ করছে ১৭.৮৯ শতাংশ, এবং
সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ৭.১১ শতাংশ শেয়ার।
আলোচিত এস আলম গ্রুপ কর্তৃক পরিচালিত ইসলামী ব্যাংক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আর্থিক কাঠামো ও নীতিগত কারণে বিতর্কের মুখে পড়ে। তবে সোমবারের লেনদেন পরিস্থিতি ইঙ্গিত দেয় যে, অপ্রত্যাশিতভাবেই বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে কোম্পানিটির শেয়ারের প্রতি। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এটি সাময়িক চাহাদার কারণে হয়ে থাকতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে আস্থা ফেরাতে হলে ব্যাংকটির ডিভিডেন্ড নীতি ও আর্থিক অবস্থানে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে।
বাজারে সূচকের পতনের দিনেও ইসলামী ব্যাংকের এই উত্থান শেয়ারবাজারে আশার আলো জাগায়। তবে সতর্ক বিনিয়োগই হতে পারে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত।
Posted ৬:৪০ অপরাহ্ণ | সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫
sharebazar24 | sbazaradmin
.
.