নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ০২ জুলাই ২০২৫ | 160 বার পঠিত | প্রিন্ট
উচ্চ সুদহার, কঠোর মুদ্রানীতি ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার ফলে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ দিন দিন স্থবির হয়ে পড়ছে। ঋণের সুদ বহনযোগ্য না হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা নতুন প্রকল্পে অর্থায়ন থেকে সরে আসছেন, যার প্রভাব পড়ছে শিল্প, উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, কড়াকড়ি মুদ্রানীতি ও ঋণের ব্যয় বৃদ্ধির কারণে উদ্যোক্তারা ঝুঁকি নিতে অনাগ্রহী হয়ে উঠছেন। ফলে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক গতি ব্যাহত হচ্ছে এবং বেসরকারি বিনিয়োগে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের ভাটা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মে মাস পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ৬.৯৫ শতাংশে নেমে এসেছে, যেখানে গত বছরের একই সময়ে এ হার ছিল ১০.৩৫ শতাংশ। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ১৪ শতাংশ কম। চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রবৃদ্ধি ছিল ৭.১৫ শতাংশ এবং করোনা-পরবর্তী ২০২১ সালের মে মাসে এ হার ছিল ৭.৫৫ শতাংশ।
এদিকে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই অর্থবছরে বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল ৯ দশমিক ৮০ শতাংশ, যা অর্জিত হচ্ছে না। অর্থনীতিবিদদের মতে, নীতি সুদের হার ১০ শতাংশে উন্নীত হওয়ায় ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণে সুদহার বেড়ে এখন ১৪ থেকে ১৬ শতাংশে পৌঁছেছে। অথচ কয়েক বছর আগেও এই হার ছিল ৮ থেকে ৯ শতাংশ।
এই পরিস্থিতিতে ব্যবসায়িক খরচ বেড়ে যাওয়ায় উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগ থেকে পিছিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের আরও সতর্ক করে তুলছে।
অন্যদিকে, রাজস্ব ঘাটতি মেটাতে সরকার ব্যাংক থেকে ব্যাপক হারে ঋণ নিচ্ছে, যার ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সরকারকে ঋণ দেওয়াকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এতে বেসরকারি খাতের জন্য বরাদ্দযোগ্য অর্থ সংকুচিত হয়ে পড়ছে। অর্থনীতির পরিভাষায় একে বলা হয় “ক্রেডিট ডিসপ্লেসমেন্ট।”
চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের রিসার্চ ফেলো ও অর্থনীতিবিদ এম হেলাল আহমেদ জনি বলেন, “কঠোর মুদ্রানীতির কারণে মূল্যস্ফীতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বেসরকারি খাতে। উচ্চ সুদহার উদ্যোক্তাদের নিরুৎসাহিত করছে। একই সঙ্গে সরকারের রাজস্ব আয় কম থাকায় ব্যাংক থেকে ধার করার প্রবণতা বাড়ছে, যা বেসরকারি খাতকে আরও চাপে ফেলছে।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজেট ঘাটতি কমাতে রাজস্ব আয় বাড়ানোর পাশাপাশি, বিনিয়োগে উৎসাহ দিতে দীর্ঘমেয়াদি ও সহজ শর্তে ঋণ পাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে। তা না হলে অর্থনীতির পুনরুদ্ধার দীর্ঘ সময়ের জন্য বিলম্বিত হতে পারে।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, একদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যদিকে বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে মুদ্রানীতিতে ভারসাম্য আনতে হবে। নতুবা উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনীতিই পড়বে ঝুঁকির মুখে।
Posted ৮:৫০ অপরাহ্ণ | বুধবার, ০২ জুলাই ২০২৫
sharebazar24 | sbazaradmin
.
.