নিজস্ব প্রতিবেদক | শুক্রবার, ২৩ মে ২০২৫ | 250 বার পঠিত | প্রিন্ট
শেয়ারবাজারে আস্থা ও বিনিয়োগ উৎসাহ বাড়াতে বড় পরিসরে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রাথমিকভাবে ২১টি লাভজনক ও কৌশলগত সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানির ৫ শতাংশ শেয়ার সরাসরি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)-কে।
বৃহস্পতিবার (২২ মে) অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক এবং আইসিবি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিরঞ্জন চন্দ্র দেবনাথ।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার শেয়ারবাজারে নতুন উদ্দীপনা ও আস্থা ফিরিয়ে আনতে চায়, যা দেশের অর্থনীতির টেকসই প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তালিকাভুক্তির প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠানসমূহ:
১. নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি
২. বাখরাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি
৩. গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি
৪. জালালাবাদ গ্যাস সিস্টেম
৫. সিলেট গ্যাসফিল্ড
৬. বাংলাদেশ গ্যাসফিল্ড
৭. রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি
৮. পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি
৯. লিকুফায়েড পেট্রোলিয়াম গ্যাস
১০. বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড (BTCL)
১১. টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড
১২. টেলিফোন শিল্প সংস্থা (TSS)
১৩. বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস
১৪. সোনারগাঁও হোটেল
১৫. ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরি
১৬. কর্ণফুলী পেপার মিলস
১৭. চিটাগং ডকইয়ার্ড
১৮. বাংলাদেশ ইনস্যুলেটর অ্যান্ড স্যানিটারিওয়্যার ফ্যাক্টরি
১৯. প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ
২০. আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি
২১. ইলেকট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানি অব বাংলাদেশ
শেয়ারবাজার সংস্কারে প্রধান উপদেষ্টার ৫ নির্দেশনা
এর আগে ১১ মে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস শেয়ারবাজার পুনর্জাগরণের লক্ষ্যে পাঁচটি নির্দেশনা দেন। সেগুলো হলো:
১. সরকারি মালিকানাধীন লাভজনক কোম্পানিকে বাজারে আনতে পদক্ষেপ
২. তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহারে ব্যবধান বাড়ানো
৩. বিদেশি বিশেষজ্ঞ এনে শেয়ারবাজার সংস্কারে গতি আনা
৪. অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা
৫. দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নে ব্যাংকের পরিবর্তে বাজারকে উৎস হিসেবে ব্যবহার
এসব নির্দেশনার বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে ছয় মাসের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
উৎসাহমূলক কৌশল
বৈঠকে আরও জানানো হয়, যেসব সরকারি প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত হতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না, তাদের জোর না করে বরং আর্থিক প্রণোদনার মাধ্যমে বাজারমুখী করার পরিকল্পনা নেওয়া হবে। এই কৌশল বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া, বিএসইসি জানিয়েছে যে, আগামী বাজেটে তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর ব্যবধান ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এটি কার্যকর হলে বৃহৎ কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারমুখী করতে আরও উৎসাহ যোগাবে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়লে বাজার আরও গভীর, শক্তিশালী এবং টেকসই হয়ে উঠবে, যা বিনিয়োগ পরিবেশকে উন্নত করতে সহায়ক হবে।
Posted ৩:৩০ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ২৩ মে ২০২৫
sharebazar24 | sbazaradmin
.
.