নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ১৯ মে ২০২৫ | 188 বার পঠিত | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারের দীর্ঘস্থায়ী মন্দা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা কাটাতে দ্রুত ও কার্যকর প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন ব্রোকারেজ হাউসগুলোর নেতারা। তাদের মতে, কাগজে-কলমে সংস্কার নয়, বাস্তবমুখী ও দৃশ্যমান পদক্ষেপই বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে।
রোববার (১৮ মে) ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় এই দাবি ওঠে। সভায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী ছাড়াও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ), বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) এবং সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিসিবিএল)-এর শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন।
বৈঠকটি এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হয় যখন টানা দরপতনের কারণে হতাশ বিনিয়োগকারীরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করছেন। কেউ কেউ কফিন ও জানাজার কাফনের মতো প্রতীক ব্যবহার করে বিএসইসি চেয়ারম্যান রাশেদ মাকসুদের পদত্যাগ দাবি করছেন।
সভায় ডিএসই চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বাজারের বর্তমান পরিস্থিতির বিশদ বিশ্লেষণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মূলধন ও অর্থবাজারের দুর্বল সমন্বয়, আইপিও প্রক্রিয়ার ধীরগতি, বন্ড ও মিউচুয়াল ফান্ড ব্যবস্থার অকার্যকারিতা, আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশে স্বচ্ছতার অভাব, অভ্যন্তরীণ লেনদেন ও দুর্বল তদারকিসহ একাধিক কাঠামোগত সমস্যার কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ক্ষুণ্ণ হয়েছে।
বাজার পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে তিনি স্বল্পমেয়াদি ত্রাণ ও দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংস্কারের সমন্বয়ে একটি বিস্তৃত প্যাকেজ প্রস্তাব করেন। তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে কর ও ফি-সংক্রান্ত প্রণোদনার কথা তুলে ধরেন। যেমন—বার্ষিক বিও হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ ফি সম্পূর্ণ মওকুফ, ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের জন্য মূলধন লাভ কর থেকে অব্যাহতি, ব্রোকারেজ কমিশন হার কমিয়ে ০.৩৫ শতাংশে আনা, ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ডিভিডেন্ড আয়ের করমুক্তি এবং উৎসে করকে চূড়ান্ত কর হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান।
তিনি আরও বলেন, নেতিবাচক ইক্যুইটির বোঝা ধাপে ধাপে কমানো, প্রতি ১ লাখ টাকার লেনদেনে অগ্রিম আয়কর ৫০ টাকা থেকে ১৫ টাকা নামানো এবং ব্রোকারদের একীভূত গ্রাহক অ্যাকাউন্ট থেকে ৭৫ শতাংশ ডিভিডেন্ড ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া জরুরি। বাকি ২৫ শতাংশ বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিলে সংরক্ষিত থাকবে।
ডিএসই চেয়ারম্যান প্রস্তাব করেন, তালিকাভুক্ত ও অনালিখিত কোম্পানির মধ্যে কর ব্যবধান ১০ শতাংশে নামানো, ৫০০ কোটি টাকার বেশি দীর্ঘমেয়াদি ঋণের জন্য মূলধন বাজার থেকে অর্থায়ন বাধ্যতামূলক করা এবং সম্পদ-সমর্থিত কর্পোরেট বন্ডের রিটার্ন করমুক্ত রাখা।
তিনি আগামী দুই বছরের মধ্যে আইপিও ও বন্ড ইস্যুর প্রক্রিয়া ডিজিটাল করার ওপর গুরুত্ব দেন। লাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ও শক্তিশালী দেশীয়-বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্ত করতে উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। পাশাপাশি সব বাজার-সম্পর্কিত কমিটিতে স্টক এক্সচেঞ্জ প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তির দাবি তোলেন।
সভায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী অংশগ্রহণকারীদের আশ্বস্ত করে বলেন, সরকার বাজার সংকট সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের ইতিবাচক সংকেত থাকলেও বাজারে এর প্রভাব দেখতে কিছু সময় লাগবে। বিএসইসি ইতোমধ্যে পাবলিক ইস্যু নীতিমালা সংস্কার ও ভালো পারফরম্যান্স করা কোম্পানির তালিকা নিশ্চিতকরণে কাজ করছে।
ডিএসই পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, শুধু খুচরা বিনিয়োগকারী নয়, ব্রোকারেজ হাউসগুলোও তীব্র আর্থিক চাপে রয়েছে। তিনি বিনিয়োগবান্ধব বাজেট প্রণয়ন, বিও হিসাব ফি হ্রাস, অগ্রিম আয়কর বাতিলসহ তাৎক্ষণিক ও বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত ছাড়া শেয়ারবাজারে আস্থা ফেরানো সম্ভব নয় বলে মনে করেন।
Posted ১:২১ অপরাহ্ণ | সোমবার, ১৯ মে ২০২৫
sharebazar24 | sbazaradmin
.
.