নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ২০ মে ২০২৫ | 213 বার পঠিত | প্রিন্ট
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সদস্যভুক্ত ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান শাহ মোহাম্মদ সগির অ্যান্ড কোং লিমিটেডের (ট্রেক নম্বর-১৭১) স্টক ব্রোকার ও স্টক ডিলার নিবন্ধন সনদ বাতিল করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে সমন্বিত গ্রাহক হিসাব থেকে বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাৎসহ একাধিক সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সম্প্রতি বিএসইসির মার্কেট অ্যান্ড ইন্টারমিডিয়ারিজ অ্যাফেয়ার্স ডিভিশন থেকে এ বিষয়ে একটি চিঠি ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে বিষয়টি প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) এমডিকে জানানো হয়েছে।
এর আগেও, ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর বিএসইসির ৭০০তম কমিশন সভায় প্রতিষ্ঠানটির ডিপি সনদ স্থগিত করা হয়েছিল। সেই সময় সমন্বিত গ্রাহক হিসাবে বড় অঙ্কের ঘাটতি ধরা পড়ে এবং পরবর্তীতে এর কার্যক্রম পর্যালোচনায় কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয় কমিশন।
বিএসইসির মুখপাত্র ও পরিচালক আবু কালাম বলেন, “শাহ মোহাম্মদ সগির অ্যান্ড কোং লিমিটেডের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম ও আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কমিশন এ প্রতিষ্ঠানটির ব্রোকার ও ডিলার সনদ বাতিল করেছে।”
অভিযোগের ইতিহাস
২০১৮ সালের ৩০ জুন শেষ হওয়া অর্থবছরে ডিএসইর ১৮৬টি ব্রোকারেজ হাউজের নিরীক্ষিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিএসইসি ১৮টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গ্রাহক অর্থের অনিয়মিত ব্যবহার সংক্রান্ত অভিযোগ পায়। এর মধ্যে শাহ মোহাম্মদ সগির অ্যান্ড কোং-এর গ্রাহক হিসাবে প্রায় ১৩ কোটি টাকার ঘাটতি পাওয়া যায়।
২০২০ সাল থেকে একে একে মশিহর সিকিউরিটিজ, তামহা সিকিউরিটিজ, বানকো সিকিউরিটিজ, সাবভ্যালি সিকিউরিটিজ, ডন সিকিউরিটিজসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মতো শাহ মোহাম্মদ সগির অ্যান্ড কোং-এও অর্থ আত্মসাৎ, জালিয়াতি ও অনিয়মের ঘটনা ঘটে।
২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির অর্জিত ও স্থগিত মুনাফা আটকে রাখার নির্দেশ দেয় কমিশন। এরপর ২০২২ সালে ডিএসই ও সিএসই-কে সব ব্রোকারেজ হাউজের হিসাব পর্যালোচনার নির্দেশ দেয় বিএসইসি। তাতে ১০৮টি প্রতিষ্ঠানে মোট ৫৮৫ কোটি টাকার বেশি ঘাটতি পাওয়া যায়। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান সেই ঘাটতি পূরণ করলেও, শাহ মোহাম্মদ সগির তা করেনি।
সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত
বিএসইসি জানায়, প্রতিষ্ঠানটি সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ রুলস, ২০২০-এর ৬(১), ৬(২), ও ৭(৩) বিধি, স্টক ব্রোকার ও ডিলারবিষয়ক বিধিমালা, ২০০০-এর বিধি ১১ ও দ্বিতীয় তফসিলের আচরণবিধি ১ এবং ডিপজিটরি প্রবিধানমালা, ২০০৩-এর ৩৪(১) ও (২) প্রবিধান লঙ্ঘন করেছে।
এইসব আইন লঙ্ঘনের প্রেক্ষিতে ২০০২ ও ২০০৯ সালে দেওয়া তাদের ব্রোকার ও ডিলার নিবন্ধন সনদ (নম্বর যথাক্রমে: ৩.১/ডিএসই-১৭১/২০০২/৬৪ এবং ৩.১/ডিএসই-১৭১/২০০৯/৩৪৭) বাতিল করা হয়েছে। ডিএসইকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছে কমিশন।
সাদ মুসা গ্রুপের মালিকানা ও মোহসিনের কারাদণ্ড
২০২২ সালের জানুয়ারিতে সাদ মুসা গ্রুপ প্রতিষ্ঠানটির শতভাগ মালিকানা অধিগ্রহণ করে। বিনিয়োগকারীদের অর্থ সমন্বয়ের কিছু শর্তে তাদের কার্যক্রম পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তবে সাদ মুসা গ্রুপের চেয়ারম্যান মুহম্মদ মোহসিনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, চেক প্রত্যাখ্যান ও দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের দ্বিতীয় যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালত তাকে চেক প্রত্যাখ্যান মামলায় মোট পাঁচ বছর কারাদণ্ড দেন। মামলাগুলো ছিল ন্যাশনাল ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখার দায়েরকৃত, যার মোট টাকার অঙ্ক ৫৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকারও বেশি।
সম্প্রতি প্রণোদনা প্যাকেজের ৪০৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে মুহম্মদ মোহসিনসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা করেছে।
Posted ১০:৫৪ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২০ মে ২০২৫
sharebazar24 | sbazaradmin
.
.