বৃহস্পতিবার ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ব্রেকিং নিউজ >>
ব্রেকিং নিউজ >>

বিনিয়োগকারীদের অনাগ্রহে বন্ড পরিকল্পনা ভেস্তে গেল নাভানা ফার্মার

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বুধবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | 201 বার পঠিত | প্রিন্ট

বিনিয়োগকারীদের অনাগ্রহে বন্ড পরিকল্পনা ভেস্তে গেল নাভানা ফার্মার

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহে ব্যর্থ হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশিত সাড়া না পাওয়ায় কোম্পানিটি নির্ধারিত সময়ের আগেই সংগৃহীত অর্থ ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মাত্র ৮ কোটি টাকা সংগ্রহে সীমাবদ্ধ
কোম্পানিটি মূলত ১৫০ কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা নিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত মাত্র ৮ কোটি টাকা তুলতে সক্ষম হয়। সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) নাভানা ফার্মার পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এই অর্থ ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। যদিও সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদনের ওপর নির্ভর করে।

রাজনৈতিক অস্থিরতায় ব্যর্থ সাবস্ক্রিপশন
গত বছরের আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্ড সাবস্ক্রিপশনের সময় ছিল। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বন্ড বিক্রি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নাভানা ফার্মা সময়সীমা বাড়াতে বিএসইসির কাছে আবেদন করলেও নতুন কমিশন সেই আবেদন নাকচ করে দেয়।

কোম্পানির ব্যাখ্যা
কোম্পানির সেক্রেটারি লরেন্স শ্যামল মল্লিক বলেন, “বন্ড থেকে যে পরিমাণ অর্থ সংগৃহীত হয়েছে তা কোম্পানির লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি। তাই বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

তবে ব্যাংক ঋণ পরিশোধে বন্ডের অর্থ ব্যবহার করার যে পরিকল্পনা ছিল, সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

ঋণ সংকটে নাভানা ফার্মা
২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত কোম্পানিটির স্বল্পমেয়াদী ঋণ ছিল ৪৬০ কোটি টাকা। এরই মধ্যে ব্যাংক ঋণ পুনঃঅর্থায়নের লক্ষ্য নিয়ে ২০২৩ সালের মার্চে ১৫০ কোটি টাকার একটি আংশিক রূপান্তরযোগ্য বন্ড ইস্যুর অনুমোদন পায় নাভানা ফার্মা।

📌 প্রতিটি বন্ডের মূল্য: ১ লাখ টাকা
📌 মেয়াদ: ৫ বছর
📌 রূপান্তর পরিকল্পনা: ৬০% (৯০ কোটি টাকা) শেয়ারে রূপান্তর, প্রতি বছর ২০% করে রূপান্তর শুরু হওয়ার কথা ছিল তৃতীয় বছর থেকে, বাকি অর্থ ফেরত দেওয়ার শর্ত ছিল পঞ্চম বছরে।

আইপিও অভিজ্ঞতা ও বর্তমান অবস্থা
এর আগে, ২০২২ সালে বুক-বিল্ডিং পদ্ধতিতে ৭৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করে শেয়ারবাজারে আসে নাভানা ফার্মা। সেই অর্থ দিয়ে নতুন উৎপাদন ভবন নির্মাণ, এসভিপিও সুবিধার আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণ এবং আংশিক ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়। এ বছরের জুন পর্যন্ত আইপিও তহবিলের ৯৭% এর বেশি ব্যবহার করেছে কোম্পানিটি।

আর্থিক ফলাফল ও ডিভিডেন্ড
নাভানা ফার্মা মানব ও পশুচিকিৎসার ওষুধ উৎপাদন করে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করছে।

২০২৪ সালে কোম্পানিটি ১৪% ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করে।

সে বছর শেয়ারপ্রতি আয় (EPS) দাঁড়ায় ৩ টাকা ৭৭ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ৩ টাকা ৫৯ পয়সা।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ৪৯ পয়সা, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৩ টাকা ৯ পয়সা।

 

Facebook Comments Box

Posted ৮:৪৯ অপরাহ্ণ | বুধবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

sharebazar24 |

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০৩১
মো. সিরাজুল ইসলাম সম্পাদক
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

৬০/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

হেল্প লাইনঃ 01742-768172

E-mail: sharebazar024@gmail.com