নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৫ | 1376 বার পঠিত | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) একের পর এক হঠকারী সিদ্ধান্তে বাজারে দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। ডিভিডেন্ড মৌসুমেও সূচকের ধারাবাহিক পতনে বিনিয়োগকারীরা দিশেহারা। সামান্য একদিনের উত্থানের পরই পরবর্তী দিন বড় পতন ঘটছে, যা বাজারে আস্থাহীনতা বাড়িয়ে তুলছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে কথা বলার পরও বিএসইসি যে নীতিমালা প্রণয়ন করছে, সেগুলোর অনেক সিদ্ধান্তই বাস্তবে অযৌক্তিক এবং ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে বাজারে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো নতুন মার্জিন ঋণ বিধিমালা ২০২৫, যা অনুযায়ী এখন থেকে কেবল ‘এ’ ক্যাটাগরির শেয়ারে মার্জিন ঋণ সুবিধা দেওয়া হবে। কোনো কোম্পানি ‘বি’ বা ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নেমে গেলে ওই শেয়ার দ্রুত বিক্রির বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। এমনকি শেয়ারদর কমে গেলে জোরপূর্বক বিক্রির বিধানও রাখা হয়েছে।
এই বিধিমালা কার্যকর হলে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে ব্রোকারেজ হাউস পর্যন্ত সবার জন্যই মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হবে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। তাদের অভিযোগ, “সংস্কারের নামে বিএসইসি’র কিছু কর্মকর্তা এমন উদ্ভট সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন যা লক্ষাধিক বিনিয়োগকারীর ক্ষতির কারণ হবে। বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনার আগেই এসব সংস্কারের নামে অযৌক্তিক পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।”
আইপিও কোটা কমিয়ে নতুন বিতর্ক
মার্জিন নীতিমালার পর এবার আইপিও (প্রাথমিক গণপ্রস্তাব) ইস্যুতেও নতুন হঠকারী পদক্ষেপ নিয়েছে বিএসইসি।
দীর্ঘদিন ধরে ফিক্সড প্রাইস ও বুক বিল্ডিং— উভয় পদ্ধতির আইপিওতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ৭০ শতাংশ পর্যন্ত শেয়ার বরাদ্দের কোটা পেতেন। কিন্তু সম্প্রতি প্রকাশিত ‘পাবলিক ইস্যু রুলস ২০২৫’-এর খসড়ায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কোটা কমিয়ে ৩৫ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।
খসড়া অনুযায়ী অন্যান্য কোটাগুলো হলো:
অন্যদিকে, বিদ্যমান নিয়মে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ৭০%, ইআইদের জন্য ২০% এবং মিউচুয়াল ফান্ডের জন্য মাত্র ৫% কোটা ছিল।
বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, “বিএসইসি আসলে কার স্বার্থে কাজ করছে? আমাদের স্বার্থে হলে কেন সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বরাদ্দ কমানো হলো? আইপিও ইস্যুতে বিশেষ শ্রেণীর সুবিধা নিশ্চিত করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
বিনিয়োগকারীদের ক্ষোভ ও আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
বিনিয়োগকারীদের দাবি, বাজারে কারসাজিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে আগের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বরং নিয়ন্ত্রক সংস্থা এখন এমন সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছে যা প্রকৃত বিনিয়োগকারীদের বিপদে ফেলছে। তাদের অভিযোগ, “বাজারের স্বার্থে নয়, বরং বিশেষ একটি গোষ্ঠীর স্বার্থেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।”
তারা আরও বলেন, বিএসইসি যদি এসব হঠকারী সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসে, তবে বিনিয়োগকারীরা কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।
সূচক ও লেনদেন পরিস্থিতি
সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫৪.৮৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫,০৬১.০১ পয়েন্টে।
অন্যান্য সূচকের মধ্যে ডিএসইএস ১২.৩৬ পয়েন্ট কমে ১,০৬৬.৬২ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ২১.৯৪ পয়েন্ট কমে ১,৯৬০.৯৯ পয়েন্টে নেমেছে।
এদিন ডিএসইতে মোট ৩৯৮টি কোম্পানির মধ্যে ৪৫টির দর বেড়েছে, ৩০০টির দর কমেছে এবং ৫৩টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫১৮ কোটি ৬২ লাখ টাকা, যা আগের দিনের ৫৪৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকার তুলনায় ২৬ কোটি ১৪ লাখ টাকা কম।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন হয়েছে ২৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকার, যা আগের দিনের ১৬ কোটি ৫১ লাখ টাকার তুলনায় বেড়েছে। সিএসইতে মোট ১৯৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দর বেড়েছে ৪২টির, কমেছে ১২৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৫টির।
সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৮৭.৯৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪,৩১৭.২৬ পয়েন্টে, আগের দিন যা ৩১.২০ পয়েন্ট বেড়েছিল।
Posted ৫:২৪ অপরাহ্ণ | সোমবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৫
sharebazar24 | sbazaradmin
.
.