নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ০২ অক্টোবর ২০২৫ | 229 বার পঠিত | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৪ অর্থবছরটি বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের জন্য এক ভয়াবহ মন্দার বছর হিসেবে ইতিহাসে ছাপ রেখেছে। এই অস্থির পরিস্থিতিতে দেশের ব্যাংকগুলোও বিশাল ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয়—মোট ৩৪টি ব্যাংকের মধ্যে ৩১টি ব্যাংকই এই সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ব্যাংকের সম্মিলিত ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৬২৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা, যেখানে মাত্র তিনটি ব্যাংক সামান্য মুনাফা করেছে, যার মোট অঙ্ক মাত্র ২৩ কোটি টাকা।
বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ব্যাংকগুলোর এই বিপুল ক্ষতির পেছনে মূল কারণ হলো পরিচালকদের অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত, বিনিয়োগ তহবিলের সঠিক ব্যবহার না হওয়া, ফ্লোর প্রাইস বলবৎ থাকার কারণে সময়মতো শেয়ার বিক্রি করতে না পারা এবং ঝুঁকিপূর্ণ ‘জাঙ্ক শেয়ারে’ বিনিয়োগ।
শেয়ারবাজার সংস্কার টাস্কফোর্সের সদস্য অধ্যাপক আল-আমিন মন্তব্য করেন, “গত কয়েক বছরে কোনো ক্ষেত্রেই সুশাসন বজায় ছিল না। অনিয়ম ও গুড গভর্ন্যান্সের অভাব ব্যাংকগুলোর ক্ষতির মূল কারণ। বিশেষ করে বেক্সিমকো গ্রিন সুকুক বন্ড, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক এবং পিপলস লিজিং-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিনিয়োগ বড় ক্ষতির কারণ।”
ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য:
সবচেয়ে বেশি লোকসান: জনতা ব্যাংক সর্বোচ্চ ৪০০ কোটি টাকা ক্ষতির সঙ্গে শীর্ষে।
অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংক: সোনালী ব্যাংক ৩৯৮ কোটি, ইস্টার্ন ব্যাংক ৩৫৩ কোটি, সাউথইস্ট ব্যাংক ৩২৬ কোটি, এবি ব্যাংক ২৬১ কোটি। এই পাঁচ ব্যাংকের মোট ক্ষতি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা।
অবশিষ্ট ২৬ ব্যাংক: এক্সিম ব্যাংক ২২৮ কোটি, ন্যাশনাল ব্যাংক ২১৭ কোটি, অগ্রণী ব্যাংক ২১৬ কোটি, উত্তরা ব্যাংক ১৭২ কোটি, এনসিসি ব্যাংক ১৬৫ কোটি, রূপালী ব্যাংক ১৫৩ কোটি, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক ১৩৩ কোটি, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ১০৭ কোটি।
সামান্য মুনাফা করা ব্যাংক: মার্কেন্টাইল ব্যাংক ১২ কোটি, ব্র্যাক ব্যাংক ৭ কোটি এবং প্রাইম ব্যাংক ৪ কোটি টাকা।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তারা মূল কারণ হিসেবে ফ্লোর প্রাইস-এর সীমাবদ্ধতাকে দায়ী করেছেন। তাঁরা জানান, ফ্লোর প্রাইসের কারণে সময়মতো শেয়ার বিক্রি করা যায়নি এবং মার্জিন লোন সমন্বয় না হওয়ায় সুদ ও ম্যানেজমেন্ট খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকেও ক্ষতির পেছনে প্রভাবক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ডিএসই-এর প্রধান সূচক প্রায় ১৬ শতাংশ ধসে যাওয়ায় শেয়ারবাজারের মন্দা ব্যাংক খাতকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
Posted ৯:৩৫ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০২ অক্টোবর ২০২৫
sharebazar24 | sbazaradmin
.
.