নিজস্ব প্রতিবেদক | শুক্রবার, ২১ নভেম্বর ২০২৫ | 582 বার পঠিত | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘস্থায়ী মন্দার আঘাতে শুধু সাধারণ বিনিয়োগকারীরাই বিপাকে নন—চরম চাপের মুখে পড়েছে শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোও। ভয়াবহ লোকসান ও ক্রমবর্ধমান প্রভিশন ঘাটতির কারণে বর্তমানে ৩১১টি মার্চেন্ট ব্যাংক, ব্রোকারেজ হাউজ ও স্টেকহোল্ডার মারাত্মক আর্থিক সংকটে রয়েছে। এর মধ্যে ডিএসইয়ের ২১১টি, সিএসইয়ের ৫৬টি এবং ৪৪টি মার্চেন্ট ব্যাংকের প্রভিশনিং ঘাটতি মিলিয়ে মোট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৫৪ কোটি টাকা।
২০১৬ সাল থেকেই বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) প্রভিশন সংরক্ষণের বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দিয়ে আসছে। কিন্তু অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই প্রতিবছর সময় বাড়ানোর আবেদন করে যাচ্ছে। সর্বশেষ কমিশন সভায় চলতি অর্থবছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত এপ্রিলের সভায় ৩০ জুনের মধ্যে বোর্ড অনুমোদিত সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা জমা দিতে বলা হলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান তা করেনি। ফলে ১৩ নভেম্বরের সভায় আরও ২৮ প্রতিষ্ঠানকে সময় বাড়ানো হয়।
বিএসইসির কর্মকর্তারা জানান, সময় বাড়ানো হলেও প্রভিশন সংরক্ষণে প্রতিষ্ঠানগুলো সফল হচ্ছে না। তবে মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের ব্যর্থ বলা যাবে না। কমিশন চাইছে—প্রতিষ্ঠানগুলো যেন পরিকল্পনা ও শৃঙ্খলার সাথে প্রভিশনিং কার্যক্রম সম্পন্ন করে।
অন্যদিকে মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজগুলোর দাবি—দীর্ঘদিনের নিম্নমুখী বাজারে তাদের বিনিয়োগে বড় ধরনের আনরিয়েলাইজড লস তৈরি হয়েছে। আগের কমিশনের ফ্লোর প্রাইস নীতি বিনিয়োগ আটকে দেয়, ফলে ইক্যুইটিও ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। বাজারে তারল্য ঘাটতি বাড়ার কারণে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমও সীমিত হয়ে যায়। এর ফলে নির্ধারিত পরিমাণ প্রভিশন সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়নি।
সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী—
ডিএসইয়ের ২১১ প্রতিষ্ঠানের আনরিয়েলাইজড লস ১,৯০৬ কোটি ২৪ লাখ টাকা, প্রভিশন সংরক্ষণ হয়েছে ৯১৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা।
সিএসইয়ের ৫৬ প্রতিষ্ঠানের আনরিয়েলাইজড লস ২২ কোটি ১৩ লাখ টাকা, প্রভিশন রয়েছে ১০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।
৪৪ মার্চেন্ট ব্যাংকের আনরিয়েলাইজড লোকসান ১,৮০৭ কোটি টাকা, যার বিপরীতে প্রভিশনিং হয়েছে ৬৫৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।
সবমিলিয়ে ৩,৭৩৫ কোটি টাকার আনরিয়েলাইজড লসের বিপরীতে সংরক্ষিত প্রভিশনের পরিমাণ ১,৫৮১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, ফলে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২,১৫৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।
বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১০ সালের ধসের পর থেকেই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগমূল্য কমতে কমতে ঋণাত্মক হয়ে যায়। শেয়ার বিক্রি না করায় আনরিয়েলাইজড লস বছর বছর জমা হয়েছে। অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী প্রভিশন রাখা বাধ্যতামূলক হলেও বহু প্রতিষ্ঠান তা মানেনি। তারা আরও বলেন—মন্দার পাশাপাশি বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার অভাব এবং লোকসানি কোম্পানিতে বিনিয়োগ করাও এই পরিস্থিতি তৈরির অন্যতম কারণ।
তথ্য অনুযায়ী, যেসব প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের মুখে আছে, তাদের অধিকাংশই ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাবসিডিয়ারি। অধিক মুনাফার আশায় গত দুই দশকে তারা কয়েক হাজার কোটি টাকা বাজারে বিনিয়োগ করে। বিশেষ করে ২০১০ সালের ধসের পর এই বিনিয়োগগুলোর বড় অংশ লোকসানে পড়ে, যা এখনও উত্তরণ পায়নি।
Posted ৯:৩৭ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ২১ নভেম্বর ২০২৫
sharebazar24 | sbazaradmin
.
.