নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৫ | 2424 বার পঠিত | প্রিন্ট
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত পাট খাতের কোম্পানি জুট স্পিানার্সের উৎপাদন শুরু হয়েছে প্রায় দুই বছর ধরে। অথচ উৎপাদন চালুর খবরটি কোম্পানিটির পক্ষ থেকে এখনো বিনিয়োগকারীদেরকে জানানো হয়নি, যা খুবই রহস্যজনক বলে মনে করা হচ্ছে।
নিয়ম অনুযায়ী শেয়ারবাজারে যে কোনো কোম্পানির মূল সংবেদনশীল তথ্যসহ সব তথ্য ডিএসইর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদেরকে জানানোর নিয়ম রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আর্থিক প্রতিবেদন, ডিভিডেন্ড ঘোষণা, রাইট, ইজিএম-এজিএম, কোম্পানির রফতানি, আমাদানী এবং উৎপাদন বন্ধ বা উৎপাদন শুরুর বিষয়গুলো ডিএসইর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার নিয়ম রয়েছে। অথচ জুট স্পিনাসের উৎপাদন গত ২০২২ সালের শেষের দিকে থেকে চালু হলেও এখন পর্যন্ত এ সংক্রান্ত কোনো সংবাদ বা তথ্য ডিএসইর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়নি, যা খুবই রহস্য জনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারী ও বাজার সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, যে বর্তমানে প্রতিদিনই কোম্পাটিতে ৮/৯ টন পন্য উৎপাদন হচ্ছে। এমতাবস্থায় কোম্পানিটির লোকসানের পরিমাণ কমার কথা। পুরোদমেন উৎপাদনের মধ্যে কোম্পানিটির লোকসান বেড়ে দ্বিগুন হয়েছে, যা খুবই রহস্যজনক।
এ বিষয়ে বিনিয়োগকারী ও বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মুনাফা দেখানোর কারণে সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীদেরকে ডিভিডেন্ড দিতে হবে। তাই কোম্পানিটি লোকসান বৃদ্ধি দেখিয়ে বিনিয়োগকারীদেরকে ডিভিডেন্ড বঞ্চিত করার পায়তারা করছে।
উল্লেখ্য, গত ৩০ সেপ্টেম্বর’২৪ পর্যন্ত প্রথম প্রান্তিকের অনিরিক্ষীত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান দাঁড়িয়েছে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা। এর আগের বছর একই সময় কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ৫ টাকা ৫০ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান বেড়েছে ৫ টাকা ১৩ পয়সা বা দ্বিগুন। কোম্পানিটি সর্বশেষ ২০১২ সালে ২০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়েছিল।
এদিকে, গণমাধ্যম থেকে বিভিন্ন সময় কোম্পানিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষকে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা সঠিক তথ্য না দিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করে উৎপাদনের বিষয়েটি এড়িয়ে যায়। তবে কোম্পানির সাথে জড়িত ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিষয়টি স্বীকার করে বলেছে উৎপাদন চালুর বিষয়টি সত্য। গত ২০২২ সালের শেষের দিক থেকে পুরোদমে উৎপাদন চালু হয়েছে। বর্তমানে দৈনিক কোম্পানিটির ৮/৯ টন করে উৎপাদন হচ্ছে। এর বেশি কিছু জানাতে সে অপারগতা প্রকাশ করেছে।
এদিকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে জানা গেছে, গত অর্থবছরের জন্য ডিভিডেন্ড দেবে না জুট স্পিনার্স লিমিটেড। গত দুই অর্থ বছরেও লভ্যাংশ দেয়নি কোম্পানিটি। সেই সঙ্গে তারা রেকর্ড তারিখ ঘোষণা করলেও ৪৫ তম বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) তারিখ এখনো ঘোষণা করেনি।
তার আগে ৩৮ তম, ৩৯ তম, ৪০ তম, ৪১ তম, ৪২ তম, ৪৩ তম ও ৪৪ তম এজিএমের অনুমোদন হাইকোর্ট দিলে তারপর ৪৫ তম এজিএমের তারিখ ঘোষণা করা হবে।
গত কয়েক বছর ধরেই লোকসানের ধারায় আছে জুট স্পিনার্স। গত ৩০ জুন সমাপ্ত বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৬৫ টাকা ৪৫ পয়সা; আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৮৩ টাকা ৭৮ পয়সা, অর্থাৎ গত বছর কোম্পানিটির লোকসান কমেছে। গত বছরও কোম্পানিটি লভ্যাংশ দেয়নি।
৩০ জুন সমাপ্ত বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট দায় ছিল ৫৮৭ টাকা ৮৭ পয়সা। আগের বছর কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ছিল মাইনাস ৫২২ টাকা ১৯ পয়সা। শেয়ারপ্রতি নগদ প্রবাহও ছিল ঋণাত্মক; এই সময় যা ছিল মাইনাস ২২ টাকা ২৮ পয়সা।
জুট স্পিনার্সের অনুমোদিত মূলধন ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা, পরিশোধিত মূলধন ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
সরেজমিনে ঘুরে কোম্পানিটির উৎপাদনের কিছু ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করা হয়েছে যা বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রকাশ করা হলো।
অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারী ও বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, উৎপাদনের খবর প্রকাশ করা হলে কোম্পানিটির শেয়ার দর উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যে কারণে কোম্পানিটি তথ্যটি গোপন রাখছে। যাতে কোম্পানিটির শেয়ার দর না বেড়ে কমে যায়। এতে করে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা শেয়ারটি কম দরে বিক্রি করে দেয়। আর কোম্পানি কর্তপক্ষ সেই শেয়ারটি ক্রয় করে শতভাগ শেয়ার নিজেদের কব্জায় নিতে পারে। এমনিতেই সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে শেয়ার সংখ্য কম রয়েছে।
পাটজাত পন্যের চাহিদা বাড়ানোর জন্য বতর্মান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পলিথিন নিষিদ্ধ করেছে। এর ফলে পাট খাতের কোম্পানিগুলোর উৎপাদন সামনে আরও বাড়বে। এর ফলে জুট স্পিনার্সের উৎপাদনের পরিমাণ বাড়লে কোম্পানিটি লোকসান কাটিয়ে মুনাফা ফিরবে। আর তখন কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদেরকে পর্যাপ্ত ডিভিডেন্ড দিতে পারবে। এর প্রভাবে কোম্পানিটির শেয়ার দরেও পরবে। কয়েক গূণ বেড়ে যেতে পারে কোম্পানিটির শেয়ার দর এমনটিই ধারণ করাছে বাজার সংশ্লিষ্টসহ অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীরা।
প্রসঙ্গত, ১৯৮৪ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া কোম্পানিটির বর্তমান শেয়ার সংখ্যা ১৭ লাখ। এর মধ্যে ৩৯.৮২ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালক, ২৩.২০ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী এবং ৩৬.৯৮ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে।
শেয়ারবাজার২৪
নিচে কোম্পানিটির উৎপাদনের ছবি ও ভিডিও দেয়া হলো


Posted ৫:২২ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৫
sharebazar24 | sbazaradmin
.
.