নিজস্ব প্রতিবেদক | শুক্রবার, ৩০ মে ২০২৫ | 278 বার পঠিত | প্রিন্ট
বাংলাদেশ শেয়ারবাজারে চলমান অস্থিরতা এবং ধারাবাহিক ধসের জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মকসুদ-এর অপসারণের আনুষ্ঠানিক দাবি জানিয়েছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। এই দাবির প্রেক্ষিতে বুধবার (২৯ মে) অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় বিএসইসি চেয়ারম্যান মকসুদ নিজেও উপস্থিত ছিলেন। সভার সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী, এবং এতে বিভিন্ন বিনিয়োগকারী সংগঠনের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।
বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইকবাল হোসেন সংবাদমাধ্যমকে জানান, “আমরা বহুদিন ধরে প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং বলে আসছি যে, বর্তমান চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে বিএসইসি শেয়ারবাজার পরিচালনায় সম্পূর্ণ অদক্ষ। আজ আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে তার অপসারণের দাবি প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীর কাছে তুলে ধরেছি। তার পদত্যাগ না হলে বাজারে আস্থা ফিরবে না।”
বিনিয়োগকারীরা অভিযোগ করেন, বর্তমান বিএসইসি চেয়ারম্যান মূলধন বাজার সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণাও রাখেন না। তাদের মতে, এই মতামত শুধুমাত্র সাধারণ বিনিয়োগকারীদের নয়, বরং সাবেক বিএসইসি চেয়ারম্যান ও বাজারের গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডারদের মধ্যেও প্রচলিত।
বিনিয়োগকারীরা উল্লেখ করেন, প্রতিদিন শেয়ারবাজারে যে পরিমাণ ক্ষতি হচ্ছে তা সহ্যের বাইরে চলে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে শেয়ারবাজার ধ্বংস হয়ে যাবে। এর প্রভাব পড়ছে মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজগুলির ওপর, যেগুলি বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে, যা কর্মী ছাঁটাই এবং বেকারত্বের হার বাড়াচ্ছে।
বিনিয়োগকারীরা বলেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য নেতৃত্ব পরিবর্তন জরুরি। এরই অংশ হিসেবে, প্রতীকী কফিন ও কাফনের কাপড় নিয়ে শোভাযাত্রা করা হয়, যা বাজারের ভয়াবহ অবস্থা তুলে ধরার চেষ্টা ছিল।
বিনিয়োগকারী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরীর কাছে একটি দাবি-স্মারকলিপি পেশ করা হয়, যাতে ফোর্সড সেল বন্ধ করা এবং বাজারে তারল্য বৃদ্ধি বিষয়ক প্রস্তাবনা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
বিএসইসি সূত্র জানিয়েছে, বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত আলোচনায় আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনা করা হয়েছে, যার মধ্যে ফোর্স সেল নীতি-এর কারণে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির বিষয়টি উঠে আসে। বিএসইসি মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বৈঠকের পরে বলেন, “বিনিয়োগকারীরা তাদের ক্ষতির বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। কীভাবে ফোর্স সেল বন্ধ করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, বিনিয়োগকারীরা ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী-এর কাছে লিখিত বক্তব্য এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি জমা দিয়েছেন, যার মধ্যে ৬১৭টি বিও অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার ঘটনা, পেনশন ও জীবন বীমা তহবিল শেয়ারবাজারে ব্যবহার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অন্যান্য নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাজারে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করার প্রস্তাবনা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এ বৈঠকে বিএসইসির দুই কমিশনার মো. মোহসিন চৌধুরী ও মো. আলী আকবরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
Posted ১০:১১ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ৩০ মে ২০২৫
sharebazar24 | sbazaradmin
.
.