নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬ | 21 বার পঠিত | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর খাতভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার দাবি জানিয়েছে শেয়ারবাজারের ব্রোকারদের সংগঠন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)। সংগঠনটির মতে, দীর্ঘদিন ধরে অপরিবর্তিত ও যুগোপযোগী নয় এমন শ্রেণিবিন্যাস কাঠামোর কারণে বাজার বিশ্লেষণ এবং বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে।
এ বিষয়ে বুধবার (২১ জানুয়ারি) ডিবিএর সভাপতি সাইফুল ইসলাম বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান (সিনিয়র সচিব) খন্দকার রাশেদ মাকসুদের কাছে একটি চিঠি পাঠান। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সরকারি ও কর্পোরেট বন্ড এবং মিউচুয়াল ফান্ডসহ মোট ২২টি খাতভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস অনুসরণ করা হচ্ছে, যা দীর্ঘদিন ধরে হালনাগাদ না হওয়ায় বৈশ্বিক শেয়ারবাজার কাঠামোর সঙ্গে আর সামঞ্জস্যপূর্ণ নেই।
চিঠিতে আরও বলা হয়, বিশ্বের অধিকাংশ শেয়ারবাজারে বর্তমানে গ্লোবাল ইন্ডাস্ট্রি ক্লাসিফিকেশন স্ট্যান্ডার্ড অথবা ইন্ডাস্ট্রি ক্লাসিফিকেশন বেঞ্চমার্ক অনুসরণ করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এসব মানদণ্ড খাতভিত্তিক বিশ্লেষণকে আরও স্বচ্ছ, কার্যকর ও তুলনাযোগ্য করে তোলে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
ডিবিএ বিদ্যমান শ্রেণিবিন্যাস কাঠামোর কিছু অসংগতির উদাহরণও তুলে ধরে। সংগঠনটির মতে, ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড বর্তমানে ‘ফার্মাসিউটিক্যালস অ্যান্ড কেমিক্যালস’ খাতে এবং ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ ‘ফুড অ্যান্ড অ্যালাইড’ খাতে তালিকাভুক্ত থাকলেও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী এ দুটি কোম্পানিকে ‘কনজ্যুমার স্ট্যাপলস’ খাতে অন্তর্ভুক্ত করাই অধিক যুক্তিসংগত। একইভাবে ওয়ালটন, সিঙ্গার, বাটা ও এপেক্সের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘কনজ্যুমার ডিসক্রিশনারি’ খাতে অন্তর্ভুক্ত করলে তাদের ব্যবসার প্রকৃতি ও ভোক্তা চাহিদাভিত্তিক কার্যক্রম আরও সঠিকভাবে প্রতিফলিত হবে বলে মনে করে সংগঠনটি।
ডিবিএর মতে, খাতভিত্তিক পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ অর্থনৈতিক প্রবণতা, ভোক্তাদের আচরণ এবং আয়ের প্রবাহ বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে পুরনো ও আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ শ্রেণিবিন্যাস কাঠামো এসব বিশ্লেষণের গভীরতা ও কার্যকারিতা ব্যাহত করছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি গ্রহণ করা হলে বাজারের স্বচ্ছতা বাড়বে, বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে তুলনাযোগ্যতা তৈরি হবে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও দৃঢ় হবে বলে মত দিয়েছে সংগঠনটি।
চিঠির শেষাংশে ডিবিএ বিএসইসির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের খাতভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া সময়ের দাবি। এই সংস্কার বাস্তবায়িত হলে দেশের শেয়ারবাজারের প্রতি দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা, বিশ্লেষণ সক্ষমতা এবং বৈশ্বিক সংযুক্তি আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
Posted ৮:২৯ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬
sharebazar24 | sbazaradmin
.
.