সোমবার ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ব্রেকিং নিউজ >>
ব্রেকিং নিউজ >>

ডলার বেচাকেনায় অনিয়ম: শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বৃহস্পতিবার, ১৪ আগস্ট ২০২৫ | 197 বার পঠিত | প্রিন্ট

ডলার বেচাকেনায় অনিয়ম: শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত
Responsive Ad Banner

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের বিরুদ্ধে ডলার লেনদেনে ভয়াবহ অনিয়ম ও কারসাজির অভিযোগ উঠেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা উপেক্ষা করে নিয়মবহির্ভূতভাবে উচ্চমূল্যে ডলার বিক্রি করে গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ৮৫ কোটি টাকা অতিরিক্ত আদায়ের প্রমাণ মিলেছে। এ ঘটনায় ব্যাংকের এক ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) ও একজন এভিপি-কে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর সৃষ্ট তীব্র ডলার সংকটের সুযোগে এই অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক। অতিরিক্ত দরে ডলার বিক্রির দায়ে ২০২৩ সালেই ব্যাংকটিকে জরিমানা করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

Responsive Ad Banner

তদন্তে উঠে এসেছে, ডলার কারসাজির মূল পরিকল্পনায় ছিলেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোসলেহ উদ্দিন ও তৎকালীন ডিএমডি মোস্তফা হোসেন। ২০২২ সালে এনসিসি ব্যাংক থেকে শাহজালালে যোগ দিয়েই মোসলেহ উদ্দিন ঢাকা ব্যাংক থেকে মোস্তফা হোসেনকে নিয়ে এসে প্রধান কার্যালয়ের দায়িত্ব দেন। তাদের যোগসাজশে গ্রাহকের কাছ থেকে বাড়তি টাকা আদায় করে তা ব্যাংকের হিসাবে না জমিয়ে ব্যক্তিগত হিসাবে লেনদেন করা হতো।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ অডিটে বিষয়টি ধরা পড়ে। অডিট টিম এভিপি ও ইমপোর্ট ইনচার্জ মোহাম্মদ নকিবুল হকের ড্রয়ার থেকে প্রায় ৩০ কোটি টাকার ক্যাশ চেক ও পে-অর্ডার উদ্ধার করে, পাশাপাশি ২৮ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রমাণও পায়।

অডিট প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৩ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৪ সালের ৮ মে পর্যন্ত ৮৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা অতিরিক্ত এক্সচেঞ্জ গেইনের নামে আদায় করা হয়েছে। এর মধ্যে গাজী ইন্টারন্যাশনাল, গাজী ট্যাংক, গ্লোবাল ব্র্যান্ড প্রাইভেট লিমিটেড থেকে নগদে নেওয়া হয় ৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। এছাড়া ইনগ্লোন ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরস লিমিটেডের কাছ থেকে ‘স্পনসরশিপ’-এর আড়ালে নেওয়া হয় ৮ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। গাজী ট্যাংকের কাছ থেকে ৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকার ৮টি চেক উদ্ধারের তথ্যও অডিটে রয়েছে, যা নির্ধারিত হিসাবে জমা হয়নি।

শুধু শাহজালালই নয়, ডলার সংকটের সময় অন্তত ২০টি ব্যাংক ঘোষিত রেটের বেশি দামে ডলার বিক্রি করেছে বলে ব্যাংকারদের দাবি। তাদের মতে, বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউসগুলো ঘোষিত দামের চেয়ে অন্তত ১ টাকা বেশি রেটে ডলার সরবরাহ করত, ফলে ব্যাংকগুলো বাধ্য হয়ে বেশি দামে ডলার কিনত। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকে ঘোষিত রেটই দেখানো হতো এবং অতিরিক্ত অর্থ চেক বা ভাউচারের মাধ্যমে সমন্বয় করা হতো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, মুক্তবাজারে ব্যাংক চাইলে বেশি দামে ডলার বিক্রি করতে পারে। তবে লেনদেনের দর ও পরিমাণ কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানাতে হয় এবং যে এক্সচেঞ্জ গেইন হয়, তা অবশ্যই ব্যাংকের হিসাবে জমা করতে হয়।

 

Facebook Comments Box

Posted ১:৫১ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৪ আগস্ট ২০২৫

sharebazar24 |

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  
মো. সিরাজুল ইসলাম সম্পাদক
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

৬০/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

হেল্প লাইনঃ 01742-768172

E-mail: sharebazar024@gmail.com