নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ২২ মে ২০২৫ | 251 বার পঠিত | প্রিন্ট
চরম ঋণচাপে পড়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)। প্রতি মাসে প্রায় ৭০ কোটি টাকা সুদ গুনতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটিকে, যা বর্তমানে তাদের আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে ঋণ পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছে আইসিবি। এ অবস্থায় সরকারের কাছে বিশেষ তহবিল চেয়ে আবেদন করেছে প্রতিষ্ঠানটি, যাতে করে পুনরায় শেয়ারবাজারে সক্রিয় বিনিয়োগকারী হিসেবে ফিরে আসা যায়।
গত বৃহস্পতিবার (২২ মে) অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠকে বসে আইসিবির একটি প্রতিনিধিদল। বৈঠকে বিশেষ তহবিল গঠনের প্রস্তাব ছাড়াও আইসিবির আর্থিক সংকট ও ঋণের ভার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তার বরাতে জানা যায়, বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত না হলেও প্রধান উপদেষ্টার সহকারী আইসিবির বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং বর্তমান শেয়ারবাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত রয়েছেন। তিনি বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন বলে জানান।
আইসিবির কর্মকর্তারা জানান, আগের সরকারের আমলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আইসিবিকে উচ্চ সুদে ঋণ নিতে উৎসাহিত করে, যা দিয়ে তারা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে বাধ্য হয়। কিন্তু পরবর্তীতে শেয়ারদর পতনের কারণে আইসিবির লোকসান দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪,৫০০ কোটি টাকা, যা প্রভিশন করতে গেলে আইসিবির আর্থিক ভিত্তি আরও দুর্বল হয়ে পড়বে।
বর্তমানে আইসিবির মোট ঋণের পরিমাণ ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি। সম্প্রতি ২ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করলেও বাকিটা এখনো ঝুলে আছে। অধিকাংশ ঋণের সুদহার গড়ে ১২ শতাংশ, যা মাসিক প্রায় ৭০ কোটি টাকা সুদে রূপ নিচ্ছে। আইসিবির বর্তমান আয়ে এই ঋণ পরিশোধ একেবারেই অসম্ভব বলেই জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ পরিস্থিতিতে সরকারি অর্থায়নে একটি নিরপেক্ষ পরিচালিত বিশেষ তহবিল গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে আইসিবির পক্ষ থেকে। এই তহবিল ব্যবহারের দায়িত্বে থাকবে সরকারের গঠিত একটি স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ, যারা বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় বিনিয়োগ বা বিক্রয় সিদ্ধান্ত নেবে।
আইসিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, “এই তহবিল আইসিবির নিজের জন্য নয়, বরং শেয়ারবাজারকে স্থিতিশীল রাখতে এটি ব্যবহৃত হবে। আমরা সরকারকে এমন একটি কাঠামোর প্রস্তাব দিয়েছি, যেখানে তহবিল ব্যবহারের ব্যাপারে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে।”
তিনি আরও জানান, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির করহারের ব্যবধান ১০ শতাংশ রাখার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে, যা আগামী বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া আইসিবির মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর ইউনিটহোল্ডারদের মধ্যে লভ্যাংশ বিতরণ নিয়েও আলোচনায় আসে। প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, চলতি অর্থবছরের অর্জিত মুনাফার ২০ শতাংশ প্রভিশন রেখে বাকি ৮০ শতাংশ লভ্যাংশ হিসেবে বিতরণ করার।
আইসিবির চেয়ারম্যান বলেন, “আমাদের দুরবস্থার পেছনের ঘটনাগুলো আগে ঘটেছে। বর্তমান সরকারের সময় কিংবা আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আইসিবিতে কোনো অনিয়ম হয়নি।”
Posted ১১:৫১ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২২ মে ২০২৫
sharebazar24 | sbazaradmin
.
.