নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ২০ মে ২০২৫ | 216 বার পঠিত | প্রিন্ট
বাজারভিত্তিক বিনিময়হার চালুর পর খোলাবাজারে (ওপেন মার্কেট) ডলারের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে। মানি এক্সচেঞ্জ হাউসগুলোতে বর্তমানে প্রতি ডলার বিক্রি হচ্ছে ১২৬ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১২৭ টাকায়, যা ব্যাংকিং চ্যানেলে নির্ধারিত ১২২ টাকা ৫০ পয়সার চেয়ে অনেক বেশি। এমন পরিস্থিতিতে বাজারে অস্থিরতা রোধে তৎপর হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ডলারের রেফারেন্স রেট ১২২ টাকা ৪৩ পয়সা, যা একদিন আগে ছিল ১২১ টাকা ৬৮ পয়সা। বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইতোমধ্যে সাতটি বিশেষ টিম গঠন করে মাঠে নামিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যারা খোলাবাজারে ডলারের লেনদেন তদারকি করছে।
এদিকে ক্রেতারা অভিযোগ করেছেন, অনেক মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠান ব্যাংক থেকে ডলার সংগ্রহ করেও বাজারে সরবরাহ করছে না। অধিক মুনাফার আশায় ডলার মজুত করে রাখা হচ্ছে।
মতিঝিল, পল্টন ও ফকিরাপুল এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, মানি এক্সচেঞ্জগুলোতে বোর্ডে ডলারের দাম ১২৪ টাকা লেখা থাকলেও, প্রকৃতপক্ষে সে দামে ডলার মিলছে না। অনেক সময় ডলার নেই বলা হলেও গোপনে ১২৬ থেকে ১২৭ টাকায় ডলার বিক্রি করা হচ্ছে। বিশেষ করে হজ মৌসুমে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বাজারে চাপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
পল্টনে এক ডলার ক্রেতা শরিফুল ইসলাম জানান, ছেলেকে বিদেশে পাঠাতে ২,৫০০ ডলার প্রয়োজন হলেও ব্যাংক থেকে মাত্র ২০০–৩০০ ডলার মিলছে। বাধ্য হয়ে বেশি দামে মানি এক্সচেঞ্জ ঘুরছেন তিনি।
অগ্রণী ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের সংকট নেই। আমদানি চাহিদা সীমিত এবং রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স প্রবাহ স্থিতিশীল থাকায় বাজারে ভারসাম্য বিরাজ করছে। প্রতি মাসে গড়ে সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় বিলিয়ন ডলারের আমদানি ব্যয় থাকলেও, রপ্তানি ও রেমিট্যান্স থেকে আয় হচ্ছে প্রায় সাত বিলিয়ন ডলার।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি ডলারের বিনিময়হার নির্ধারণের ক্ষমতা ব্যাংক ও গ্রাহকের ওপর ছেড়ে দিয়েছে। যদিও এখনও বাজার পুরোপুরি উন্মুক্ত নয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, খোলাবাজারে রেফারেন্স রেটের চেয়ে ৫ টাকা বেশি দামে ডলার বিক্রি অনৈতিক। এমন অনিয়ম ধরা পড়লে দায়ী মানি এক্সচেঞ্জের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে লাইসেন্স বাতিল পর্যন্ত করা হতে পারে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, বাজারে কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট বা অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা সহ্য করা হবে না। জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
Posted ১১:৩৫ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২০ মে ২০২৫
sharebazar24 | sbazaradmin
.
.