নিজস্ব প্রতিবেদক | শনিবার, ২১ জুন ২০২৫ | 226 বার পঠিত | প্রিন্ট
প্রায় দুই বছর ছয় মাস পার হলেও ইউনিভার্সাল ফিন্যান্সিয়াল সলিউশনস (ইউএফএস) কর্তৃক আত্মসাৎ করা ২০৭ কোটি টাকা এখনও ফেরত পাননি ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা। অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিটির বিরুদ্ধে শেয়ারবাজারে প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ ও মানি লন্ডারিং-এর অভিযোগ ওঠার পরও কার্যকর কোনো আইনি অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।
২০২২ সালে ইউনিট ফান্ডের অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে হাইকোর্ট ইউএফএস ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ হামজা আলমগীরসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর নির্দেশনা দেয়। ২০২৩ সালের অক্টোবরের মধ্যে পূর্ণ অর্থ ফেরতের নির্দেশ এবং তার আগে বিএসইসিতে ১২৫ কোটি টাকা ফেরতের প্রতিশ্রুতি থাকলেও—তা আজও বাস্তবায়ন হয়নি।
ঘটনার প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও ইউএফএস-এর চারটি ওপেন-এন্ডেড ফান্ডের ট্রাস্টি ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি), নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি, এবং তদন্তকারী প্রতিষ্ঠান দুদক অর্থ উদ্ধারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি।
আইসিবি ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে দায়ের করা দুই মামলায় আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলেও প্রধান অভিযুক্ত হামজা আলমগীর দেশত্যাগ করেন। অন্য অভিযুক্তরা আগাম জামিন বা পলাতক অবস্থায় রয়েছেন। বিএসইসির দায়ের করা ফৌজদারি মামলার তদন্ত এখনও সিআইডি পর্যায়ে আটকে আছে।
ইউএফএস-এর ব্যাংক ও বিও অ্যাকাউন্ট ৩০ মাস ধরে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক স্থগিত থাকায়, ফান্ডগুলোর স্বাভাবিক লেনদেন বন্ধ রয়েছে। এমনকি তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো থেকে ডিভিডেন্ড গ্রহণও করতে পারছে না এই ফান্ডগুলো। ২০২২-২৩ সালে মাত্র ৫ কোটি ৩৯ লাখ টাকার ডিভিডেন্ড ফাঁস হয়ে গেছে।
দুদক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ৬৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা শেয়ার বিক্রির অর্থ ফান্ড অ্যাকাউন্টে জমা না দিয়ে সরাসরি হামজা আলমগীরের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়। এছাড়া, অনুমোদনহীন বাণিজ্যিক কাগজে বিপুল বিনিয়োগের সঙ্গে আইসিবির কয়েকজন কর্মকর্তার ভূমিকা ছিল, যারা এনওসি দিয়েছিলেন।
নিরীক্ষা প্রতিবেদন তৈরিতে নিরীক্ষকরাও দুর্নীতিতে সহায়তা করেছিল বলে দুদকের প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
Posted ১১:৩৬ অপরাহ্ণ | শনিবার, ২১ জুন ২০২৫
sharebazar24 | sbazaradmin
.
.