রবিবার ৮ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এনবিএফআই অবসায়নে বিনিয়োগকারীদের রক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বিএসইসির চিঠি

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬ | 42 বার পঠিত | প্রিন্ট

এনবিএফআই অবসায়নে বিনিয়োগকারীদের রক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বিএসইসির চিঠি
Responsive Ad Banner

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে অব্যবস্থাপনা ও খেলাপি ঋণে জর্জরিত ৯টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) অবসায়নের সিদ্ধান্ত। কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত বছরের ৩০ নভেম্বর এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়, যার মধ্যে ৮টিই দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত। ব্যাংক খাতে বিনিয়োগ হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা যখন দিশাহারা, তখন আর্থিক খাতের এই বড় ধাক্কা সাধারণ মানুষের সঞ্চয়কে আরও বড় ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

যদিও Bangladesh Bank আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছে, তবে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের বিনিয়োগ সুরক্ষা নিয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেয়নি। এ অবস্থায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা Bangladesh Securities and Exchange Commission (বিএসইসি) বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করেছে। গত সপ্তাহে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে কমিশন অনুরোধ জানিয়েছে, যেন ৯টি এনবিএফআই অবসায়নের প্রক্রিয়ায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ যথাযথভাবে সুরক্ষিত করা হয়। বিএসইসির মতে, এসব প্রতিষ্ঠানের বর্তমান অবস্থার জন্য সাধারণ বিনিয়োগকারীরা দায়ী নন; বরং পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতাই এর মূল কারণ।

Responsive Ad Banner

অবসায়নের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে— এফএএস ফাইন্যান্স, বিআইএফসি, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং। এছাড়া শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নয় এমন আভিভা ফাইন্যান্সও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। ‘সমন্বিত ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ কার্যকর হওয়ার পর এটিই দেশের ইতিহাসে বড় পরিসরের আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়নের ঘটনা, যেখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরাসরি সম্পদ বিক্রি ও দায় পরিশোধের দায়িত্ব নিয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, অতীতে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করার সময় বিনিয়োগকারীদের প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার শেয়ারের মূল্য কার্যত শূন্যে নেমে গিয়েছিল। এনবিএফআইগুলোর ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হতে পারে—এই আশঙ্কা থেকে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বাড়ছে। এ প্রেক্ষাপটে বিএসইসি তাদের চিঠিতে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে— অবসায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের নিয়মিত তথ্য জানানো, সরকার কোনো ক্ষতিপূরণ দিলে তাতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশ নিশ্চিত করা এবং শেয়ারের অভিহিত মূল্য অথবা বাজারমূল্যের মধ্যে যেটি বেশি, সেটিকে ন্যূনতম পাওনা হিসেবে বিবেচনা করা। কমিশন আরও বলেছে, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ না করে কোনোভাবেই এসব প্রতিষ্ঠানকে স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে তালিকাচ্যুত করা উচিত নয়।

এই সংকট নিয়ে Investment Corporation of Bangladesh (আইসিবি)-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ কড়া সমালোচনা করেছেন। তার মতে, দীর্ঘদিন ধরে কোম্পানি ও অডিটররা নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে ভুল তথ্য দিয়ে সম্পদের যে কৃত্রিম চিত্র তুলে ধরেছিল, তার দায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ওপর চাপানো ন্যায়সংগত নয়। যেহেতু আইনি জটিলতায় সাধারণ মানুষের কোনো ভূমিকা নেই, তাই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচিত অন্তত আংশিক ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বন্ধ হতে যাওয়া এসব প্রতিষ্ঠানে সাধারণ মানুষের বিপুল পরিমাণ অর্থ আটকে আছে। পিপলস লিজিংয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মালিকানায় রয়েছে ৭২.৯৪ শতাংশ শেয়ার এবং এফএএস ফাইন্যান্সে এই হার ৭৯.২৫ শতাংশ। এছাড়া প্রিমিয়ার লিজিংয়ে ৫৮.১০ শতাংশ, জিএসপি ফাইন্যান্সে ৫৩.২২ শতাংশ এবং ফারইস্ট ফাইন্যান্সে ৪৮.৪৮ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল লিজিং ও প্রাইম ফাইন্যান্সেও সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের বড় অংকের অংশীদারিত্ব রয়েছে, যা এখন পুরোপুরি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

Facebook Comments Box

Posted ৮:১৪ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬

sharebazar24 |

আর্কাইভ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  
মো. সিরাজুল ইসলাম সম্পাদক
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

৬০/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

হেল্প লাইনঃ 01742-768172

E-mail: sharebazar024@gmail.com