নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ২০ মে ২০২৫ | 239 বার পঠিত | প্রিন্ট
২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হার মাত্র ৪১ দশমিক ৩১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সময়ে উন্নয়ন ব্যয় আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা কমেছে।
সোমবার (১৯ মে) পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
আইএমইডির তথ্যমতে, জুলাই থেকে এপ্রিল—এই ১০ মাসে খরচ হয়েছে ৯৩ হাজার ৪২৪ কোটি টাকা। যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে ব্যয় ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ৩১৫ কোটি টাকা। কেবল এপ্রিল মাসেই অর্থছাড় হয়েছে মাত্র ১০ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা, যা আগের বছরের এপ্রিলের তুলনায় ৭ হাজার কোটির বেশি কম।
সরকারি কর্মকর্তাদের দাবি, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে “জুলাই অভ্যুত্থানের” পর অনেক ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন বা প্রকল্প এলাকা ছেড়ে গেছেন, ফলে উন্নয়ন কার্যক্রমে স্থবিরতা এসেছে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা
পরিকল্পনা বিভাগের সাবেক সচিব মামুন আল রশিদ বলেন, “অনেক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষ হলেও বিল পরিশোধ হয়নি। এসব বিল যাচাই-বাছাইয়ের কারণে খরচ কম হচ্ছে। তবে বছরের শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়ো করে খরচ বাড়ানো হলে অপচয় ও দুর্নীতির ঝুঁকি বাড়ে।”
আইএমইডির সাবেক সচিব আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন বলেন, “নানাবিধ কারণে এডিপি বাস্তবায়ন ব্যাহত হচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো অর্থছাড় কম হওয়া। সরকার এখন শুধুমাত্র গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর দিকেই জোর দিচ্ছে।”
এডিপি কাঠামো ও খরচ বিশ্লেষণ
চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার ১৬৪ কোটি টাকা, যা মূল বরাদ্দের তুলনায় প্রায় ৩৯ হাজার কোটি টাকা কম। এর মধ্যে এখনও বাকি রয়েছে ১ লাখ ৩২ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা খরচের লক্ষ্য।
তবে পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই বিশাল অঙ্কের টাকা শেষ দুই মাসে খরচ হওয়া সম্ভব নয়। সর্বোচ্চ ৫০-৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি খরচ হবে না বলে তারা ধারণা করছেন।
খাতভিত্তিক ব্যয়ের চিত্র
স্থানীয় সরকার বিভাগ খরচ করেছে সর্বোচ্চ ১৯ হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা
বিদ্যুৎ বিভাগ ব্যয় করেছে ১৫ হাজার ২৭০ কোটি টাকা
সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ খরচ করেছে ৮ হাজার ৬২৫ কোটি টাকা
স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ খরচ করেছে মাত্র ৫৩ কোটি টাকা
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ব্যয় করেছে ৮৪৫ কোটি টাকা
থোক বরাদ্দ ও কাটছাঁট
চলতি অর্থবছরের এডিপি থেকে এরই মধ্যে ৪৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের চাহিদা না থাকায়। বরাদ্দকৃত ২৬ হাজার ৬৩২ কোটি টাকা রয়েছে “থোক বরাদ্দ” নামে, যা প্রায় কোনো অর্থবছরেই খরচ হয় না।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সংকট এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলার অভাবের কারণে চলতি বছর এডিপি বাস্তবায়ন লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা কম হতে পারে।
এ অবস্থায় উন্নয়ন খরচে গুণগত মান বজায় রাখা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন বিশেষজ্ঞরা।
Posted ১২:৩৬ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২০ মে ২০২৫
sharebazar24 | sbazaradmin
.
.