নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫ | 365 বার পঠিত | প্রিন্ট
প্রায় ১১৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকার বকেয়া ঋণ আদায়ের লক্ষ্যে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক এশিয়া পারটেক্স কোল লিমিটেডের বন্ধকী সম্পত্তি নিলামে তুলেছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবেল আজিজ বর্তমানে সিটি ব্যাংকের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
সম্প্রতি ব্যাংক এশিয়ার মহাখালী শাখা থেকে প্রকাশিত এক নিলাম বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মানি লোন কোর্ট অ্যাক্ট, ২০০৩ অনুযায়ী এই সম্পত্তি বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে নিলামে টেন্ডার জমা দেওয়ার শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ আগস্ট।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ঋণের বিপরীতে বন্ধক রাখা সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে ঢাকা ও গাজীপুরে অবস্থিত মোট ২৫৯.৩৬ শতক জমি এবং একটি কারখানা ভবন। পারটেক্স কোল লিমিটেডের চলতি বছরের ৯ জুলাই পর্যন্ত বকেয়া ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১৬.৪৫ কোটি টাকা। ঋণ নিয়মিত না হওয়ায় তা শ্রেণিকৃত হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
ব্যাংক এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেল আর কে হুসেইন বলেন, “প্রতিষ্ঠানটি আইন অনুযায়ী সময়মতো ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছে, তাই ঋণটি ক্লাসিফাইড হয়েছে। আমরা আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানে আগ্রহী। তবে বকেয়া পরিশোধ না হলে আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী নিলাম কার্যক্রম চলবে।”
নিলাম বিজ্ঞপ্তিতে পারটেক্স কোলের এমডি রুবেল আজিজ ছাড়াও প্রতিষ্ঠানটির সাবেক চেয়ারম্যান এবং পারটেক্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত এম এ হাসেমসহ আরও পাঁচজনের নাম রয়েছে। রুবেল আজিজ পারটেক্স গ্রুপের অধীন একাধিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পাশাপাশি বনানী ক্লাবের সভাপতির দায়িত্বেও রয়েছেন।
২০১৪ সালের ডিসেম্বরে প্রতিষ্ঠিত পারটেক্স কোল লিমিটেড ২০১৫ সালের মার্চ থেকে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটি মূলত ইন্দোনেশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে কয়লা আমদানি করে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে ইটভাটাগুলোতে সরবরাহ করে থাকে।
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। ২০২৫ সালের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা, যেখানে ব্যাংক মালিক ও পরিচালকদের অধীনে থাকা ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা।
এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি ‘ব্যাংক কোম্পানি আইন’ অনুযায়ী পরিচালক পদে যোগ্যতা সম্পর্কে নীতিমালা জারি করে। তাতে বলা হয়, কেউ নিজ বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের খেলাপি হলে তিনি পরিচালকের অযোগ্য হবেন। তবে ঋণ নিয়মিত হলে আবার দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাবেন। তবে ইচ্ছাকৃত খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হলে, খেলাপি অবস্থা থেকে মুক্ত হওয়ার পরও পরবর্তী পাঁচ বছর পরিচালক হওয়া যাবে না।
Posted ১১:৪১ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫
sharebazar24 | sbazaradmin
.
.