নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ | 29 বার পঠিত | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগে তালিকাভুক্ত কোম্পানি রিজেন্ট টেক্সটাইল মিলসের পাঁচ পরিচালককে মোট ১০০ কোটি টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
বিএসইসির এনফোর্সমেন্ট বিভাগের জারি করা আদেশে প্রত্যেক পরিচালককে ব্যক্তিগতভাবে ২০ কোটি টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার আওতায় থাকা পাঁচ পরিচালক হলেন—ইয়াকুব আলী, ইয়াসিন আলী, তানভীর হাবিব, মাশরুফ হাবিব ও সালমান হাবিব।
কমিশনের আগের নির্দেশনা অনুযায়ী, রিজেন্ট টেক্সটাইলের অব্যবহৃত ও অপব্যবহৃত ৯০ কোটি টাকা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোম্পানির ব্যাংক হিসাবে ফেরত জমা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হলেও অর্থটি কোম্পানির হিসাবে ফেরত দেওয়া হয়নি। বিষয়টি তদন্তের পর পাঁচ পরিচালকের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের জরিমানা আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি।
বিএসইসির আদেশ অনুযায়ী, আদেশ জারির তারিখ থেকে ২০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রত্যেক পরিচালককে ২০ কোটি টাকা করে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে প্রত্যেক পরিচালকের ওপর প্রতিদিন অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা আরোপ করা হবে। জরিমানার মূল অর্থ বকেয়া থাকা পর্যন্ত এই অতিরিক্ত জরিমানা আদায় অব্যাহত থাকবে।
বিএসইসির তদন্তে রিজেন্ট টেক্সটাইলের আইপিওর অর্থ ব্যবহারে আরও গুরুতর অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুদসহ ৮০ কোটি ১১ লাখ টাকা রিজেন্ট টেক্সটাইলের অব্যবহৃত আইপিও তহবিল থেকে সরিয়ে লিগ্যাসি ফ্যাশন লিমিটেডের ৯৯ শতাংশ মালিকানা অর্জনে ব্যবহার করা হয়েছে।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, লিগ্যাসি ফ্যাশন লিমিটেড একই পরিবারের সদস্যদের মালিকানাধীন ও নিয়ন্ত্রিত একটি প্রতিষ্ঠান। বিএসইসির বিবেচনায়, রিজেন্ট টেক্সটাইলের আইপিওর অর্থ এভাবে সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করা বিধিবহির্ভূত।
আইপিওর অর্থ অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে সংঘটিত লেনদেন আর্থিক প্রতিবেদনে প্রকাশের ক্ষেত্রেও অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে কমিশন। তদন্তে বাংলাদেশ অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ড (বিএএস) ১ এবং আন্তর্জাতিক হিসাবমান আইএএস ২৪ অনুসরণ করা হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া কোম্পানির আর্থিক বিবরণীতে প্রকৃত ও ন্যায্য আর্থিক চিত্র যথাযথভাবে তুলে ধরতে ব্যর্থতার বিষয়টিও বিএসইসির তদন্তে চিহ্নিত হয়েছে।
রিজেন্ট টেক্সটাইল ২০১৫ সালে আইপিওর মাধ্যমে শেয়ারবাজার থেকে ১২৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। আইপিও থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে কোম্পানির বিএমআরই প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং নতুন একটি তৈরি পোশাক ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা ছিল।
তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। পরে কোম্পানিটি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য একাধিকবার সময় বাড়িয়ে নেয়। এর ফলে আইপিও থেকে সংগৃহীত অর্থের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ দীর্ঘ সময় অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে ছিল।
পরবর্তীতে ওই অর্থের একটি অংশ অন্য প্রতিষ্ঠানে ব্যবহারের বিষয়টি বিএসইসির নজরে আসে। কমিশনের মতে, আইপিও অনুমোদনের সময় নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী অর্থ ব্যবহারের পরিবর্তে তা অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর ও বিনিয়োগের মাধ্যমে শর্ত লঙ্ঘন করা হয়েছে।
Posted ১০:৪৫ পিএম | সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
sharebazar24 | sajed khan
.
.