নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ | 25 বার পঠিত | প্রিন্ট
ঢাকা, ২৮ এপ্রিল ২০২৬: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখে সমাপ্ত তৃতীয় প্রান্তিক এবং চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসের (জুলাই–মার্চ) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, কোম্পানিটির বিক্রয় আয় বেড়েছে, তবে করের চাপ বৃদ্ধির কারণে নিট মুনাফা কমেছে।
রাজস্ব ও মুনাফা পরিস্থিতি
২০২৫-২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি–মার্চ ২০২৬) কোম্পানির রাজস্ব দাঁড়িয়েছে ৭০৮ কোটি ৮১ লাখ ৮৮ হাজার ৩৭৬ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৬৫২ কোটি ৬২ লাখ ১১ হাজার ২৮৫ টাকা। অর্থাৎ, ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে রাজস্ব বেড়েছে প্রায় ৮.৬১ শতাংশ।
তবে একই সময়ে কর-পরবর্তী নিট মুনাফা কমে হয়েছে ২৮ কোটি ৪৭ লাখ ৬৪ হাজার ১৫৭ টাকা, যা আগের বছরে ছিল ৪২ কোটি ৯৮ লাখ ৬ হাজার ৮৪৮ টাকা।
অন্যদিকে, ৯ মাসে কোম্পানির মোট রাজস্ব দাঁড়িয়েছে ২,২৫৬ কোটি ৪৫ লাখ ৭৩ হাজার ৯৫৩ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২,১৪২ কোটি ৮৮ লাখ ২৭ হাজার ৭৫৭ টাকা।
এই সময়ে নিট মুনাফা কমে হয়েছে ১৪৮ কোটি ১৮ লাখ ৫৩ হাজার ৮৯১ টাকা, যা আগের বছরে ছিল ১৫৯ কোটি ২৯ লাখ ৪৬ হাজার ৩৫০ টাকা।
শেয়ারপ্রতি আয় (EPS)
তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (EPS) দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৪২ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২ টাকা ১৫ পয়সা।
৯ মাসে ইপিএস কমে হয়েছে ৭ টাকা ৪১ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৭ টাকা ৯৭ পয়সা।
নগদ প্রবাহ পরিস্থিতি
৩১ মার্চ ২০২৬ শেষে শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ (NOCFPS) দাঁড়িয়েছে ৭ টাকা ১৩ পয়সা, যা আগের বছরে ছিল ৮ টাকা ৯৫ পয়সা।
কোম্পানির তথ্যমতে, আয়কর পরিশোধ বৃদ্ধি পাওয়ায় নগদ প্রবাহ কমেছে।
নেট অ্যাসেট ভ্যালু (NAV)
৩১ মার্চ ২০২৬ শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (NAV) দাঁড়িয়েছে ৬৬ টাকা ৭৬ পয়সা, যা আগের বছরে ছিল ৬০ টাকা ২৬ পয়সা। অর্থাৎ, সম্পদমূল্যে উন্নতি হয়েছে।
আর্থিক অবস্থান
কোম্পানির মোট সম্পদ ও শেয়ারহোল্ডারদের ইক্যুইটি উভয়ই বেড়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মূলত জাইকা-সহায়িত প্রকল্পের আওতায় যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড (BIFFL) থেকে নেওয়া অর্থায়নের কারণে হয়েছে।
সম্প্রসারণে জমি ক্রয়ের সিদ্ধান্ত
পরিচালনা পর্ষদ ভবিষ্যৎ ব্যবসা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও ও বন্দর উপজেলায় মোট ৪টি পৃথক চুক্তিতে প্রায় ৪৫৪ দশমিক ৯৯ ডেসিমেল জমি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এসব জমি কেনার জন্য মোট প্রায় ১১ কোটি ৫৪ লাখ ৯০ হাজার টাকার বেশি ব্যয় হবে। কোম্পানির লোলাতি কারখানার পাশেই এসব জমিতে ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
সার্বিক চিত্র
প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের বিক্রয় আয় বৃদ্ধি পেলেও করের চাপ বৃদ্ধির কারণে নিট মুনাফা কমেছে। একই সঙ্গে নগদ প্রবাহ কিছুটা কমেছে, তবে সম্পদমূল্যে উন্নতি হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে জমি কেনার সিদ্ধান্ত কোম্পানির সম্প্রসারণ পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
Posted ১০:৪৪ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
sharebazar24 | sajed khan
.
.