নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬ | 27 বার পঠিত | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের শেয়ারবাজারকে আরও স্থিতিশীল, স্বচ্ছ ও বিনিয়োগবান্ধব করতে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে কর কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এসব সুপারিশ করা হয়েছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রাক্–বাজেট আলোচনায় ডিএসই তাদের প্রস্তাবগুলো উপস্থাপন করে। এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় ডিএসই জানায়, শেয়ারবাজারকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে কর নীতিতে সংস্কার অপরিহার্য।
বন্ড বাজারে কর সুবিধার প্রস্তাব
ডিএসইর প্রস্তাবে বলা হয়েছে, তালিকাভুক্ত বন্ড থেকে অর্জিত সুদের আয়ের ওপর করনীতিতে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্যান্য বিনিয়োগকারীদের জন্য নির্দিষ্ট বন্ডে পাঁচ বছরের আয়কর অব্যাহতির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য করপোরেট বন্ডের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ উৎসে করকে চূড়ান্ত কর হিসেবে বিবেচনার সুপারিশ করা হয়েছে।
ডিএসইর মতে, এতে কার্যকর বন্ড বাজার গড়ে উঠবে এবং সরকারের সুদ ব্যয়ও কমে আসবে।
বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে কর অব্যাহতি
বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে ডিএসই তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে অ-নিবাসী বিনিয়োগকারীদের মূলধনী মুনাফার ওপর পাঁচ বছরের জন্য সম্পূর্ণ কর মওকুফের প্রস্তাব দিয়েছে।
বর্তমানে দেশের শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ খুবই সীমিত, মোট লেনদেনের মাত্র ১.৫৭ শতাংশ। কর সুবিধা দিলে পোর্টফোলিও বিনিয়োগ বাড়বে, বাজারে তারল্য বৃদ্ধি পাবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ শক্তিশালী হবে বলে মনে করছে সংস্থাটি।
এসএমই খাতে প্রণোদনা
ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দিতে ডিএসই প্রস্তাব করেছে, এসএমই বোর্ডে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে পাঁচ বছরের জন্য কর অবকাশ দেওয়া হোক। বর্তমানে এসব কোম্পানিকে ২০ শতাংশ হারে কর দিতে হয়।
প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তি বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে করভিত্তি সম্প্রসারিত হবে বলে ধারণা ডিএসইর।
মিউচুয়াল ফান্ড ও ইটিএফে কর রেয়াত
ডিএসই আরও সুপারিশ করেছে, মিউচুয়াল ফান্ড, ইউনিট সার্টিফিকেট এবং এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ডে (ইটিএফ) বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কর রেয়াতের সীমা বাড়ানো হোক। এতে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি কমিয়ে বাজারে অংশ নিতে উৎসাহিত হবেন।
ক্ষতি সমন্বয় ও মূলধনী মুনাফা কর
প্রস্তাবনায় ব্যবসায়িক ক্ষতি অন্যান্য আয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের সুযোগ পুনর্বহালের কথাও বলা হয়েছে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত কোম্পানিগুলো ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
এছাড়া সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য তালিকাভুক্ত শেয়ারে মূলধনী মুনাফার করহার কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত মুনাফা করমুক্ত রাখা এবং এর বেশি অংশে ৫ শতাংশ হারে কর আরোপের কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে এই করহার ১৫ শতাংশ।
ডিভিডেন্ড আয়ে কর সহজীকরণ
ডিএসই প্রস্তাব করেছে, ডিভিডেন্ড আয়ের ওপর উৎসে কাটা করকে চূড়ান্ত করদায় হিসেবে গণ্য করা হোক। এতে বিনিয়োগকারীদের কর সংক্রান্ত জটিলতা কমবে এবং ডিভিডেন্ডভিত্তিক বিনিয়োগ বাড়বে।
বাজার উন্নয়নে কর সংস্কারের গুরুত্ব
ডিএসইর পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, দেশের প্রায় এক কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে শেয়ারবাজারের সঙ্গে যুক্ত। তাই একটি শক্তিশালী ও টেকসই বাজার গড়ে তুলতে কর নীতির আধুনিকায়ন অত্যন্ত জরুরি।
সংস্থাটির মতে, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ বাড়বে, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আকৃষ্ট হবেন, এসএমই খাত সম্প্রসারিত হবে এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আরও সহজে বাজারে অংশ নিতে পারবেন।
Posted ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬
sharebazar24 | sajed khan
.
.