নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬ | 163 বার পঠিত | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চারটি মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম তদন্তে নেমেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং বাজারের স্থিতিশীলতা ধরে রাখার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
বিএসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেড, প্রিমিয়ার লিজিং সিকিউরিটিজ লিমিটেড, গ্রিন ডেল্টা সিকিউরিটিজ লিমিটেড এবং লঙ্কাবাংলা ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড-এর সার্বিক কার্যক্রম খতিয়ে দেখা হবে। এর মধ্যে লঙ্কাবাংলা ইনভেস্টমেন্টস একটি মার্চেন্ট ব্যাংক হিসেবে কাজ করছে।
জানা গেছে, গত ১১ মার্চ এ তদন্ত পরিচালনার জন্য চারটি পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে একাধিক অসঙ্গতি চিহ্নিত হয়েছে। বিশেষ করে নেগেটিভ ইকুইটি, মার্জিন ঋণ, আর্থিক প্রতিবেদন এবং কর্পোরেট গভর্ন্যান্স-সংক্রান্ত বিষয়গুলো তদন্তে গুরুত্ব পাবে।
প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের তদন্তে আলাদা কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেডের তদন্তে নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপপরিচালক মো. রফিকুন্নবী ও সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সাদেকুর রহমান ভূঁইয়া। প্রিমিয়ার লিজিং সিকিউরিটিজ লিমিটেডের তদন্তে দায়িত্ব পালন করছেন অতিরিক্ত পরিচালক মো. ওহিদুল ইসলাম এবং সহকারী পরিচালক মো. মারুফ হাসান।
অন্যদিকে, লঙ্কাবাংলা ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের তদন্তে রয়েছেন অতিরিক্ত পরিচালক (লিগ্যাল) মুহাম্মদ জিয়াউর রহমান ও সহকারী পরিচালক অমিত কুমার সাহা। আর গ্রিন ডেল্টা সিকিউরিটিজ লিমিটেডের তদন্তে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অতিরিক্ত পরিচালক উম্মে সালমা এবং সহকারী পরিচালক মো. মতিউর রহমান-কে। সব কমিটিকে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্তের আওতায় মূলত দেখা হবে, নেগেটিভ ইকুইটি থাকা অবস্থায় কোনো প্রতিষ্ঠান নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে কি না। পাশাপাশি এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজ এবং লঙ্কাবাংলা ইনভেস্টমেন্টসের ক্ষেত্রে তথ্য বিকৃতি, মার্জিন ঋণের সীমা অতিক্রম এবং গ্রাহকের সম্মতি ছাড়া হিসাব খোলার অভিযোগও যাচাই করা হবে।
বিএসইসি আরও জানিয়েছে, প্রিমিয়ার লিজিং সিকিউরিটিজ গ্রাহকদের পাওনাকে পর্যাপ্ত প্রভিশন ছাড়াই সম্পদ হিসেবে দেখিয়েছে কি না, সেটিও তদন্তে থাকবে। অন্যদিকে গ্রিন ডেল্টা সিকিউরিটিজের ক্ষেত্রে সুদ ও মূলধনের হিসাবপদ্ধতি এবং প্রভিশন ঘাটতির বিষয় খতিয়ে দেখা হবে।
এ ছাড়া লঙ্কাবাংলা ইনভেস্টমেন্টসের ‘ইন্টারেস্ট সাসপেন্স’ হিসাবের যথার্থতা এবং ১০৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকার সুদ দায় স্বীকার না করার বিষয়ও তদন্তের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি বলেছে, এসব অনিয়মে প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ ব্যবস্থাপনা, পরিচালনা পর্ষদ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা ও দায়ও মূল্যায়ন করা হবে। কমিশনের কর্মকর্তাদের ধারণা, কর্পোরেট গভর্ন্যান্সের দুর্বলতার কারণেই দীর্ঘ সময় ধরে এসব অনিয়ম চলতে পেরেছে।
Posted ৮:৪৯ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬
sharebazar24 | sajed khan
.
.