রবিবার ১লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ব্রেকিং নিউজ >>
ব্রেকিং নিউজ >>

ডমিনেজ স্টিলের উৎপাদন বন্ধ, বাড়ছে লোকসান তবুও শেয়ার নিয়ে কারসাজি!

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 0 বার পঠিত | প্রিন্ট

ডমিনেজ স্টিলের উৎপাদন বন্ধ, বাড়ছে লোকসান তবুও শেয়ার নিয়ে কারসাজি!

বিশেষ প্রতিনিধি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের কোম্পানি ডমিনেজ স্টিল অ্যান্ড বিল্ডিং সিস্টেমস শেয়ার নিয়ে কারসাজির অভিযোগ তুলেছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। তাদের মতে, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে কোম্পানিটির শেয়ার নিয়ে কারসাজি করছে। মুলত চক্রটি কৃত্রিমভাবে শেয়ারদর বাড়িয়ে প্রচুর অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, শীর্ষ এক ব্রোকারেজ হাউজ থেকে শেয়ারটি নিয়ে কারসাজি হচ্ছে। তবে দেশের পুঁজিবাজারে কারসাজির ইতিহাস নতুন নয়। প্রথমে গোপন তথ্য বাজারে ছড়ানো হয়, তারপর কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানো, এরপর শেয়ার বিক্রি করে কোম্পানির পক্ষ থেকে সংবেদনশীল গোপন তথ্য প্রকাশ করা হয়। পুরোনো এই কৌশলে দিনের পর দিন বিনিয়োগকারীদের নিঃস্ব করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ডমিনেজ স্টিল অ্যান্ড বিল্ডিং সিস্টেমস এই পুরোনো খেলার পুনরাবৃত্তি করেছে। এর ফলে আবারও নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও স্টক এক্সচেঞ্জের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জানা গেছে, একটি চক্র কোম্পানিটির বিক্রির গুজব ছড়িয়ে শেয়ার দর বাড়িয়ে দিচ্ছে। এছাড়া দুর্বল মৌল ভিত্তি শেয়ার নিয়ে হরহামেশা কারসাজি চলছে। এ বিষয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার খতিয়ে দেখা উচিত। বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছরের জুন মাসে এ কোম্পানির শেয়ারের দর ছিল ১০ টাকা আর মাত্র ৭ মাসের ব্যবধানে কোম্পানিটির শেয়ার দর তিন গুনের বেশি বাড়ছে। লেনদেন হচ্ছে। আর সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে কোম্পানির শেয়ার বিক্রেতা শুন্য হয়ে যায়। এতে কোম্পানির শেয়ারটি হল্টেড হয়ে মূল্য স্পর্শ করছে সার্কিট ব্রেকারে।
ডিএসইর সূত্র মতে, গত নভেম্বর মাসে ডমিনেজ স্টিল অ্যান্ড বিল্ডিং সিস্টেমস লিমিটেডের নরসিংদীর কারখানা বন্ধ পেয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ। তবে কোম্পানির সাভারের কারখানাটি নামমাত্রা চালু রয়েছে। সম্প্রতি ডিএসইর একটি পরিদর্শক দল সরেজমিন কোম্পানির নরসিংদী কারখানা পরিদর্শনে গেলে কারখানা বন্ধ পায়।

ডিএসই বলছে, সাধারণত নিয়মিতভাবে কোম্পানি সম্পর্কিত তথ্য প্রকাশ করছে না বা স্টক এক্সচেঞ্জের সঙ্গে যোগাযোগ নেই এমন কারণে কোম্পানি পরিদর্শন করে থাকে স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ। এরই ধরাবাহিকতায় গত ৪ নভেম্বর ডমিনেজ স্টিল অ্যান্ড বিল্ডিং সিস্টেমস লিমিটেডের নরসিংদীর কারখানা পরিদর্শনে যায় ডিএসইর একটি প্রতিনিধিদল। তবে পরিদর্শনে গিয়ে তারা কারখানাটি বন্ধ পায়।

তবে কারখানা বন্ধ থাকলেও শেয়ার নিয়ে হরহামেশা কারসাজি হচ্ছে। কোম্পানিটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় লোকসানের পাহাড় গড়ছে। যতই লোকসান বাড়ছে ততই শেয়ারটি নিয়ে কারসাজি হচ্ছে।

জানা গেছে, কোম্পানিটি চলতি হিসাবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর’২৫-ডিসেম্বর’২৫) কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি লোকসান (ইপিএস) হয়েছে ৭ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ১ পয়সা। অপরদিকে ৬ মাসে (জুলাই’২৫-ডিসেম্বর’২৫) কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি লোকসান (ইপিএস) হয়েছে ৯ পয়সা । গত অর্থবছরের একই সময়ে শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ৯ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি সম্পদ (এনএভি) হয়েছে ১৭ টাকা ৫ পয়সা।
মুলত ২০২০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া ডমিনেজ স্টিলের পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ১০২ কোটি ৬০ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১০ কোটি ২৬ লাখ। এর মধ্যে কোম্পানিটির পরিচালকের কাছে রয়েছে ৩০ দশমিক ২০ শতাংশ। তেমনি ৫৮ দশমিক ৩২ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে। আর বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ০.০৮ শতাংশ, এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর কাছে রয়েছে ১১ দশমিক ৪০ শতাংশ।

বাবা-শ্বশুরের ক্ষমতার লুবরেফ বিডির ৩০ কোটি টাকার শেয়ার লুট
পুঁজিবাজারে অভিনব কৌশলে ৩০ কোটি টাকা হস্তান্তর করেছেন দ্বৈত নাগরিক নুসরাত নাহার যিনি সিঙ্গাপুরের রেসিডেন্ট কার্ডও পান। নুসরাত লুবরেফ বাংলাদেশ লিমিটেডের (বিএনও) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফের কন্যা। তিনি সাউথইস্ট ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আলমগীর কবিরের পুত্রবধূও। বাবা-শ্বশুরের এই প্রভাব ও ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে নুসরাত শেয়ারবাজারের নিয়মনীতি উপেক্ষা করে বিপুল অঙ্কের টাকা সরিয়ে নেন। শেয়ারবাজারে লেনদেনের জন্য ব্রোকারেজ হাউসে বেনিফিশারি ওনার্স (বিও) হিসাব থাকা বাধ্যতামূলক। এই হিসাব খোলার প্রধান শর্ত হলো গ্রাহকের নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকা। সাধারণত বিও-তে টাকা জমা দেওয়া গেলেও, টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক।

বিএসইসি রুলস ২০২০-এর বিধি ৬(১) স্পষ্টভাবে এই নিয়ম সকল বিও হিসাবধারীর জন্য বাধ্যতামূলক করেছে। কিন্তু নুসরাতের ৩০ কোটি টাকার লেনদেনে এই নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে। অর্থনৈতিক ও শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন প্রভাবশালী ব্যক্তির কারণে বাজারের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাস প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

শেয়ারবাজারে এক নারী ব্যক্তি নিয়মভঙ্গের মাধ্যমে ৩০ কোটি টাকার সম্পদ হস্তান্তরের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। নুসরাত নাহার নামে এই নারী বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে ২০১৭ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ শাখার এনআরবি ইক্যুয়িটি ম্যানেজমেন্ট ব্রোকারেজ হাউসে মাত্র ৫০০ টাকার বিনিময়ে একটি বিও (বেনিফিশারি ওনার্স) হিসাব খোলেন। অদ্ভুতভাবে, এই হিসাবের মধ্যে কোনো টাকা জমা না থাকলেও লুবরেফ বাংলাদেশ লিমিটেডের ৮৮ লাখ ইউনিট শেয়ার (মোট শেয়ারের ৬.০৬ শতাংশ) জমা হয়। ফেস ভ্যালুতে এর মূল্য ছিল ৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা। তদন্তে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে, নন-রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি বিদেশ থেকে এই অর্থ ব্যাংক চ্যানেলের মাধ্যমে এনেছেন। প্রি-আইপিও প্লেসমেন্ট হিসেবে শেয়ার ক্রয়ের অর্থ কোম্পানিকে প্রদান করেছেন কিনা, সে বিষয়ে কোনো ডকুমেন্ট শেয়ার-সংশ্লিষ্টরা দিতে পারেননি।

দৃশ্যপটে আসে বিএলআই ক্যাপিটাল লিমিটেড। রাজধানীর বাংলামটরে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানটি সাউথইস্ট ব্যাংকে পরিচালিত একটি হিসাব ব্যবহার করে নুসরাত নাহার সন্দেহজনক লেনদেন করেন। নুসরাতের নিজস্ব কোনো ব্যাংক হিসাব না থাকায় কোম্পানির ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে প্রায় ১৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকার শেয়ার ক্রয় করা হয়, যা পে-অর্ডারের মাধ্যমে করা হয়। ২০১৭ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে এই লেনদেন ঘটে। তদন্তে দেখা গেছে, নুসরাতের নামে বিভিন্ন উৎস থেকে ‘বেনামি’ অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি মিথ্যা ঋণের তথ্য দেখানো হয়। পে-অর্ডারের মাধ্যমে শেয়ার ক্রয় এবং পরে তা বিক্রি করে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩০ কোটি ৫৫ লাখ টাকা উত্তোলন করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, নুসরাত নাহারের বিও হিসাব থেকে অধিকাংশ নগদ উত্তোলন করেছেন মো. আব্দুল খালেক নামে একজন ব্যক্তি। খালেকের নামে সাউথইস্ট ব্যাংকের করপোরেট শাখায় একটি হিসাব রয়েছে। বিএসইসি রুলস ২০২০-এর বিধি ৬(১) অনুযায়ী, বিও হিসাব থেকে নগদ উত্তোলন করা যায় না। তবুও বিএলআই ক্যাপিটাল লিমিটেডের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ২ কোটি টাকা নগদ উত্তোলন করা হয়েছে। তদন্তে মনে করা হচ্ছে, বিএলআই ক্যাপিটাল লিমিটেড এবং বিএলআই লিজিং-এর সাউথইস্ট ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে নুসরাত নাহারের নামে শেয়ার ইস্যু দেখিয়ে লুটপাট করা হয়েছে। রেকর্ড বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নুসরাত নিজে ১৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা প্রদান করেননি। এছাড়া, বিও হিসাব থেকে মোট উত্তোলিত প্রায় ৩০ কোটি ৫৫ লাখ টাকা কোনো ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে জমা হয়নি। অর্থাৎ পুরো অর্থই পাচার হয়েছে।

সংক্ষেপে, নুসরাত নাহারের নামে দুটি বিও হিসাবের মাধ্যমে ৩০ কোটি টাকার বেশি সম্পদ অজানা উৎস থেকে প্রবাহিত হয়েছে। নিজের নামে কোনো ব্যাংক হিসাব না খুলে ব্রোকারেজ বা তৃতীয় পক্ষের হিসাব ব্যবহার করে ৮৮ লাখ ইউনিট আইপিও শেয়ার ক্রয় করা হয়েছে। কয়েক বছর ধরে এসব অনিয়ম চললেও ব্রোকারেজ হাউসের অডিটররা বিষয়টি চিহ্নিত করতে পারেননি।

তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, নুসরাত নাহারের শ্বশুর আলমগীর কবির তখন সাউথইস্ট ব্যাংকের চেয়ারম্যান থাকায় ব্যক্তিগত কোনো ব্যাংক হিসাব না থাকলেও ব্যাংকের করপোরেট ও অন্যান্য হিসাব থেকে তার নামে নির্বিঘ্নে পে-অর্ডার ইস্যু করা সম্ভব হয়েছে। এই প্রভাবই পুরো লেনদেন ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে মনে করছেন তারা।
কেওয়াইসি নীতিমালা, ব্যাংক হিসাব পরিচালনার নিয়ম এবং সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী, নিজস্ব ব্যাংক হিসাব ছাড়া কোনো বিও হিসাব খোলা বা পরিচালনা করার সুযোগ নেই। অথচ নুসরাত নাহারের কোনো ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব না থাকলেও বিএলআই ক্যাপিটাল তাকে শেয়ার লেনদেনের সুযোগ দিয়েছে। এতে করে ব্রোকারেজ হাউসটির লাইসেন্সিং শর্ত লঙ্ঘিত হয়েছে বলে মত তদন্তকারীদের। এ ছাড়া মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ অনুযায়ী বৈধ উৎস ছাড়া বিপুল অঙ্কের অর্থ স্থানান্তর এবং সেই অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে পাঠানো গুরুতর অপরাধ। নুসরাত নাহারের ক্ষেত্রে এই দুই ধরনের অনিয়মই ঘটেছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, নুসরাত নাহার বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তার বাবা, লুবরেফ বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো খুদে বার্তারও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনওর তৎকালীন প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) মফিজুল ইসলাম বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নেই। কোম্পানি সেক্রেটারি কবির হোসেনের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএলআই ক্যাপিটালের সিসিও এবং বর্তমানে সিইওর দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, তদন্তে নিয়োজিত সব সংস্থাকে তারা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছেন। বিএলআই ক্যাপিটালের বর্তমান সিএফও মিথুন দত্ত জানান, আগের প্রশাসনের সময়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বর্তমান ব্যবস্থাপনার স্পষ্ট ধারণা নেই। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানের সাবেক এমডি ইসরাইল হোসেন, ডিএমডি মফিজুল ইসলাম এবং সিএফও আহমেদ মেহফুজ মঈন—এই তিনজনই এখন আর প্রতিষ্ঠানে নেই।
এদিকে তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন জানান, নগদ অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে চেকে স্বাক্ষর করেছিলেন তৎকালীন সিএফও আহমেদ মেহফুজ মঈন এবং ডিএমডি মফিজুল ইসলাম। এর মধ্যে আহমেদ মেহফুজ মঈন বিদেশে চলে গেছেন বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। মফিজুল ইসলামের ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) মুখপাত্র আবুল কালাম জানান, পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাউথইস্ট ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কোনো গ্রাহক প্রতিষ্ঠান পে-অর্ডারের মাধ্যমে তৃতীয় পক্ষকে অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দিলে ব্যাংকের তা আটকানোর ক্ষমতা সীমিত। তবে এই ঘটনায় পেমেন্ট প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে আয়কর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিদেশে অবস্থান করলেও দেশে ব্যবসা বা বিনিয়োগ থাকলে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) এবং নিয়মিত ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক। নুসরাত নাহারের ক্ষেত্রে এসব শর্ত মানা হয়নি। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) নুসরাত নাহারের মাধ্যমে পাচার হওয়া অর্থ কোন দেশে গেছে, তা শনাক্তে কাজ করছে বলে জানা গেছে।

Facebook Comments Box

Posted ১০:১৪ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

sharebazar24 |

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭
মো. সিরাজুল ইসলাম সম্পাদক
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

৬০/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

হেল্প লাইনঃ 01742-768172

E-mail: sharebazar024@gmail.com