নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ | 22 বার পঠিত | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারের অন্যতম আলোচিত আর্থিক জালিয়াতির ঘটনায় অভিযুক্ত তামহা সিকিউরিটিজ লিমিটেডের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। ব্রোকারেজ হাউজটির মালিক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুই শতাধিক বিনিয়োগকারীর প্রায় ৮৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ভুক্তভোগীরা চার বছরের বেশি সময় ধরে তাঁদের বিনিয়োগ করা অর্থ ফেরত না পেয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।
এই পরিস্থিতিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সম্প্রতি শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-কে একটি চিঠি পাঠিয়ে দ্রুত বিনিয়োগকারীদের লুণ্ঠিত অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগেই গড়ায় মন্ত্রণালয়ে
এই আইনি প্রক্রিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ভুক্তভোগী বিনিয়োগকারী মো. আজিজার রহমান। তাঁর অভিযোগ, তামহা সিকিউরিটিজ কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই জালিয়াতির মাধ্যমে তাঁর দুটি বিও হিসাব থেকে বিপুল পরিমাণ শেয়ার বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করেছে। প্রতিকার চেয়ে তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে বিএসইসি-কে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয় মন্ত্রণালয়।
এর ধারাবাহিকতায় বিএসইসি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) দ্রুত বিষয়টি নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে। আজিজার রহমান জানান, ডিএসই তাঁর পাওনা টাকার একটি অংশ ফেরত দিলেও এখনো প্রায় ৪৩ লাখ টাকা অনাদায়ী রয়ে গেছে। এই অর্থ উদ্ধারে তিনি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
অভিনব কৌশলে জালিয়াতি
তামহা সিকিউরিটিজের প্রতারণার ধরন ছিল অত্যন্ত কৌশলী ও ভয়াবহ। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি দুটি আলাদা ‘ব্যাক অফিস সফটওয়্যার’ ব্যবহার করে বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করেছে। একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে গ্রাহকদের ভুয়া পোর্টফোলিও স্টেটমেন্ট দেখানো হতো, যাতে মনে হতো তাঁদের শেয়ার ও নগদ স্থিতি নিরাপদ রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে অন্য একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে গোপনে শেয়ার বিক্রি করে অর্থ সরিয়ে নেওয়া হতো।
২০২১ সালে পরিচালিত এক তদন্তে গ্রাহকদের মোট ঘাটতির পরিমাণ উঠে আসে প্রায় ১৩৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।
মামলা, হিসাব জব্দ ও লেনদেন স্থগিত
এই কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসার পর ২০২১ সালের ডিসেম্বরে বিএসইসি তামহা সিকিউরিটিজের লেনদেন স্থগিত করে। পরবর্তীতে ২০২২ সালে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হারুনুর রশিদসহ সংশ্লিষ্টদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করে।
এছাড়া এই আর্থিক জালিয়াতির ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতোমধ্যে এমডিসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।
বাজারে আস্থার প্রশ্ন
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের জালিয়াতি শেয়ারবাজারে আস্থাহীনতার অন্যতম বড় কারণ। দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে।
চলতি অর্থবছরের এই সংকটময় সময়ে আত্মসাৎকৃত অর্থ বিনিয়োগকারীদের ফেরত দেওয়া বাজারের তারল্য পরিস্থিতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ২০০৫ সালে ডিএসই-তে নিবন্ধিত তামহা সিকিউরিটিজের মতো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকির বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়বে।
বিশ্লেষকদের মতে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সরাসরি হস্তক্ষেপ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। এখন দেখার বিষয়, বিএসইসি ও ডিএসই কত দ্রুত এই অর্থ উদ্ধার করে ভুক্তভোগীদের হাতে তুলে দিতে পারে।
Posted ৭:৪৫ অপরাহ্ণ | রবিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
sharebazar24 | sbazaradmin
.
.