বৃহস্পতিবার ২২শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ব্রেকিং নিউজ >>
ব্রেকিং নিউজ >>

মিউচুয়াল ফান্ডে বড় পরিবর্তন আনছে বিএসইসি, বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন স্বস্তির পথ

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫ | 202 বার পঠিত | প্রিন্ট

মিউচুয়াল ফান্ডে বড় পরিবর্তন আনছে বিএসইসি, বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন স্বস্তির পথ

.নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘদিন ধরে বাজারে অচল অবস্থায় থাকা ক্লোজড-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ডগুলোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নতুন খসড়া সংশোধনীর মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়েছে— যদি কোনো ক্লোজড-এন্ড ফান্ডের ইউনিট ছয় মাস ধরে তার নিট অ্যাসেট ভ্যালু (এনএভি)-এর তুলনায় ২৫ শতাংশের বেশি ডিসকাউন্টে লেনদেন হয়, তবে সেটি বাধ্যতামূলকভাবে লিকুইডেশন বা ওপেন-এন্ড ফান্ডে রূপান্তর করতে হবে।

বিনিয়োগকারীদের আটকে থাকা অর্থ ফেরত ও বাজারে আস্থা ফেরাতে এই উদ্যোগকে “গেম চেঞ্জার” হিসেবে দেখছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

🔹 ২০১৮ সালের স্থবিরতা কাটাতে নতুন দিশা
বিএসইসি জানায়, ২০১৮ সালে মেয়াদ বাড়ানো অনেক ক্লোজড-এন্ড ফান্ড এখনো স্থবির অবস্থায় রয়েছে। নতুন সংশোধনী চূড়ান্ত হলে এই আটকে থাকা বিনিয়োগকারীদের জন্য মুক্তির পথ খুলে যাবে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, যদি ছয় মাসের গড় লেনদেন মূল্য গড় এনএভি (ন্যায্য বা ক্রয়মূল্যের মধ্যে যেটি বেশি) থেকে ২৫ শতাংশের বেশি নিচে থাকে, তবে গেজেট প্রকাশের ছয় মাস পর ফান্ডটি রূপান্তরের আওতায় আসবে। এ সময় ট্রাস্টিকে বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) আহ্বান করে ইউনিটহোল্ডারদের ভোটের মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

🔹 বিএসইসি’র কড়া বার্তা: অচল ফান্ডের দিন শেষ
বিএসইসি মুখপাত্র মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন,“বেশিরভাগ ক্লোজড-এন্ড ফান্ডের বাজারদর এনএভি থেকে অনেক নিচে। এটি স্পষ্ট করে যে তাদের পারফরম্যান্স আশানুরূপ নয়। অ-পারফর্মিং ফান্ডগুলোকে ওপেন-এন্ড ফান্ডে রূপান্তর করলে বিনিয়োগকারীরা যেকোনো সময় তাদের অর্থ তুলে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।”

🔹 ফান্ড ব্যবস্থাপনায় নতুন শর্ত
সংশোধনী কার্যকর হলে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিগুলো (এএমসি) সরাসরি ফান্ডের সম্পদ পরিচালনা করতে পারবে না। এর পরিবর্তে কাস্টোডিয়ানরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, যাদের ন্যূনতম ২ বিলিয়ন টাকা পরিশোধিত মূলধন থাকতে হবে।

একই সঙ্গে কাস্টোডিয়ান ফি ০.১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ০.৫০ শতাংশ পর্যন্ত করার প্রস্তাবও রয়েছে।

🔹 বিনিয়োগ নিরাপত্তায় নতুন নির্দেশনা
নতুন নীতিমালা অনুসারে, ফান্ডগুলোকে বিনিয়োগকারীর অর্থ শুধু তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার ও সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগের অনুমতি দেওয়া হবে। এতে কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণিতে ঊর্ধ্বসীমা থাকবে না, অর্থাৎ ঝুঁকিপূর্ণ খাতে অতি বিনিয়োগের সুযোগ বন্ধ হবে।

🔹 বিএসইসি’র অবস্থান: কঠোরতা ছাড়া উপায় নেই
বিএসইসি’র এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন,“কিছু ফান্ড ম্যানেজার বিনিয়োগকারীদের অর্থকে নিজেদের উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি মনে করেন। এই অনিয়ম ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া এখন আর কোনো বিকল্প নেই।”

🔹 ৩৭টি ফান্ড এখন বাজারে
বর্তমানে শেয়ারবাজারে ৩৭টি ক্লোজড-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ড তালিকাভুক্ত রয়েছে। এর অধিকাংশই তাদের অভিহিত মূল্যের চেয়ে অনেক নিচে লেনদেন হচ্ছে। বিএসইসি আশা করছে, নতুন সংশোধনী কার্যকর হলে ফান্ডগুলো ধীরে ধীরে লিকুইডেশন বা রূপান্তর প্রক্রিয়ার আওতায় আসবে। এতে বিনিয়োগকারীরা অন্তত তাদের মূলধনের একটি অংশ পুনরুদ্ধার করতে পারবেন এবং বাজারে ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হবে।

 

Facebook Comments Box

Posted ৯:১৬ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫

sharebazar24 |

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০৩১
মো. সিরাজুল ইসলাম সম্পাদক
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

৬০/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

হেল্প লাইনঃ 01742-768172

E-mail: sharebazar024@gmail.com