নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ২১ আগস্ট ২০২৫ | 198 বার পঠিত | প্রিন্ট
দেশের ব্যাংক খাতের আর্থিক ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ ব্যাংক খাতে দুর্দশাগ্রস্ত বা ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ২ লাখ ৮১ হাজার কোটি টাকা বেশি। এক বছরে এ বৃদ্ধি ৪৪.২১ শতাংশ, যা বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঋণ-সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এই তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সদ্য প্রকাশিত ‘ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট ২০২৪’ থেকে জানা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে দুর্দশাগ্রস্ত ঋণের পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা, আর এক বছরের ব্যবধানে তা প্রায় অর্ধেক বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে সাত লাখ কোটিতে।
আইএমএফের সংজ্ঞায় দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ
প্রতিবেদন অনুসারে, আইএমএফের সংজ্ঞায় খেলাপি ঋণ, পুনঃতফসিলকৃত ঋণ এবং রাইট-অফ করা ঋণ—এই তিন ধরনের ঋণকে দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ বলা হয়।
এর মধ্যে:
✅ খেলাপি ঋণ: ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকা
✅ পুনঃতফসিলকৃত ঋণ: ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৬৬১ কোটি টাকা
✅ রাইট-অফ ঋণ: ৬২ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা
মূলধন সংকটে ব্যাংক খাত
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে ব্যাংক খাত মূলধন পর্যাপ্ততার ক্ষেত্রে ভয়াবহ চাপের মুখে পড়ে। ক্যাপিটাল টু রিস্ক-ওয়েইটেড অ্যাসেট রেসিও (সিআরএআর) নেমে এসেছে মাত্র ৩.০৮ শতাংশে, যেখানে মানদণ্ড অনুযায়ী কমপক্ষে ১০ শতাংশ থাকা বাধ্যতামূলক।
সবচেয়ে খারাপ অবস্থা রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিশেষায়িত ব্যাংক এবং বেশকিছু ইসলামি ব্যাংকের।
মূলধন অনুপাত এবং লিভারেজ অনুপাত যথাক্রমে ০.৩০ শতাংশে নেমে গেছে, যা স্পষ্টভাবে ব্যাংক খাতের কাঠামোগত দুর্বলতা এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ঘাটতি নির্দেশ করে।
তারল্য পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলেও সুশাসনই বড় চ্যালেঞ্জ
যদিও তারল্য পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে, যেখানে অ্যাডভান্স-ডিপোজিট রেশিও (এডিআর) ৮১.৫৫ শতাংশে রয়েছে, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত সীমার মধ্যে। তবে প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়েছে, খেলাপি ঋণ, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট এবং সুশাসনের অভাব ব্যাংক খাতের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, সময়োপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন, কঠোর তদারকি এবং প্রযুক্তিনির্ভর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এ খাতকে স্থিতিশীল করা সম্ভব।
আর্থিক বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্নীতি ও তদবিরের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বিতরণকৃত ঋণ এখন ব্যাংক খাতের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগে এসব তথ্য গোপন থাকলেও আইএমএফের চাপের কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক এখন নিয়মিতভাবে এই তথ্য প্রকাশ করছে।
Posted ৬:২৮ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২১ আগস্ট ২০২৫
sharebazar24 | sbazaradmin
.
.