নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ২১ আগস্ট ২০২৫ | 250 বার পঠিত | প্রিন্ট
দেশের রপ্তানি খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সরকারি সংস্থা রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এখন নিজেই আর্থিক চাপে পড়েছে। কারণ, তারা রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে অনিয়মে জর্জরিত ব্যাংকগুলোতে আমানত রেখেছিল, যা এখন ফেরত পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
সূত্রে জানা গেছে, ইপিবির মোট ১৭৯ কোটি ৭২ লাখ ২২ হাজার ৯৬১ টাকা আটকে আছে নয়টি বেসরকারি ব্যাংক এবং একটি সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে। একাধিকবার চিঠি ও টেলিফোনে তাগাদা দেওয়ার পরও টাকা উদ্ধার করা যাচ্ছে না।
আটকে থাকা ব্যাংকগুলো হলো— ইউনিয়ন ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক এবং সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)।
২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ইপিবি তিনটি তহবিলে ৫৯টি এককালীন স্থায়ী আমানত (এফডিআর) করেছে এই ১০ প্রতিষ্ঠানে। তহবিলগুলো হলো— রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো প্রশাসনিক তহবিল, রপ্তানি বাজার উন্নয়ন তহবিল এবং ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার তহবিল।
কোন ব্যাংকে কত টাকা আটকে?
✅ ইউনিয়ন ব্যাংক: ১৭টি এফডিআরের মাধ্যমে ৪৬ কোটি ৯৮ লাখ ৩১ হাজার ৪৯৬ টাকা (৭ শাখা)।
✅ ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক: ১৩টি এফডিআরে ৩৯ কোটি ৩২ লাখ টাকা (৫ শাখা)।
✅ আইসিবি: ৩টি এফডিআরে ৩১ কোটি টাকা।
✅ বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক: ৪টি এফডিআরে ১৭ কোটি ৪১ লাখ ১৪ হাজার ১৪৬ টাকা।
✅ ন্যাশনাল ব্যাংক: ৭টি এফডিআরে ১৭ কোটি টাকা।
✅ গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক: ৩টি এফডিআরে ৯ কোটি টাকা।
✅ সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক: ৪টি এফডিআরে ৭ কোটি টাকা।
✅ আইসিবি ইসলামী ব্যাংক: ৫টি এফডিআরে ৬ কোটি টাকা।
✅ এক্সিম ব্যাংক: ২টি এফডিআরে ৪ কোটি টাকা।
✅ পদ্মা ব্যাংক: ১টি এফডিআরে ২ কোটি টাকা।
আইনগত পদক্ষেপের ইঙ্গিত
পরিচালনা পর্ষদের ১৪৮তম সভায় ইপিবি জানিয়েছে, বারবার তাগাদা সত্ত্বেও ব্যাংকগুলো টাকা দিচ্ছে না। ইউনিয়ন ব্যাংক ছয়টি পে-অর্ডারের মাধ্যমে ১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
অন্যান্য ব্যাংকও নগদায়নে অক্ষম। বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে উদ্ধার প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ব্যাংকগুলোর অবস্থান
ইউনিয়ন ব্যাংকের এমডি হুমায়ুন কবির বলেন: “শুধু ইপিবি নয়, অনেক প্রতিষ্ঠানের এফডিআর ফেরত দিতে পারছি না। ব্যাংক একীভূতকরণের কারণে নতুন আমানত পাচ্ছি না। পুরোনো ঋণের পুনরুদ্ধার হচ্ছে না, অনিয়মের কারণে আমরা বিপদে।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিক বলেন: “কোনো আমানতকারীর টাকা হারাবে না। কয়েকটি ব্যাংক একীভূত হচ্ছে। প্রক্রিয়া শেষে সবাই টাকা ফেরত পাবে। পদ্মা ব্যাংকের জন্য রোডম্যাপ তৈরি হয়েছে।”
সমস্যার মূল কারণ
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এস আলম গ্রুপ এবং ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রিত ব্যাংকগুলোতে এফডিআর করা হয়। অথচ বাংলাদেশ ব্যাংক তখন থেকেই এসব ব্যাংককে দুর্বল রেটিং দিয়েছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন: “দুর্বল ব্যাংকে সরকারি তহবিল রাখা শুধু অব্যবস্থাপনা নয়, এর পেছনে স্বার্থসংশ্লিষ্টতার গন্ধ আছে।”
গবেষণা সংস্থা চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের রিসার্চ ফেলো এম. হেলাল আহমেদ জনি বলেন:
“ইপিবির টাকা যদি আটকে যায়, সাধারণ আমানতকারীর নিরাপত্তা কোথায়? ব্যাংক খাত সংস্কার ছাড়া অর্থনীতির স্থিতিশীলতা সম্ভব নয়।”
তিনি আরও বলেন, “যেখানে লাভের আশায় বিনিয়োগ হয়েছিল, সেখানে মূলধনই আটকে গেছে। দুর্বল ব্যাংকে বিনিয়োগের আগে ঝুঁকি মূল্যায়ন করা উচিত ছিল।”
✅ SEO ট্যাগ:
✅ কীওয়ার্ড:
Posted ৬:১৬ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২১ আগস্ট ২০২৫
sharebazar24 | sbazaradmin
.
.